মাশরাফি-মাহমুদুল্লাহর ভাবনা এক যেখানে

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২০   

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছবি: ফাইল

ছবি: ফাইল

বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব ছেড়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। নেতৃত্ব থেকে বিদায়ের সময় অভিজ্ঞতা থেকে, বাস্তবতা থেকে বলে গেছেন বেশ কিছু কথা। কোচ কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টকে দিয়ে গেছেন একটা দিক নির্দেশনা। মাশরাফির কথা ধরেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ জানিয়েছেন তার এক আর্জি।

মাশরাফি নেতৃত্ব ছাড়ার সময় বলে গেছেন অনেক কথা। তার একটি, চন্ডিকা  হাথুরুসিংহে যেখানে দলটাকে রেখে গেছেন অন্য কোচদের সেই ধারা, সেই প্রত্যাশা মিটিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের ক্রিকেট আর আগের পর্যায়ে নেই। কোচ কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টের তাই বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ঠিক হবে না। দলটাকে দু’বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নতুন করে দাঁড় করানোর  সুযোগ নেই।

মাশরাফির এই কথায় যুক্তি আছে।  বাংলাদেশ দলের কোচ হয়ে রাসেল ডমিঙ্গো এখন পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেই আছেন। এটা মাশরাফিদের চোখ এড়ানোর কথা নয়। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দল সাজাচ্ছেন তিনি। ক্রিকেটারদের ব্যাটিং অর্ডারে বদল আনছেন। বোলিং আক্রমণে আনা হচ্ছে বৈচিত্র। কিন্তু তার সবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যকর ফল দিতে পারছে না।

এ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও কথা বলেছেন। তার মতে, তাকে ম্যাচের আগের দিন এক পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে। ম্যাচে সেটা বদলে যাচ্ছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে ব্যাটিং অর্ডারে বদল আনা, পাকিস্তানে টি-২০ সিরিজে ব্যাটিং অর্ডার পাল্টানো সেই কথাই বলে।

ডমিঙ্গো বাংলাদেশ দলের কোচ হওয়ার পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। সেখানেও দেখা গেছে দলে কিছু বদল। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বোলিং আক্রমণ বদলে ফেলা তারই প্রমাণ দেয়। টি-২০ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহও ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তাই বলেছেন, ব্যাটিং অর্ডারে তিনি বেশি বদল চান না।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজে ওপেনিংয়ে অটোমেটিক চয়েজ হওয়া সত্ত্বেও লিটন দাসকে নামানো হয়েছে পরে। তামিমের সঙ্গে নাঈম শেখের জুটি তাই জমেনি। ওদিকে এক ম্যাচে ডানহাতি অফ স্পিনার মাহেদি হাসানকে নামানো হয় টপ অর্ডারে। লিটনের ব্যাটিং অর্ডার নেমে যায় নিচে। পাকিস্তানের বিপক্ষে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান লিটনের তাই সার্ভিসটা পুরোপুরি পাওয়া দল।

পরে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাস সুবিধাও করতে পারেননি। অথচ পাকিস্তানে যাওয়ার আগে বিপিএলে ওপেনার হিসেবে তামিম-নাঈমের চেয়ে সফল ছিলেন লিটন। এছাড়া লিটন দাসকে টি-২০ ক্রিকেটে ওপেনিংয়ে সেট হওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছে সময়। হাথুরুসিংহে কিংবা স্টিভ রোডস লিটনকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়েই ওপেনিংয়ে সেট করেছেন। তার ব্যাটিং অর্ডারে বদল আনা তাই দলের জন্য ইতিবাচক নয়। ব্যাটিং অর্ডারে বেশি বদল চান না  বলে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ সেটাই হয়তো বুঝাতে চেয়েছেন।