ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগে ভিডিও কলিং এখন দারুণ জনপ্রিয়। ব্যক্তিগত যোগাযোগ তো আছেই, পাশাপাশি ভার্চুয়াল আড্ডা, মিটিং, কনফারেন্স, সেমিনারসহ নানা আয়োজনে ভিডিও কলিং সেবার জুড়ি মেলা ভার। অর্থ খরচের পাশাপাশি বিনামূল্যে পাওয়া যায় ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ। এসব অ্যাপের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়টির নাম জুম। তবে ভিডিও আলাপনে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসটাইমের মতো বেশকিছু অ্যাপ রয়েছে। কিন্তু এসব অ্যাপের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ ধরনের অ্যাপে অংশগ্রহণকারীদের একটি নির্দিষ্ট সামাজিক নেটওয়ার্কের (ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ) সদস্য হতে হবে। তবে একই প্ল্যাটফর্মের সদস্য না হয়েও অনেক অ্যাপ রয়েছে, যেগুলোতে বিনামূল্যে কথোপকথন করা যায়। এসব অ্যাপের তালিকায় জুমের পাশাপাশি শীর্ষে রয়েছে স্কাইপ মিট নাও, সিসকো ওয়েবেক্স, গুগল মিট, মাইক্রোসফট টিম, টেলিগ্রাম, গুগল ডুও, সিগন্যাল প্রভৃতি। এসব অ্যাপে বিনামূল্যের পাশাপাশি অর্থ খরচ করে বাড়তি ফিচার ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

জুম
ক্লাউডভিত্তিক ভিডিও যোগাযোগ অ্যাপ জুম। যার মাধ্যমে ভার্চুয়াল ভিডিও ও অডিও কনফারেন্স, ওয়েবিনার, লাইভ চ্যাট, স্ট্ক্রিন-শেয়ারিং, ইত্যাদি ফিচার ব্যবহার করা যায়। অনলাইন অডিও ও ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার হিসেবে জুম অ্যাপের জুড়ি নেই। কভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে মহামারির সময়ে অনলাইন মিটিং হয়ে যায় অফিসিয়াল সব কাজের জন্য সাক্ষাতের নতুন স্থান। বিজনেস মিটিং থেকে শুরু করে স্কুলের ক্লাস পর্যন্ত সবকিছুই করোনা মহামারির মধ্যেই সম্ভব হয়েছে জুম অ্যাপের কারণে। জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে জুম অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হয় না। এ ছাডা জুম অ্যাপ, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ, লিনাক্স, ম্যাকসহ প্রায় সব জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা যায়। মানে হলো, যে কেউ যে কোনো ডিভাইস থেকে চলমান জুম মিটিংয়ে যুক্ত হতে পারে।

বিনামূল্যের সংস্করণে
- সর্বোচ্চ অংশগ্রহণকারী : ১০০ (ফ্রি সংস্করণে)
- সময়সীমা :৪০ মিনিট
- এইচডি ভিডিও চ্যাট এবং কনফারেন্স
- অডিও কনফারেন্সিং (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট ব্যবহার করে)
- ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং
- ভিডিও কলের জন্য ভার্চুয়াল ব্যাকগ্রাউন্ড
- স্ক্রিন শেয়ারিং
- মিটিং রেকর্ড
- ভিডিও ওয়েবিনার হোস্টিং

স্কাইপ মিট নাও
২০০৩ সালে স্কাইপের মিট নাও অ্যাপটির বেটা সংস্করণ প্রকাশিত হয়। শুরুতে এটি দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তবে মিট নাও-এর আত্মপ্রকাশের পর কথোপকথনের জন্য নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম আবির্ভূত হতে থাকে। 'মিট নাও' অ্যাপে ১০০ জন পর্যন্ত মিটিংয়ের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার সঙ্গে ভিডিও কল করতে পারেন।

বিনামূল্যে থাকছে
- সর্বাধিক অংশগ্রহণকারী : ১০০ জন
- একক মিটিং সময়সীমা : ২৪ ঘণ্টা
- গ্রুপ মিটিং সময়সীমা :২৪ ঘণ্টা
- স্ক্রিন শেয়ারিং : হ্যাঁ
- রেকর্ড মিটিং :হ্যাঁ

সিসকো ওয়েবেক্স
ওয়েবেক্স, একটি ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপসহ একটি করপোরেট অ্যাপ যেটি নব্বইয়ের দশকে উন্মোচিত হয়। অ্যাপটির একটি দরকারি বিনামূল্যের সংস্করণ রয়েছে। ২০০৭ সালে সিসকো অ্যাপটি অধিগ্রহণ করে। যদিও এটি মূলত ব্যবসায়িক অ্যাপ্লিকেশন হিসেবেই জনপ্রিয়।

বিনামূল্যে থাকছে
- সর্বাধিক অংশগ্রহণকারী : ১০০ জন
- একক মিটিং :৫০ মিনিট সময়সীমা
- গ্রুপ মিটিং :৫০ মিনিট সময়সীমা
- স্ক্রিন শেয়ারিং : হ্যাঁ
- রেকর্ড মিটিং :না

গুগল মিট
গুগল মিট একটি ভিডিও কলিং সেবা যেটি ব্যবহার করার জন্য গুগল অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন। এটি সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করার সহজ এবং কার্যকর মাধ্যম। তবে এটির সুবিধা পেতে অবশ্যই আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। জুমের পরিবর্তে জিমেইল অ্যাপে এবং গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে প্রতিটি প্রয়োজনে গুগল মিট লিঙ্ক খুঁজে নিতে পারেন।

বিনামূল্যের সংস্করণে
- সর্বাধিক অংশগ্রহণকারী : ১০০
- একক মিটিং :২৪ ঘণ্টা সময়সীমা
- গ্রুপ মিটিং :৬০ মিনিট সময়সীমা
- স্ক্রিন শেয়ারিং :হ্যাঁ
- রেকর্ড মিটিং :না

মাইক্রোসফট টিম
স্ল্যাকের প্রতিযোগী হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল মাইক্রোসফট টিমস। অফিসিয়াল ভিডিও মিটিংয়ের জন্য এটি দারুণ একটি অ্যাপ। বাণিজ্যিক ব্যবহারের পাশাপাশি অ্যাপটির বিনামূল্যেও সংস্করণও রয়েছে। এটি ব্যবহার করার জন্য শুধু মাইক্রোসফটের সঙ্গে একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। বিনামূল্যের সংস্করণটি আপনাকে প্রতি মিটিংয়ে সর্বাধিক ৬০ মিনিটের জন্য ১০০ জন অংশগ্রহণকারীকে থাকতে দেয়, মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর গ্রাহকরা ৩০০ জন পর্যন্ত একটানা ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও চ্যাট করতে পারেন।

বিনামূল্যের সংস্করণে
- সর্বাধিক অংশগ্রহণকারী :১০০
- একক মিটিং :৬০ মিনিট সীমা
- গ্রুপ মিটিং :৬০ মিনিট সীমা
- স্ক্রিন শেয়ারিং : হ্যাঁ
- রেকর্ড মিটিং :না

গুগল ডুও
গুগল মিট ছাডাও গুগলের মোবাইল অ্যাপ ডুও-ও রয়েছে, যেটি একটি ভোক্তা অ্যাপ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল (যেখানে মিট মূলত একটি ব্যবসায়িক অ্যাপ হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছিল)। যদিও ডুওকে প্রথমে একেক কথোপকথনে ব্যবহার করার জন্য অ্যাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং এটি শুধু ফোনে ব্যবহার করা যেতে পারে, এটি এখন ৩২ জন পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীদের গ্রুপ তৈরি করতে দেয়। সেবাটি ব্যবহারে অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই গুগল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
বিনামূল্যের সংস্করণে
- সর্বাধিক অংশগ্রহণকারী : ৩২
- একক মিটিং :কোন সময়সীমা নেই
- গ্রুপ মিটিং :কোনো সময়সীমা নেই
- স্ক্রিন শেয়ারিং : শুধু মোবাইল
- রেকর্ড মিটিং :নেই

টেলিগ্রাম
টেলিগ্রাম একটি মেসেজিং চ্যাট অ্যাপ যা ভিডিও গ্রুপ চ্যাটিংয়েরও সুবিধা দেয়। এটির জন্য এটি ভালোভাবে সেট আপ করা হয়েছে। অ্যাপটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি ব্যবহারকারীকে ২ লাখ সদস্য পর্যন্ত গ্রুপ তৈরি করতে দেয়। আপাতত, ভিডিও চ্যাট ৩০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ (যদিও এক হাজার জন পর্যন্ত দেখতে পারে)।
বিনামূল্যের সংস্করণে
- সর্বাধিক অংশগ্রহণকারী : ৩০।
- একক মিটিং :কোনো সময়সীমা নেই।
- গ্রুপ মিটিং :কোনো সময়সীমা নেই।
- স্ক্রিন শেয়ারিং : হ্যাঁ।
- রেকর্ড মিটিং :নেই।

সিগন্যাল
সিগন্যাল অ্যাপের বিশেষত্ব হচ্ছে এটি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় জোর দেয়। শুরুতে এটি শুধু সর্বোচ্চ পাঁচ অংশগ্রহণকারীকে তার ভিডিও কলে অনুমতি দিত; এখন ৪০ জন একসঙ্গে এতে অংশ নিতে পারে। এটি ডেস্কটপভিত্তিক অ্যাপ যা মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে লিঙ্ক করতে হবে। আপনি ইতোমধ্যেই সিগন্যাল মেসেজিং ব্যবহার করলে একে মিটিং অ্যাপ হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন।
বিনামূল্যের সংস্করণে
- সর্বাধিক অংশগ্রহণকারী : ৪০।
- একক মিটিং :সময়সীমা নেই।
- গ্রুপ মিটিং :সময়সীমা নেই।
- স্ক্রিন শেয়ারিং :হ্যাঁ।
- রেকর্ড মিটিং : নেই।