বিসিবি কর্মকর্তাদের এখন ব্যস্ত সময়। ১৯ জুলাইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সামনে রেখে গঠনতন্ত্র সংশোধনে সময় দিতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ২০১৭ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ঘষামাজা করা হচ্ছে অনেক ধারা উপধারায়। আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গঠনে নতুন ধারাও সংযোজন করা হচ্ছে। বিসিবি পরিচালকরা মনে করেন, সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুমোদন পেলে কাজে আরও স্বচ্ছতা আসবে। পরিচালকদের কাজের পরিধি বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে নতুন দুটি স্ট্যান্ডিং কমিটির।

আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা

ক্রিকেটকে বিকেন্দ্রীকরণের দাবি অনেক পুরোনো। গত ২২ বছরেও সে কাজে হাত দেওয়া হয়নি। নাজমুল হাসান পাপন প্রথম মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরই আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। অবশেষে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়ে তুলতে গঠনতন্ত্রে একটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এজিএমে সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুমোদন পেলে ৮টি আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা করা হবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো জেলা ক্রিকেট সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

পর্যায়ক্রমে জেলায় ক্রিকেট প্রশাসন এবং অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে ক্রিকেট সংস্থাকে জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে পৃথক করা হবে বলে জানান বিসিবি পরিচালক মাহবুবুল আনাম। সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও ঢাকা বিভাগের সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিশ অব ক্রিকেট কমিটিকে (সিসিডিএম) আঞ্চলি ক্রিকেট সংস্থার মর্যাদা দেওয়া হবে। প্রতিটি বিভাগের জেলা ক্রিকেট সংস্থা থাকবে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার অধীনে।

স্ট্যান্ডিং কমিটি বেড়ে ২৩

বিসিবির স্ট্যান্ডিং কমিটি ছিল ২১টি। গঠনতন্ত্রে নতুন দুটি স্ট্যান্ডিং কমিটি সংযোজন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ টাইগারকে অফিসিয়ালি স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে স্ট্যান্ডিং কমিটির। গঠনতন্ত্রে বাংলাদেশ টাইগারকে ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ ও এইচপির সঙ্গে সমন্বয় করে খেলোয়াড় সরবরাহের চাহিদা পূরণ করতে হবে বাংলাদেশ টাইগারকে। এ ছাড়া ওয়েলফেয়ার কমিটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে গঠনতন্ত্রে স্বীকৃতির মাধ্যমে।

বিশ্ববিদ্যালয়, সংস্থাকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত

গঠনতন্ত্রে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং সংস্থাগুলোকে কাউন্সিলরশিপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হলেও খেলার সুযোগ রাখেনি বিসিবি। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সংস্থাগুলোকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিকল্প কোনো টুর্নামেন্টও চালু নেই বিসিবিতে। অথচ কাউন্সিলরশিপ দেওয়ার জন্য গঠনতন্ত্রে রেখে দেওয়া হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। যেটা গঠনতন্ত্রের ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সভাপতির একক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা

বিসিবি সভাপতির রুলিং দেওয়ার ক্ষমতা ছিলই। পরিচালনা পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়- এমন সিদ্ধান্ত জরুরি সভা ছাড়া নিতে পারবেন সভাপতি। সেই ধারার সঙ্গে নতুন যোগ করা হয়েছে যে কোনো জরুরি বিষয়ে বিসিবির সভাপতির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রকৃতি

ওয়ার্কিং কমিটি ও সিসিডিএম ছাড়া বাকি স্ট্যান্ডিং কমিটি হবে সাত সদস্যের। পরিচালকরা হবেন কমিটির সভাপতি। কাউন্সিলরদের থেকে নেওয়া হবে বাকি ছয় সদস্য। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে কাউন্সিলরদের বাইরে থেকেও একজন সাবেক ক্রিকেটার বা সংগঠককে সদস্য করা যাবে।

অগ্রাধিকার পাবেন সাবেক ক্রিকেটাররা

জেলা ক্রিকেট সংস্থা থেকে কাউন্সিলর করার ক্ষেত্রে সাবেক ক্রিকেটার বা সংগঠকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে। ক্রীড়া সংস্থার সভাপতিরা এই অনুমোদন দেবেন।