এক গুচ্ছ নতুন পণ্য উন্মোচন করেছে স্মার্ট প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। সম্প্রতি আয়োজিত অ্যাপলের বার্ষিক সম্মেলন 'ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ডেভেলপার কনফারেন্স-ডব্লিউডব্লিউডিসি' সম্মেলনে নতুন পণ্য উন্মোচনের ঘোষণা দেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী টিম কুক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপলের সদরদপ্তর 'অ্যাপল পার্ক'-এ আয়োজিত পাঁচ দিনের এ সম্মেলনে ডেভেলপার, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যম কর্মীরা সরাসরি অংশ নেন। সম্মেলনে নতুন ডিজাইনের ম্যাকবুক এয়ার, নতুন প্রজন্মের এম ২ চিপ, নতুন ফিচার সমৃদ্ধ আইওএস ১৬, আইপ্যাড ওএস ১৬, ম্যাকওএস ভেঞ্চুরা, ওয়াচ ওএস ৯ নামে নতুন পণ্য ও সেবা উন্মোচনের ঘোষণা দেয় অ্যাপল। বিগত দুই বছর করোনার প্রাদুর্ভাবে সম্পূর্ণ অনলাইনে এ সম্মেলনটি আয়োজিত হলেও এবার সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন ডেভেলপাররা। পাশাপাশি পুরো আয়োজনটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করে অ্যাপল।

অপারেটিং সিস্টেম
বিদ্যমান অপারেটিং সিস্টেমগুলোর সঙ্গে নানা সুবিধা যুক্ত করে ঘোষণা করা হলো আইওএস ১৬, আইপ্যাডওএস ১৬, ওয়াচওএস৯ ও ম্যাকওএস ভেঞ্চুরা। নতুন ফিচারের অভাব পূরণ করে আইওএসের জন্য লক স্ট্ক্রিন, আর ওয়াচওএসের জন্য ওয়াচফেসের মতো দারুণ ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। আইওএস ১৬-তে যুক্ত করা হয়েছে অনেক শেয়ারিং ফিচার। পরিবারের সবাই একত্রে দেখতে পায় এমন ইমেজ লাইব্রেরি তৈরি করা যাবে এর মাধ্যমে। এ ছাড়া সেটিংসেও এসেছে কিছু পরিবর্তন। তবে আইপ্যাডওএস ১৬-এর নতুন ফিচারের সুবিধা তেমন নেই বললেই চলে। তবে এম১ চিপসযুক্ত আইপ্যাডে বাড়তি মনিটরে আলাদাভাবে অ্যাপ চালানোর সুবিধা পাওয়া যাবে। আগের ডিসপ্লে মিরর করার সুবিধার পাশাপাশি স্লিপ অ্যানালিসিস, ওষুধ সম্পর্কিত তথ্যসহ ওয়াচওএস ৯-তে ব্যবহারকারীর জন্য থাকছে বেশ কিছু নতুন স্বাস্থ্য ফিচার। নতুন মেটাল ৩ এপিআইসহ ম্যাকওএস ভেঞ্চুরায় থাকছে আইফোনকে ওয়েবক্যাম হিসেবে ব্যবহার করার সুবিধা। প্লেস্টেশনের মতো সরাসরি এসএসডি থেকে জিপিইউতে টেক্সচার লোড এবং এনভিডিয়ার ডিএলএসএসের মতো ফ্রেমরেট বাড়ানো ফিচারসহ গেমিংয়ে দারুণ সুবিধা পাওয়া যাবে ম্যাকে। এটির নতুন ফিচারের শক্তির প্রমাণে কর্তৃপক্ষ নো-ম্যান্স স্কাই ও রেসিডেন্ট ইভিল ৮-এর ম্যাক সংস্করণ প্রদর্শন করেছে। এম১ সংবলিত আইপ্যাড ব্যবহারকারীরাও এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন না। নো-ম্যান্স স্কাইয়ের আইপ্যাড সংস্করণের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে।

এম২ প্রসেসর
সাড়া জাগানো অ্যাপল এম সিরিজের নতুন প্রসেসর অ্যাপল এম২। ম্যাকবুক এয়ার আর ১৩ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রোতে মিলবে এটি। এম১-এর তুলনায় ১৮ শতাংশ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম এই প্রসেসর- এমনটাই দাবি অ্যাপল কর্তৃপক্ষের। তবে আগের চেয়ে ২৫ শতাংশ শক্তিশালী গ্রাফিক্স পারফরম্যান্স দিয়ে এটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। চিপের নিউরাল প্রসেসর আগের চেয়ে ৩৫ শতাংশ দ্রুততার সঙ্গে কাজ করবে। তবে এবারও সিস্টেম অন আ চিপে থাকছে শক্তিশালী ও ব্যাটারিসাশ্রয়ী ৮ কোরের সিপিউ। সেই সঙ্গে ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ৮ থেকে ১০টি কোরের জিপিইউ। টিএসএমসির ৫ ন্যানোমিটার প্লাস প্রযুক্তির ও এসওসিটি, এলপিডিডিআর৫ প্রযুক্তির ৮ থেকে ২৪ জিবি পর্যন্ত মেমোরি এম২ প্রসেসরটি আগের সংস্করণ থেকে কম শক্তি অপচয় করবে।

ম্যাকবুক এয়ার
বিদ্যমান ম্যাকবুক এয়ারের ওয়েজ আকারটি নতুন নকশায় পরিবর্তন করা হয়েছে। আগের চেয়ে আরও বড় চতুস্কোণ আকার দিয়ে এটি ১৪ প্রোর অবয়ব দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। নতুন রঙের সংযোজন, এম২ প্রসেসর, ৮ কোর সিপিইউ, ১০ কোর জিপিইউ, ২৪ জিবি মেমোরি এবং ২ টেরাবাইট স্টোরেজসহ ১৮ ঘণ্টা ব্যাটারি লাইফ পাওয়া যাবে এতে। মাত্র ৩০ মিনিটে ৮০ শতাংশ চার্জ হবে। ক্যামেরার রেজুলেশনেও বিশাল উল্লম্ম্ফন করা হয়েছে। ৭২০ থেকে ১০৮০পিতে বর্ধিত করা হয়েছে ম্যাকবুক এয়ারে। রেজুলেশন, ব্রাইটনেস বাড়ানোর পাশাপাশি ৬ ইঞ্চি বাড়িয়ে ডিভাইসটির ডিসপ্লের আকার দেওয়া হয়েছে ১৩.৬ ইঞ্চি। পোর্ট ও কিবোর্ডে তেমন পরিবর্তন না আনলেও এতে যুক্ত হয়েছে ম্যাগসেফ ৩ চার্জিং প্রযুক্তি। ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে দাম শুরু।

আপডেট থেকে বাদ পড়া পণ্য
ডব্লিউডব্লিউডিসির মাধ্যমে প্রতি আয়োজনে পুরোনো কিছু ডিভাইসকে আপডেটের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই তালিকায় এবার রয়েছে- আইফোন ৬এস, ৭, ৭ প্লাস এবং প্রথম আইফোন এসই, দ্বিতীয় প্রজন্মের আইপ্যাড এয়ার, চতুর্থ প্রজন্মের আইপ্যাড ও আইপ্যাড মিনি, তৃতীয় প্রজন্মের অ্যাপল ওয়াচ, ম্যাক ২০১৫-১৬ এবং ম্যাকবুক এয়ারের ২০১৭ পর্যন্ত সব ম্যাক আপডেট থেকে হবে বঞ্চিত।