এশিয়া কাপের অনুশীলন দেখতে গতকাল ছুটির দিনে হঠাৎ করেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হাজির হন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। টি২০ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ছোটখাটো একটা মিটিংও করেছেন তিনি। বোর্ড সভাপতি জানান, এশিয়া কাপে ভালো খেলার আশ্বাস পেয়েছেন তিনি। এশিয়া কাপ দিয়ে বিশ্বকাপের দল প্রস্তুত করতে সাকিবের হাতেই সব ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছেন পাপন। চাইছেন টি২০ দলের খোলনলচে পাল্টে ফেলতে।

সাকিবের আত্মবিশ্বাসে খুশি

আজ সাকিবের কাছে জানতে চাচ্ছিলাম, ওর কী মনে হচ্ছে? কী হতে পারে এশিয়া কাপে? একটা জিনিস দেখলাম, সাকিব আত্মবিশ্বাসী। সাকিব সব সময়ই আত্মবিশ্বাসী। জিততে পারব এই বিশ্বাসটা থাকা জরুরি। খেলার জন্য খেলতে গেলাম, তা না। হারা- জেতা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু জিততে পারব এই বিশ্বাসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমি দেখতে পেয়ে খুবই খুশি। ওখানে কী কী হতে পারে না হতে পারে সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে।

এবার ভালো খেলার চেষ্টা করবে 

১৮০ -১৯০ করতে হবে টি২০-তে আমাদের মাইন্ড সেট একটু পরিবর্তন করতে হবে। আমরা যদি জিততে চাই, ভালো করতে চাই পাওয়ার হিটিংয়ের বিকল্প নেই। ১৩০-১৪০ করে হয়তো একটা ম্যাচ জিতে যাব একদিন, কিন্তু এটা হতে পারে না। আমাদের ১৮০-১৯০ বা ২০০ করতে হবে। যে মাইন্ড সেট এখন আছে তাতে ওটা করার মতো কোনো লক্ষণ আমরা দেখছি না। খেলার মধ্যেও ওটা দেখতে পাই না। জেমি এসে বললেন তিনি এটাতে বিশেষজ্ঞ।

ইনজুরি পুনর্বাসন

যে পরিমাণ খেলা এখন টানা। বিরতিহীন খেলা। আপনারা এফটিপি তো দেখেছেন, এখানে তো নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। সেই জায়গায় যে ছেলেগুলোর উন্নতি করার দরকার আছে সেই উন্নতি করবে কে। এত ইনজুরি হচ্ছে কেন? এখন যেটা হচ্ছে একজন ইনজুরড হলেই দেড় দুই মাস, তিন মাস ধরে একদম বাইরে। দেড় দুই তিন মাস বাইরে থাকলে তো এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।

বিশ্বকাপের মহড়া এশিয়া কাপে

আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আমরা টি২০-তে ভালো দল নই। কে প্রতিপক্ষ সেটা বড় কথা নয়। আমাদের দলটা আসলে অত শক্তিশালী না। আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সম্পূর্ণ চিন্তাধারা পরিবর্তন করে ফেলতে চাচ্ছি এশিয়া কাপ থেকেই। আমরা দেখতে চাচ্ছি, নতুন করে শুরু করা যায় কিনা। আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যেটা হচ্ছে, টি২০ দলে নিশ্চিত যারা থাকত লিটন দাস, তামিম নেই। মিডল অর্ডারে সোহান নেই। এশিয়া কাপ কিন্তু হালকা না, বিশ্বকাপের পরেই এটি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মাথায় যদি থাকে আমরা উন্নতি করতে চাই, নতুন করে কিছু করতে চাই তাহলে কিছু হবে। এই চিন্তাটা যদি এশিয়া কাপ থেকে না করি, তাহলে বিশ্বকাপে আরও খারাপ অবস্থা হবে। সেজন্য আমরা আমূল পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। এজন্য আজ দেখতে এসেছিলাম কে কী করছে।

ক্রিকেটারদের ওয়ার্ক লোড

যে পরিমাণ খেলা, শুধু প্লেয়ার না কোচিং স্টাফের ওয়ার্ক লোড নিয়ে চিন্তা করছি। আমাদের এখন সর্বোচ্চ ম্যাচ। সাকিবের ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে টি২০ খেলেছে ১০০টি। সেখানে আফিফ দুই আড়াই বছরেই ৪৫টি টি২০ খেলে ফেলেছে। এখন যেই এফটিপি অবিশ্বাস্য। আমরা সৌভাগ্যবান। এখন আমাদের ১৫-২০ জনকে নিয়ে খেলার কথা ভুলে যেতে হবে। প্রতিটি ফরম্যাটে চারজন পাঁচজন করে খেলোয়াড় প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রথম দিকে হয়তো ভালো
করবে না, কিন্তু খেলাতে হবে।

পাইপলাইন

পাইপলাইনে নিঃসন্দেহে খেলোয়াড় আছে। গত বিশ্বকাপের পরেই যদি দেখেন, যেসব খেলোয়াড় ছিল তাদের ক'জন আছে এবার। পাইপলাইনে খেলোয়াড় আছে, কিন্তু তারা এসেই তামিম, সাকিব, মুশফিকের মতো পারফরম্যান্স করবে, তা না। অন্তত ছয়টা ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে নতুনদের।

বিকল্প টি২০ টুর্নামেন্ট

বিকল্প টি২০ টুর্নামেন্ট করার পরিকল্পনা তো আছেই। যে এফটিপি তাতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে বিকল্প টুর্নামেন্ট খেলা
সম্ভব হবে না। বাকি যারা থাকবে তাদের নিয়ে খেলতে হবে।

বাড়বে কোচিং স্টাফ

শুধু খেলোয়াড় থাকলেই হবে না, কোচিং স্টাফও লাগবে। জাতীয় দলের কোচরা তো বিদেশে দলের সঙ্গে ঘুরে। দেশে যারা থাকছে তাদের নিয়ে কাজ করবে কারা? ইনজুরিতে যারা পড়ছে তারা যাতে দ্রুত রিহ্যাব করে ফিরে আসতে পারে সেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।