রংপুরের মিঠাপুকুরে বিয়ে রেজিস্ট্রিতে প্রতারণার অভিযোগ এনে নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজি) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন এক নারী। তাঁর অভিযোগ, ধর্ষককে বাঁচানোর জন্য মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে কাজি এই কাজ করেছেন।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা ফরিদুল কাজের সূত্রে মিঠাপুকুরের বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান-বালুয়া এলাকায় বসবাস করেন। ইউনিয়নের বালুয়ামাসিমপুর পল্লিপাড়ার বাসিন্দা মেয়েটির সঙ্গে তাঁর পরিচয় এবং এক পর্যায়ে দু'জনে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েটির সঙ্গে ফরিদুল শারীরিক সম্পর্ক করেন। তবে বিয়ের জন্য চাপ দিলে অস্বীকৃতি জানান। সম্প্রতি আবারও একই প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েটির ঘরে গেলে আটকে রেখে কাজি ডেকে বিয়ে পড়ানো হয়। কয়েক দিন পর স্ত্রীকে ছেড়ে পালিয়ে যান ফরিদুল। এর পরই মেয়েটি নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে বিয়ের প্রমাণপত্র আনতে গিয়ে প্রতারণার বিষয় জানতে পারেন।

তবে মিঠাপুকুরের বালুয়ামাসিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আবদুল হান্নান দাবি করেন, ছেলে ও মেয়ে পূর্বপরিচিত এবং দুজনেই বিবাহিত। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় মেয়েটির পরিবার তাঁদের বিয়ের জন্য সালিশ বৈঠক করে। সেখানে প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে মেয়েটি গ্রামীণ ব্যাংকের মাঠকর্মী ফরিদুল ইসলামকে বিয়ে করেন। তাঁদের বিয়ে তিনি পড়িয়েছেন। ছেলেটির আগে স্ত্রী ও সন্তান থাকায় সাদা কাগজে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন।

মেয়েটির মা বলেন, টাকা খেয়ে ছেলেপক্ষকে বাঁচাতে কাজি সাদা কাগজে রেজিস্ট্রি করেছেন। আমরা তাঁর চালাকি বুঝতে পারিনি। থানাও মামলা নিচ্ছে না। আমরা খুব অসহায়। দু'জনেরই বিচার চাই।

মিঠাপুকুর থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ভুক্তভোগী ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।