বিরক্ত কোচ চান ঢেলে সাজাতে

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

আলী সেকান্দার, ইন্দোর থেকে

ছবি: ফাইল

প্রতিটি ফরম্যাটের জন্য আলাদা দল গড়ার পরিকল্পনা আগেই দিয়ে রেখেছেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। এই প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গেছে। বর্তমান টেস্ট দলের আটজনই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নেই। টাইগার প্রধান কোচ শুক্রবার ইন্দোরে জানালেন, টেস্টে সফল হতে দলটাকেও ঢেলে সাজাবেন। প্রয়োজনে একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার পক্ষে তিনি। দ্বিতীয় টেস্ট থেকেই পরিবর্তনের ছোঁয়া দেখা যেতে পারে। এ পুনর্গঠনের সময়ে দল খারাপ খেললেও সমস্যা হবে না বলে জানান তিনি।

ডমিঙ্গো দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টেই হোঁচট খায় আফগানিস্তানের কাছে হেরে। দুই মাসের ব্যবধানে টেস্টে আরও একটি বিপর্যয় দেখতে হচ্ছে টাইগার কোচকে। ইন্দোর টেস্টে ভারতের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় দল। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন তিনি, 'আমার দ্বিতীয় টেস্টে কিছু খেলোয়াড় দেখা হয়ে গেছে। দলের দুর্বলতা কোথায় এবং কী করতে হবে এ সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা পেয়ে গেছি। আশা করি এই পরিবর্তনগুলো করে এগিয়ে যেতে পারব।'

বাংলাদেশের অনেক তারকা ক্রিকেটারেরই টেস্ট খেলায় আগ্রহ নেই। মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেনরা পাঁচ দিনের ক্রিকেট খেলতে চান না। এক বছরের নিষেধাজ্ঞায় পড়া সাকিব আল হাসানেরও টেস্টে আগ্রহ কম। পেস বোলারদের মধ্যে বেশিরভাগই পরিশ্রমের ক্রিকেট খেলতে রাজি নন। এই জঞ্জাল উপড়ে ফেলতে দ্বিধা করবেন না ডমিঙ্গো। তিনি জানান, নির্বাচকদের সঙ্গে বসে নতুন করে দল গোছাবেন, 'কোনো সন্দেহ নেই দলের কাঠামো পরিবর্তন আনতে হবে। সেটা না করলে হারতেই থাকব। নির্বাচকদের সঙ্গে বসে আমাকে ঠিক করতে হবে কীভাবে এগিয়ে যেতে পারি। দল এগিয়ে নিতে পারে এমন খেলোয়াড় বাছাই করতে হবে। এর মানে যদি হয়, কয়েকটি নতুন মুখ নিয়ে আমরা কিছুদিন ধুঁকব তাতেও সমস্যা নেই।'

প্রচ্ছন্ন একটা হুমকিও দিয়ে রাখলেন টাইগার কোচ, 'আমাদের দলে অসাধারণ কিছু ক্রিকেটার আছে। তাদের সমস্যা দূর করতে হবে। বাংলাদেশের হয়ে তাদের পারফরম্যান্সের মূল্য বুঝি। তবে দেশ এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে একটা সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।' এই প্রক্রিয়া ওয়ানডে এবং টি২০ দলেও করতে চানা ডমিঙ্গো। আসলে টাইগার প্রধান কোচের এই কঠিন সিদ্ধান্তে যাওয়ার কারণও আছে, জাতীয় দলে দীর্ঘদিন খেলার পরও বেশিরভাগ ক্রিকেটারের টেস্ট গড় ৩০ থেকে ৩২। এই ক্রিকেটারদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৪৫ গড় প্রত্যাশা করেন তিনি। ভারতের মায়াঙ্ক আগরওয়ালের উদাহরণ টানেন তিনি।

ইন্দের টেস্ট নিয়ে টাইগার প্রধান কোচ বলছেন, 'প্রথম দুই দিন ভারত দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। তারা একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছে। ম্যাচের এখনও তিন দিন বাকি। যদিও কঠিন একটা পরিস্থিতির মুখে আমরা। কিন্তু একটা বড় সুযোগও। কেউ না কেউ নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও ভালো খেলে। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের গড় ২০ বা ৩০। আমাদের কাউকে না কাউকে ১০০, ১৫০ বা ২০০ করতে হবে। যেমন মায়াঙ্ক করেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের জন্য এটা দারুণ একটা সুযোগ।' মুশফিক, মাহমুদুল্লাহরা এই সুযোগটা লুফে নেবেন বলেই বিশ্বাস কোচের।