ভ্যাট জটিলতার সমাধান না হলে ইন্টারনেট বন্ধ রাখবে আইএসপিএবি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২০     আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২০   

বিশেষ প্রতিনিধি

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগেুলোকে দিতে হচ্ছে ৩৫ শতাংশ ভ্যাট। এই অস্বাভাবিক ভ্যাট কভিড-১৯ মহামারীতে অতি জরুরী জনসেবার মাধ্যমে পরিণত হওয়া ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটকে দুর্মূল্যে পরিণত করছে। গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করলেও ভ্যালু চেইনের অন্য দু’টি খাতে (আইটিসি/আইআইজি, এনটিটিএন) ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। আর এই ৩৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে দ্বৈত নীতির জটিলতার কারণে। 

এর আগে সাবেক অর্থমন্ত্রীর সময়ে এই জটিলতার সমাধান করা হয়েছিল। কিন্ত কিছু দিন আগে পাস হওয়া ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে আবারও সেই জটিলতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে অনেক দেনদরবার করেও বাজেট পাসের আগে এ জটিলতার নিরসন করা সম্ভব হয়নি। আর এ কারণেই ক্ষুব্ধ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ‘আইএসপিএবি’। আগামী ৩১ জুলাই এর মধ্যে এ জটিলতা নিরসন করা না হলে সারা দেশে কিছু সময়ের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে সংগঠনটি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছে। 

শনিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন আইএসপিএবি’র নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইএসপিএবি’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম হাকিম। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক।    

আইএসপিএবি সভাপতি জানান, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ইন্টারনেটে ৫% ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্য দু’টি স্তরে ১৫% ভ্যাট নির্ধারিত হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা খাতে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরে এ সিদ্ধান্ত বদল করে অন্য দু’টি স্তরেও (আইটিসি/ আইআইজি, এনটিটিএন) ৫% ভ্যাট নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। কিন্তু এর কয়েক মাসের ব্যবধানে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে পুনরায় ইন্টারনেট সেবায় ৫% ভ্যাট এবং অন্যান্য স্তরে ১৫% ভ্যাট আরোপ করায় বিষয়টিতে আবারও আগের জটিলতা সৃষ্টি হয়। এটা এক দেশে দুই নীতি। এ কারণে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ৩৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে  ইন্টারনেটের মূল্য ৩০% থেকে ৪০% বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

তিনি জানান, এ বছর সংসদে বাজট পাসের আগেই আইএসপিএবি জটিলতা নিরসনের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নজরে আনে। বাজেট পাসের পরও বিষয়টি সমাধানের জন্য বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাদের অনুরোধ আমলে নেওয়া হয়নি। 

আমিনুল ইসলাম হাকিম বলেন, জুলাই মাসের মধ্যে জটিলতার নিরসন না হলে, দাবি না মানা হলে তারা প্রথমে সীমিত কর্মসূচি হিসেবে দিনের কোন একটি সময়ে সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখবেন। পরে প্রয়োজনর হলে এ কর্মসূচি ধাপে ধাপে অর্থাৎ প্রতিমাসে বা সপ্তাহে সপ্তাহে চলমান রাখা হবে। এরপরও সরকার দাবি না মানলে কি করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে ব্রডব্যান্ড ইন্টারেনটের মূল্য কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা ছাড়া উপায় থাকবে না। এটা হয়ত আরও বাড়তে পারে।  সারা দেশে একেক স্থানে এককভাবে মূল্য নেওয়া হয়, তাহলে কিভাবে মূল্য বাড়ানো হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাও দীর্ঘ দিন ধরে জিইয়ে রাখা একটা জটিলতা। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও বিটিআরসি ইন্টারনেট সেবার জন্য কোন মূল্য নির্ধারণ করেনি। এর ফলে একেক প্রতিষ্ঠান একেকভাবে মূল্য নির্ধারণ করছে। এ কারণে বর্তমানে যে প্রতিষ্ঠান যে হারে মূল্য নিচ্ছে তার উপরই বর্ধিত মূল্য প্রযোজ্য হবে। এ ব্যাপারে আরও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বৈঠক করে নিতে পারে আইএসপিএবি। তবে আইএসপিএবি একান্ত বাধ্য না হলে গ্রাহক বিল বাড়াতে চায় না। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারা দেশে ৮০ লাখের বেশি বাড়িতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে এবং প্রতি সযোগে গড়ে চারজন ব্যবহারকারী হিসেব করলে এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গ্রাহক। বর্তমানে করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতে শিক্ষা ও চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ইন্টারনেট কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ব্রডব্যান্ডের পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেটও ব্যবহার হচ্ছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বিল আদায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেলেও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে আসছেন।

আইএসপিএবি সভাপতি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি সেবার মেরুদণ্ড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট হলেও এ সেবাকে এখন পর্যন্ত আইটিইএস (আইটি এনাবল সার্ভিস) ঘোষণা করা হয়নি। যৌক্তিক কারণেই আইএলডিসি, আইআইজি এবং আইএসপিকে আইটিএস ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভূক্ত করা উচিত। তাহলে ইন্টারনেট সেবাদাতারা কর রেয়াত পেতেন এবং ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণে বেশি বিনিয়োগ করতে পারতেন। একই সঙ্গে বিটিআরসি অন্যান্য দেশের মত ইন্টারনেট সেবায় ‘অ্যাকটিভ শেয়ারিং নীতি’ চালু করলে ইন্টারনেট সেবার ব্যয় গ্রাহক পর্যায়ে অনেকখানি কমে আসবে। কিন্তু সহায়ক নীতির অভাব এবং ভ্যাট নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ব্রডব্যান্ড সেবাকে সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করছে।