আবারও কাদিয়ানী বা আহমদিয়া মুসলিম জামাতের অনুসারীদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিলেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। কাদিয়ানিরা মুসলিম নয় বলে আবরো ঘোষণা করলেন। কোনো কাদিয়ানির লাশ দাফন করা হলে তা তুলে নদীতে ভাসিয়ে দিতে বললেণ নিজের অনুসারীদের।

শনিবার রাতে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের জামেয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া ধনকান্দি মাদ্রাসার ২২তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমদ শফী বলেন, কাদিয়ানীরা এদেশে থাকতে পারবে; তবে মুসলমান হিসেবে নয়, অমুসলিম হিসেবে। কাদিয়ানীদেরকে কোনও মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না। যদি দাফন করা হয়, তাহলে কবর থেকে তুলে নদীতে ভাসিয়ে দিতে হবে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার প্রধানকে আপনারা বলুন কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে। যদি অমুসলিম ঘোষণা করেন, আমরা কোনও আন্দোলনে যাব না।

সাতটি বিভাগে সমাবেশের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি নিজে দেখা করবেন বলে জানান আহমদ শফী।

মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা শিরক বেদআত থেকে দূরে থাকবেন। কারণ বেদআত করলে তওবা নসীব হয় না। হিংসা করবেন না। সুদ-ঘুষ খাবেন না। চুরি ডাকাতি করবেন না। জিনা ব্যভিচার করবেন না। মসজিদ-মাদ্রাসা ও আলেম সমাজকে মুহাব্বত করবেন; তাদের পরামর্শে জীবন পরিচালনা করবেন।

মাহফিলে বিভিন্ন অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা শায়খ মোহাম্মদ বিন ইদ্রিস লক্ষীপুরী, মুফতি মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি, জামেয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া ধনকান্দি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মোস্তাক আহমদ খান ও মাওলানা নেজাম উদ্দিন।

এতে অন্যান্যর মধ্যে বয়ান পেশ করেন দারুল উলুম দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস আলতামা হাবিবুর রহমান আজমী, আলতামা সৈয়দ আফফান মনসুরপুরী (ভারত), শায়খুল হাদীস মুফতি মুজিবুর রহমান, মাওলানা আব্দুল খালিক বাহুবলী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম জালালাবাদী, মাওলানা তজম্মুল আমিন প্রমুখ। এছাড়া সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মাহফিলে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।