পাকিস্তানের আশার পালে ঘা অজিদের

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

ছবি: টুইটার

মাঝ নদীনে পাকিস্তানের ম্যাচ জয়ের আশা ডোবে। সেই আশা তিরে ভেড়ানোর ভেলা খুঁজছিল পাকিস্তান। আটে ব্যাটে নামা ওয়াহাব রিয়াজ সেই ভেলা হয়ে পাকিস্তান দলকে ভরসা দিতে থাকেন। ভারতের বিপক্ষে কুল্টার নাইল যেমন জ্বলে উঠেছিলেন। তেমন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়াহাব রিয়াজ জ্বলে ওঠেন। কিন্তু তিনি আউট হতেই নদী থেকে তির দেখতে পাওয়া দূরত্বে এসে আশার তরী ডোবে পাকিস্তানের। অস্ট্রেলিয়ার কাছে তারা হারে ৪১ রানের ব্যবধানে।

দুই ইনিংসের শুরুতেই পাকিস্তান ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। কিন্তু শেষ দিকে এসে আবার ঘুরে দাঁড়ায়। অস্ট্রেলিয়া যেমন ব্যাট করতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নার এবং অ্যারন ফিঞ্চের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে কোন উইকেট না হারিয়ে ১৪৬ রান তোলে। সেই দল পরের ৯ উইকেট হারায় ১৬১ রানে। এর মধ্যে শেষ পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ৩০ রানে।

সাড়ে তিনশ'র পথে ছুটতে থাকা অস্ট্রেলিয়া এক ওভার হাতে থাকতে ৩০৭ রানে অল আউট হয়। অজিদের হয়ে দুই অধিনায়ক ফিঞ্চ ৮২ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন। ওয়ার্নার ফেরেন ১০৭ রান করে। এরপর টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা বড় রান তোলার চাপ মাথায় নিয়ে সেট হয়ে আউট হন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২০, শন মার্শ ২৩ এবং উসমান খাজা ১৮ এবং অ্যালেক্স কেরি ২০ রান করেন। আর লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা ছিল এক্কেবারে ফ্লপ।

পাকিস্তানের হয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন পেসার মোহাম্মদ আমির। তাকে দলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ছিল। দুর্দান্ত এক ম্যাচ খেলে তিনি হাতে নাতে তার জবাব দিয়ে দিলেন। ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান দিয়ে তিনি ৫ উইকেট নেন। শুরু থেকেই বলে দারুণ সুইং করিয়ে অজি ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলে দেন তিনি। কিন্তু দলের জন্য আফসোস হলো পাকিস্তান সেই সুযোগ ঠিক নিতে পারেনি।

দলের দুই রানের মাথায় প্যাট কামিন্সের বলে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পাকিস্তান ওপেনার ফখর জামান। এরপর ৫৬ রানে ফেরেন ভালো শুরু করা বাবার আযম। সেখান থেকে ইমাম উল হক এবং মোহাম্মদ হাফিজ ভালো একটা জুটি গড়েন। তোলেন ৮০ রান। ইমাম উল ফেরেন ৫৩ রান করে। এরপরই হাফিজ ৪৬ রান করে ফেরেন। তিনি ফিরতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার। লোয়ার অর্ডারে এসে অধিনায়ক সরফরাজের সঙ্গে অষ্টম উইকেট জুটিতে ৬৪ রান যোগ করেন রিয়াজ।

অবাক করার মতো কিছু করার অপেক্ষা বাড়ান রিয়াজ। কিন্তু ৪৫ রান করে তিনি ফিরতেই আশা শেষ পাকিস্তানের। অধিনায়ক সরফরাজ ৪০ রান করলেও ঠিক ভরসা হয়ে উঠতে পারেননি।  এই হারে পাকিস্তানের সেমিফাইনালের স্বপ্নে বড় এক ধাক্কা লাগলো। চার ম্যাচে দুই হার, এক জয় এবং পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচ থেকে পাওয়া এক পয়েন্ট তাদের সম্বল।