ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০ সিরিজের দল আগেই ঘোষণা করেছিল বিসিবি। এক দুটি জায়গায় সংযোজন-বিয়োজন করে গতকাল আবার নতুন করে ১৪ সদস্যের স্কোয়াড দেওয়া হয়েছে। প্রায় চার বছর পর মেহেদী হাসান মিরাজকে নেওয়া হয়েছে টি২০ দলে। ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ফিট হওয়া সাপেক্ষে নিশ্চিত ছিল। গতকাল সেটা আনুষ্ঠানিক করল বোর্ড। তবে যার টি২০ খেলা না খেলা নিয়ে এত কথা, সেই তামিম ইকবালকে নেওয়া হয়নি। এর অর্থ হলো, টি২০ বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় নেই বাঁহাতি এ ওপেনার।

তামিমের টি২০ খেলা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে বেশ আগেই। তিনি নিজেও ঝেড়ে কাশছেন না। বরং উইন্ডিজ সফরে যাওয়ার আগে বিশ্বকাপ এবং টি২০ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঘুরিয়ে উত্তর দিয়ে ঝামেলায় পড়েন। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সে সময় বলেছিলেন, তামিম বিশ্বকাপ খেলতে চাইলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দলে নেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার চাপিয়েছিলেন ব্যাটারের ওপরই। তামিম তাতে সাড়া না দেওয়ায় তাকে ছাড়াই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পর্ব। কাল থেকেই মাঠে গড়াবে টি২০ ক্রিকেট। ২০ ওভারের ম্যাচের ফল যাই হোক টেস্টে হোয়াইটওয়াশের বিস্মৃতি তাড়িত করবে না সাকিবদের। টি২০ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আবার টেস্ট খেলেন না। তাই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজ এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে ভালো লাগবে তার। এতক্ষণে দলের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে সতীর্থদের সেভাবে ব্রিফও করে থাকবেন অধিনায়ক।

সেন্ট লুসিয়ায় টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই সাকিবের কাছে প্রথম প্রশ্নই ছিল টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে। বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার উত্তরে যেটা বলেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০ সিরিজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া উচিত। অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় হবে এবারের বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ টুর্নামেন্টের সুপার টুয়েলভে সরাসরি যোগ দেওয়ার আগে অনেকগুলো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর জিম্বাবুয়েতেও খেলবে তিনটি টি২০। এরপর শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপ আগস্ট সেপ্টেম্বরে।

বিশ্বকাপের আগে আগে নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় একটি সিরিজ খেলা নিশ্চিত করে ফেলেছে বিসিবি। বাংলাদেশ, পাকিস্তানকে নিয়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের আয়োজন তিন জাতির টি২০ টুর্নামেন্ট। নিজস্ব ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আইসিসিও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ রেখেছে। এককথায় টি২০ খেলার মচ্ছব শুরু হচ্ছে কাল থেকেই। বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হতে এর চেয়ে ভালো সুযোগ হতে পারে না। বিসিবি চেষ্টা করেছে খেলা আয়োজন করে দিতে। সেটাকে কাজে লাগানোর দায়িত্ব ক্রিকেটারদের। টি২০ বিশ্বকাপের দু'বারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারলে আখেরে লাভই বেশি। কারণ এই সংস্করণে অন্য অনেক দলের চেয়েই ভালো খেলে তারা।

বাংলাদেশ এই সিরিজকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর কথাতেই তা পরিস্কার। সেন্ট লুসিয়ায় পৌঁছেই মিডল অর্ডার এ ব্যাটার বলেছেন, স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিততে চান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবও সতীর্থদের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই সিরিজ দিয়েই দল হিসেবে খেলতে বলছেন সব্যসাচী এ ক্রিকেটার।

যদিও বাংলাদেশের দুর্বলতা এ জায়গাতেই। একমাত্র ওয়ানডে ছাড়া বাকি দুই সংস্করণে দল হিসেবে খেলতে পারে না বেশিরভাগ ম্যাচে। ২০২১ সালের টি২০ বিশ্বকাপে যার কুফল ভোগ করতে হয়েছে। মাহমুদউল্লাহও টুর্নামেন্ট চলাকালে দলকে আগলে রাখতে পারেননি। বিসিবি এর পরও অধিনায়ক রেখেছে তাঁকে। কোনো সন্দেহ নেই, এটিই মাহমুদউল্লাহর শেষ টি২০ বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক টি২০ ক্যারিয়ারেও দাড়ি টেনে দেওয়া হতে পারে। তাই এবারের বিশ্বকাপের দল এবং প্রস্তুতি নিয়ে আগের চেয়ে বেশি ফোকাস থাকবেন তিনি। উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই সে মিশন শুরু।