মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালি ইউনিটের নেতারা।

রোববার বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দাশের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, সহসভাপতি সবিতা গোয়ালা, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র বারাইক, সাংগঠনিক সম্পাদক কর্ণ তাঁতী, খেজুরিছড়া চা–বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মহেশ্বর দাস, উপদেষ্টা সুমন কুমার তাঁতী প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে চা শ্রমিকদের বাঁচার জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, সন্তানদের লেখাপড়া ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় চায়ের মূল্য কম এই অজুহাতে মালিকরা চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্জিত করছেন। এমন অবস্থায় ১৪ টাকা বৃদ্ধি করে প্রস্তাবিত মজুরি নির্ধারণ চা শ্রমিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অবস্থা বিবেচনা করে দাবি মোতাবেক চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করার দাবি জানান তারা।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে আমরা গত ৫ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আজ বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ৭টি ভ্যালি থেকে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি। আমাদের এমন কঠিন সময় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে একটি ভালো সমাধান দিবেন বলে আশা করি।

দাবি আদায় না হওয়া পযর্ন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে উল্লেখ করে বিজয় হাজরা বলেন, রোববার চা বাগানে সাপ্তাহিক ছুটি উপলক্ষে আমরা সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল বন্ধ রেখেছি। আগামীকাল জাতির পিতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সব চা বাগানে শোক দিবস পালন করব। এই দুই দিন আমরা চা বাগানে সব কাজ বন্ধ রেখেছি। মঙ্গলবার দেশের সব চা বাগানে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। এছাড়া বুধবার চা বাগানের শ্রমিকেরা সকাল থেকে প্রতিটি শহরে অবস্থান নেবেন।