ঘুরতে কার না ভালো লাগে! সেই স্থানটি যদি হয় প্রিয় তাহলে তো আর কথাই নেই। অভিনয়ের সুবাদে পৃথিবীর অনেক দেশে ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। নতুন কোনো দেশে প্রথম ভ্রমণ মানেই অন্য রকম এক অভিজ্ঞতা। জীবনে অসংখ্যবার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি। নতুন দেশ, নতুন সংস্কৃতি, নতুন নতুন মানুষ- সব মিলিয়ে অন্য রকম এক ভালোলাগা। সময় ও সুযোগ পেলেই ছুটে যাই পৃথিবীর চোখ ধাঁধানো রূপ দেখতে। সেসব স্থানে গিয়ে মনের মতো করে ঘোরাঘুরি ভালো লাগে। প্রথম কোনো দেশে যাওয়ার আগে চেষ্টা করি সে দেশ সম্পর্কে জানতে। সেখানে বড় বড় মিউজিয়ামে কী আছে, তার খোঁজ নিই। কোনো ঐতিহাসিক জায়গা থাকলে সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করি। প্রযুক্তির কল্যাণে এটি আরও সহজ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আমি বইয়ের সাহায্য নিয়ে থাকি। বিশদভাবে জানতে চেষ্টা করি সেখানকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে। সঙ্গে সুন্দর স্থানগুলোর ঠিকানা জানতেও ভুল করি না। এরপর সেখানে পা রাখার পর স্থানীয় মানুষের কাছেও দেশ বিষয়ে অনেক কিছু জানা হয়। পরে নিজের মতো ঘুরতে যাওয়ার চেষ্টা করি।
যত দেশই ঘুরি না কেন, নিজের দেশের ঘোরার মধ্যে অন্যরকম প্রশান্তি মেলে। এই তো কিছুদিন আগে কক্সবাজার গিয়েছিলাম ঘুরতে। অনেক আনন্দময় সময় কাটিয়েছি। আমি ভীষণ প্রকৃতিপ্রেমী। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আমাকে সবসময়ই টানে। গাছপালাঘেরা সবুজ বন দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। সমুদ্রের ঝোড়ো হাওয়াও টানে তা যে দেশেই হোক। আমি ছবি আঁকতে পারি না। কিন্তু ছবির মতো সুন্দর কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে পৃথিবীর বড় বড় সৈকত প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকে। সে ডাক এড়াতে পারি না বলেই যখন-তখন সাগরপাড়ে ছুটে যেতে ইচ্ছা করে। সাগর জলের ভীষণ শব্দে কূলে আছড়ে পড়ার সে দৃশ্যের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। জলের মনে হয় সম্মোহনী শক্তি আছে। সমুদ্রের নীল জল ছুঁয়ে দেখার আকাঙ্ক্ষা কখনও শেষ হওয়ার নয়।
সমুদ্র, সারি সারি সবুজ ঝাউবীথি, পাহাড়, ঝরনা আর নরম বালুর মাঝে অপরূপ সৈকত কক্সবাজার। সাগরের নীল জলরাশি আর ঢেউয়ের গর্জন সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ। দিগন্ত বিস্তৃত নীল সমুদ্র, বড় পাহাড়, বৌদ্ধ মন্দির, প্যাগোডাসহ নানা আকর্ষণ নিয়ে গড়া পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে পা রাখলেই সাগরতীরে বেড়াতে মন চাইবে। সাগরের নোনাজলে রৌদ্রস্নান, সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকন মনে প্রশান্তি আনে। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় সমুদ্রসৈকতের ভিন্ন রূপ আর সন্ধ্যার পর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অন্য ভুবনে হারিয়ে যাই। বিশেষ করে পূর্ণিমার রাতে আকাশের উজ্জ্বল চাঁদ সমুদ্রের জলে প্রতিফলনের দৃশ্য আনন্দের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। শুধু সমুদ্রসৈকতই নয়, কক্সবাজারে বার্মিজ মার্কেট, হিলটপ রেস্টহাউস, লাবণী পয়েন্ট, পাহাড় ঝরনাঘেরা হিমছড়ি, পাথুরে সৈকত ইনানী, নাইক্ষ্যংছড়ি লেক, ঝুলন্ত ব্রিজ, রামু বৌদ্ধবিহার, রাবার বাগান, ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক, কলাতলী বিচ, লং মেরিন ড্রাইভ, রেডিয়েন্ট ফিশ অ্যাকুয়ারিয়াম, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া দ্বীপ, পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী, কক্সবাজার বৌদ্ধ মন্দিরসহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান যে কাউকেই আকর্ষণ করে।
তাই তো ক্লান্তির এই শহর ছেড়ে নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে ভালো লাগার আবেশ মেখে সেখান থেকে ফিরেছি। প্রিয় কোনো স্থানে ঘুরতে গিয়ে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করার চেষ্টা করি। যে জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কক্সবাজার ভ্রমণের কিছু ছবি আপলোড করেছি। নানা কথামালায় ভক্তরা আমাকে ভালোবাসার সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন।
ছোটবেলায় আমার অনেক ভ্রমণের সঙ্গী ছিলেন বাবা। বাড়ির সবচেয়ে ছোট ছিলাম বলে তিনি আমাকে নিয়ে অনেক জায়গায় যেতেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রিয় বাবা আমাদের ছেড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখন সুন্দর কোনো জায়গায় গেলে তাঁর কথা খুব মনে পড়ে। বাংলাদেশের প্রায় জায়গাই আমার দেখা হয়েছে। আমাদের দেশটা অনেক সুন্দর। সর্বশেষ একটা কথা বলতে চাই, বিদেশে না যেতে পারি। সবার উচিত নিজের দেশকে ভালোভাবে ঘুরে দেখা।