২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে বেতন পাচ্ছিলেন না দিনাজপুরের পার্বতীপুর পৌরসভার অফিস সহকারী কাম টাইপিস্ট শাহীনা পারভীন। দুই সন্তান নিয়ে দারুণ কষ্ট করে সংসার চালাতে হচ্ছিল তাঁকে। আড়াই বছর পর অবশেষে একসঙ্গে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা পেয়েছেন তিনি। এতে খুশি ধরছিল না তাঁর।
গত মে মাসে এ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পান পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ ইসমাইল। এর পরই তিনি ১২১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধে উদ্যোগী হন। আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই এই কর্মচারীদের ৭৬ লাখ টাকা শোধ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার প্রথম দফায় শতাধিক কর্মী নিজেদের পাওনা বুঝে নেন। অন্যরা গতকাল বুধবার পেয়েছেন।

আট বছর আগে স্বামী হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে সংসারে টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা শাহীনা পারভীন বলছিলেন, 'স্বপ্নেও ভাবিনি, বেতনের অংশ হিসেবে এত টাকা পাব। হঠাৎ করে নতুন পৌর প্রশাসক বঞ্চিত কর্মচারীদের ডেকে হাতে চেক তুলে দিয়েছেন।' কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি অভিযোগ করেন, যে কর্মচারীদের সঙ্গে তৎকালীন মেয়র এজেডএম মেনহাজুল হকের সম্পর্ক ভালো ছিল, তাঁরা মাঝেমধ্যে বেতন পেতেন। অর্থ সংকটের অজুহাতে তাঁদের বেতন-ভাতা বছরের পর বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

লাখ লাখ টাকা আদায় করে পৌরসভায় জমা দিলেও দীর্ঘদিন নিজের বেতন-ভাতা পাননি কর আদায়কারী আব্দুর রহমান। তিনি একসঙ্গে পেয়েছেন ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। রহমান বলেন, 'মামলা ও নানা জটিলতায় একযুগের মতো ক্ষমতায় ছিলেন মেয়র। আমি কর আদায় করতাম, অথচ বেতন পেতাম না। নিজের ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচও দিতে পারতাম না। নানাজনের সহায়তায় সন্তানদের মানুষ করেছি।' একসঙ্গে এত টাকা পেয়ে তাঁর পরিবারের খুশির জোয়ার বইছে বলেও জানান।

স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুলতানা রাজিয়া বেতন পাচ্ছিলেন না দুই বছর ধরে। ধার-দেনা করে সংসার চলছিল তাঁর। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২ হাজার টাকা। এ ছাড়া উপসহকারী প্রকৌশলী সাব্বির আহম্মেদ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও উপসহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার ২ লাখ ৯১ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে জানান। তাঁদের সবার চোখে-মুখে ছিল তৃপ্তির আভাস।

পৌর সচিব সাইদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হতো না। যাঁদের সঙ্গে মেয়র-কাউন্সিলরদের সখ্য ছিল, তাঁরা মাঝেমধ্যে বেতন পেতেন।

ইউএনও মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, 'সরকারি নির্দেশনায় আমাকে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেখলাম, অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের বেতন বাকি। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টেসৃষ্টে দিন পার করছেন।' ঈদ সামনে রেখে বকেয়া বেতন-ভাতা হিসেবে ৭৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।