শখের বশে আর্ট করতেন। একদিন রিবন দিয়ে হিজাবের পিন তৈরি করেন। সে ছবি ফেসবুকে আপলোড করেন। কয়েকজন তা পছন্দ করে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনিও না করেননি। প্রথম অর্ডারেই ১ হাজার ৫০০ টাকা আয়। এর পর আর তাঁকে পেছন ফিরে থাকাতে হয়নি। এখন তাঁর মাসিক আয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। শখের কাজ হয়ে গেছে তাঁর পেশা। চাকরি করতেন। তাও ছেড়ে দিয়েছেন। সফল এই উদ্যোক্তার নাম সানজিদা আফরিন শিপু। সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে অনার্স শেষ করেছেন। পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকার তেজগাঁওয়ে।

শুরুর দিকে মানুষ ব্যঙ্গ করে বলত 'আর্টওয়ালি'। তিনি এসব পাত্তা দিতেন না। উল্টো নিজের পেজের নাম রাখলেন 'আর্টওয়ালি'। আর অল্প ক'দিনে আর্টওয়ালি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেল। হয়ে উঠল মানুষের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের শক্ত জবাব। এখন পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এই পেজে তাঁর পণ্যের ছবি দেওয়া আছে। এখানে গিয়ে যে কেউ অর্ডার করতে পারেন।

অধিকাংশ হ্যান্ডমেইড পণ্য নিয়ে তাঁর কাজ। এগুলো কাস্টমারের পছন্দ অনুযায়ী হতে পারে। উল্লেখযোগ্য কিছু পণ্য হলো- হ্যান্ড পেইন্টেড ব্যাগ, কাঠের জুয়েলারি, ফেব্রিক জুয়েলারি, হ্যান্ড পেইন্টেড মানিব্যাগ, পেইন্টেড ঘর সাজানোর আইটেম, গাছের পাতায় শিল্পকর্ম, বোতলে শিল্পকর্ম, সুপারি পাতার খোলে ছবি ইত্যাদি। তিনি জুয়েলারি ডিজাইনগুলোর মধ্যে আমাদের দেশীয় রিকশা পেইন্ট রাখার চেষ্টা করেন। সর্বনিম্ন ৫০ টাকা দামের পণ্য তাঁর কাছে রয়েছে। সানজিদা কিছু ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিংও করেছেন।
সানজিদা বলেন, 'অনলাইনে আমার শখের জিনিসটা মানুষের কাছে পৌঁছে যাক- এটাই আমার মূল উদ্দেশ্য। ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জনে আমি বিন্দুমাত্র ছাড় দিই না। আমি প্রোডাক্টের সঙ্গে নানা ধরনের গিফট অফার করি। যেন আমার প্রোডাক্ট অথবা জিনিস নিয়ে তাঁরা খুশি থাকেন। প্রত্যেক কাস্টমার আমার কাছে অনেক মূল্যবান। লাভের চেয়ে তাঁদের সন্তুষ্টির কথা বেশি ভাবি। কাস্টমাইজ প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করা আমার খুব পছন্দের। এখানে নিজের সৃজনশীলতা প্রয়োগ করা যায়। আমার পেজ থেকে রিজনেবল প্রাইসের মধ্যে যে কেউ পণ্য ক্রয় করতে পারেন।' অবশ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য তাঁকে নানা কথা শুনতে হয়।

সানজিদার তৈরি পণ্যের চাহিদা যখন অনেক বেড়ে যায়, তখন তিনি এ কাজকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবেন। যদিও অনলাইন ব্যবসার খুঁটিনাটি তখনও জানতেন না। তিনি বলেন, 'পেজটা খোলার পর আমি অনেক মানুষের সাড়া পেয়েছি। আমার মনে হয়েছে, এটাকে এখন পেশা হিসেবে নেওয়া যায়।'

নিজে কাজ করতে করতে শিখেছেন। সাহায্য নিয়েছেন ইউটিউব, গুগলের। আর্টের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তিনি বলেন, 'সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজটা সুন্দর করতে চেষ্টা করি। কাস্টমারদের পজিটিভ ফিডব্যাক আমার অনুপ্রেরণা। মা-বাবা পাশে থাকেন সব সময়। কাজ শেষ করে মা-বাবাকে দেখাই। তাঁদের সঠিক মতামত আমার জন্য খুবই সহায়ক।' নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তিনি বলেন, 'প্রডাক্ট সম্পর্কে আগে সম্পূর্ণ ধারণা নিতে হবে। আমি গুগলে পণ্য নিয়ে ব্যাপক স্টাডি করি।' নতুন উদ্যোক্তাদেরও এমনটা করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

সানজিদা বলেন, 'নারী উদ্যোক্তাদের কাজগুলো অনলাইনে তুলে ধরতে হবে। বিভিন্ন রকম সাপোর্ট তাঁদের দেওয়া প্রয়োজন।' নারী উদ্যোক্তাদের কাজকে সরকারিভাবে মেলা অথবা বিভিন্ন ধরনের আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার আহ্বান তাঁর।