সমকাল :তৈরি পোশাকের পরেই দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি খাত এখন হোম টেক্সটাইল। এই অর্জনের নেপথ্য কী?
রাশেদ মোশাররফ :২০২০ সালের শুরুর দিকে যখন কভিডের বিস্তার বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করে, তখন বিভিন্ন দেশে লকডাউন শুরু হয়ে যায়। মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাত খুব বেশি সময় মহামারির প্রভাবে আক্রান্ত হয়নি। অন্যদিকে, লকডাউনের কারণে ঘরবন্দি মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হোম টেক্সটাইলের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। আমাদের পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সম্ভারের কারণে দেশের হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি আদেশ অনেক বেড়ে যায়। উপরন্তু, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আর সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে রপ্তানিনির্ভর খাতের উৎপাদনশীলতা বেড়ে যায়। এ ছাড়া দূরদর্শী নেতৃত্ব, লক্ষ্যে অবিচল থাকা আর অব্যর্থ পরিকল্পনা আমাদের এগিয়ে যেতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

সমকাল :বাংলাদেশের হোম টেক্সটাইলের মূল শক্তি কী কী?
রাশেদ মোশাররফ :আপসহীন মান আর টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, তুলনামূলক স্বল্পমূল্যের শ্রমিক প্রাপ্যতা, শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ, অন টাইম ডেলিভারি ইত্যাদি দেশের হোম টেক্সটাইলের মূল শক্তি। এ ছাড়া ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া আর জাপানের বাজারে শুল্ক্কমুক্ত প্রবেশাধিকার আমাদের অন্যতম শক্তি।

সমকাল :প্রধান রপ্তানিকারক চীনে একদিকে লকডাউন চলছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির রয়েছে শুল্ক্কযুদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কি কোনো সুবিধা পেতে পারে?
রাশেদ মোশাররফ :প্রথমত, চীনের লকডাউন ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে। সুতরাং এদিক থেকে কোনো সুবিধা আমরা পাব না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের শুল্ক্কযুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যে আমাদের দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের অনেক চাহিদা আসা শুরু হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি আমাদের জন্য বড় ব্যবসায়িক সুবিধা নিয়ে আসতে পারে।

সমকাল :মূল্যস্ম্ফীতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো প্রভাব কি রপ্তানিতে দেখা যাচ্ছে?
রাশেদ মোশাররফ :বৈশ্বিক মূল্যস্ম্ফীতির সরাসরি প্রভাব এখনও আমাদের সরবরাহ আদেশে পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু আশঙ্কা করা যাচ্ছে, বছরের শেষ চতুর্থাংশে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। হোম টেক্সটাইলের পণ্যের দাম বেড়ে গেলে ক্রেতারা সরবরাহ আদেশ কমিয়ে ফেলতে পারেন, যার প্রভাবে আমাদের রপ্তানি কমে যেতে পারে। রাশিয়া আমাদের রপ্তানির ৩-৪ শতাংশের অংশীদার, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বন্ধ আছে। তবে অন্যান্য দেশে রপ্তানি করছি। এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ব্যবসায় পরিলক্ষিত হতে পারে।

সমকাল :আপনাদের বার্ষিক রপ্তানির পরিমাণ কত এবং উল্লেখযোগ্য ক্রেতা কারা?
রাশেদ মোশাররফ :বার্ষিক রপ্তানির পরিমাণ ২০০ মিলিয়ন ডলার। আমাদের উল্লেখযোগ্য ক্রেতার মধ্যে রয়েছে- আইকিয়া, এইচঅ্যান্ডএম হোম, ওয়ালমার্ট, জারা হোম, কেরিফোর, সেইন্সবুরিস, লিডল, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, টার্গেট ও নিটরি।

সমকাল :হোম টেক্সটাইলে কি রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে? সে ক্ষেত্রে কী
চ্যালেঞ্জ দেখছেন?
রাশেদ মোশাররফ :হ্যাঁ, এই খাতে আরও বেশি রপ্তানির সুযোগ আছে। তবে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হচ্ছে- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অবিচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ম্ফীতি মোকাবিলা।