'মানসম্পন্ন পেস বোলার কোথায় যে তিনজন খেলাব'

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

আলী সেকান্দার, ইন্দোর থেকে

ছবি: ফাইল

টেস্ট ক্রিকেটে সাত ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলা প্রাচীন কৌশল মনে করা হয়। ১৯ বছর টেস্ট খেলেও রক্ষণাত্মক এই কৌশলে থেকে গেছে বাংলাদেশ। ইন্দোর টেস্টে সাত ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলা তারই প্রমাণ। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানান, ব্যাটসম্যান বাড়াতে গিয়ে একজন পেস বোলার কম খেলাতে হলো। দুই পেসার আর দুই স্পিনার নিয়ে টাইগার বোলিং ইউনিট। শুক্রবার বোলিংয়ে একজন পেসারের অভাব ভালোই টের পেলেন তিনি। নান্নু জানান, একজন স্পিন অলরাউন্ডার থাকলে এই সমস্যায় পড়তে হতো না।

বিরাট কোহলি ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, তিন পেসার নিয়েই খেলবেন ইন্দোর টেস্ট। ভারত অধিনায়ক কথার নড়চড় করেননি। ম্যাচের আগের দিন বিসিবির প্রধান নির্বাচক নান্নুকে দেওয়া হয়েছিল এই বার্তা। তিন পেসার খেলানোর গুরুত্বটা তখন তিনি হয়তো বুঝতে পারেননি। তাই বলেছিলেন, 'মানসম্পন্ন পেস বোলার কোথায় যে তিনজন খেলাব। আর ভারত তো তিন পেসার নিয়ে বহু বছর ধরেই খেলে। ওদের মতো মানসম্পন্ন পেসার তো আমাদের নেই।'

টেস্ট স্কোয়াডে পেসার আছে চারজন- আবু জায়েদ রাহি, ইবাদত হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান। খেলছেন ইবাদত ও রাহি। তৃতীয় পেসার আল আমিনকে নেওয়া যেতেই পারত। টি২০ সিরিজে দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। ভারতের কন্ডিশনটাও ভালো বুঝে গেছেন। ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে জাতীয় লিগেও দারুণ বোলিং করেছিলেন তিনি। টেস্ট একাদশে থাকলে সুইং ডেলিভারি দিয়ে ভালো কিছু স্পেল করতে পারতেন এ ডানহাতি পেসার। বোলার পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সুবিধা পেতেন অধিনায়ক। রাহির সাফল্যই প্রমাণ করে আল আমিনও ভালো করতেন। তাকে না খেলিয়ে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোরা কি ভুল করলেন?

ভারতের মতো দলের বিপক্ষে একজন ব্যাটসম্যান বেশি খেলালে ম্যাচ জিতে যাবে তা তো নয়। খেলাটা যে টেস্ট এবং প্রতিপক্ষ ভারত ম্যানেজমেন্ট এই তথ্য ভুলে গিয়েছিল কি-না কে জানে। নান্নু শুক্রবার স্বীকার কররেন একজন পেস বোলার কম নেওয়া কতটা ক্ষতি হলো দলের, 'এখন তো মনে হচ্ছে তিনজন পেস বোলার খেলাতে হতো। সমস্যা হচ্ছে, তিন পেসার খেলালে ব্যাটসম্যান কমে যায়। আমাদের শক্তির জায়গা তো ব্যাটিং। একজন স্পিন অলরাউন্ডার থাকলেও পেস বোলার বাড়াতে পারতাম। খুব দরকার ছিল একজন পেস বোলার।'

সাকিব আল হাসান থাকায় টিম ম্যানেজমেন্টকে এতদিন স্পিন অলরাউন্ডার নিয়ে ভাবতে হয়নি। ভারতের বিপক্ষে খেলতে নেমে নতুন করে উপলব্ধি হলো ম্যানেজমেন্টের। প্রধান নির্বাচক এটাও বুঝতে পারলেন, পেস বোলারদের উপেক্ষা করলে জীবনভর টেস্টে পিছিয়ে থাকতে হবে। বাংলাদেশে পেসারদের গুরুত্ব বরাবরই কম। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ছাড়া তিন পেসার নিয়ে খেলার মানসিকতাও নেই টাইগার টিম ম্যানেজমেন্টে। ২০১৭ সালে হায়দরাবাদ টেস্টেও দুই পেসার নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ। ব্যাটিং ট্র্যাকে দুই পেসার খেলানো ঠিকই ছিল। একই কৌশল তো স্পোর্টিং পিচে খাপ খাবে না। হলকার স্টেডিয়ামের লাল মাটির পিচ রক্ষণাত্মক কৌশল প্রয়োগ করে হয়তো ভুল করে ফেলেছেন ডমিঙ্গো।

২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ভেন্যুতে খেলা একমাত্র টেস্টের পরিসংখ্যান দেখেও ব্যাটিং একাদশ বানিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ। দুই বছর আগে হায়দরাবাদে তবু স্পিনাররা ভালো করেছিলেন। তাইজুল তিন, মেহেদী মিরাজ ও সাকিব দুটি করে উইকেট পেয়েছিলেন। ইন্দোরে দুই স্পিনারই উইকেট ভাঙতে পারেননি। গতকাল শেষ বিকেলে মিরাজ অবশ্য একটি উইকেট পেয়েছেন। তারপরও সফল বলতে হচ্ছে কেবল সুইং বোলার রাহিকে। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, চেতেশ্বর পুজারা, আজিঙ্কা রাহানেকে সুইং বলেই বিট করেছেন তিনি। আরেক পেসার ইবাদত লাইন লেন্থে বল করেও মাত্র একটি উইকেট পেয়েছেন। তৃতীয় পেসার থাকলে ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপটা বেশি দেওয়া যেত। তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা টেস্ট ম্যাচ হলেও হতে পারত।