ফুলছড়িতে এক মাসের ব্যবধানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭২৩ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া আরও পাঁচটি বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কা স্থানীয়দের। এজন্য আরও ৫৮০ শিক্ষার্থীও দুশ্চিন্তায় রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, শিগগিরই ঘর করে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে।

জানা যায়, এ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২৯টি। এর মধ্যে চর এলাকায় আছে ৭৭টি। গত দুই বছরে ভাঙনের শিকার হয়েছে সাতটি বিদ্যালয়। এসব স্কুলের গড় শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০০ জন। সেই হিসাবে চরের শিক্ষার্থীর সংখ্যা হয় প্রায় ৭ হাজার ৭০০।

গত জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত বিলীন হওয়া বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- পিপুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর খাটিয়ামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাউয়াবাধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনধোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনন্দবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম হরিচণ্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
হুমকিতে রয়েছে দেলুয়াবাড়ি, চর পিপুলিয়া, পশ্চিম খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি ও হারুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা পাড়ের মানুষেরা নদীভাঙনের কবলে ভিটামাটি হারিয়ে ঠাঁই নিচ্ছেন বাঁধ কিংবা সড়কে। কেউ কেউ আশ্রয়ের সন্ধানে মরুভূমির মতো ধু-ধু বালুর পথ পেরিয়ে চলে যাচ্ছেন নতুন ঠিকানার সন্ধানে। অনেকেই আবার জেগে ওঠা কোনো চরাঞ্চলে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেন।

শিক্ষানুরাগী আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বছর বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বেশ সময় লেগে যেতে পারে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে চরাঞ্চলে অনলাইন ক্লাস ছিল না বললেই চলে।

স্কুলবিহীন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন ফুলছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষক ইউসুফ আলী।
পশ্চিম খাটিয়ামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মিম আক্তার বলে, 'হামরাগরে স্কুলটা সেই দিন নদীত ভাঙি গেছে। হামরা কোনটে এখন নেহাপড়া করবো।'

'বিদ্যালয় বিলীন হওয়ায় আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। স্কুল নির্মাণ করে পাঠদান শুরু করাটাই এখন চ্যালেঞ্জ। তবে দ্রুত পাঠদানে ফিরে আনার জন্য চেষ্টা করছি আমরা।' বলছিলেন, তিনধোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী মণ্ডল।

ফুলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আজাহারুল হান্নান বলেন, এ ইউনিয়নে কোনো হাই স্কুল ও কলেজ নেই। শুধু একটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। চর এলাকায় পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে হাই স্কুুল ও কলেজে ভর্তি হতে পারে না প্রায় ৩৫ ভাগ শিক্ষার্থী। এর পেছনে দারিদ্র্য, অসচেতনতা ও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম কামরুজ্জামান বলেন, ভেঙে যাওয়া বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ রাখছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে টিনশেড ঘর তৈরি করে তাঁদের পড়ালেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যাবে।