২০১৮ সালে ঈশ্বরদীর অরনকোলা হাট থেকে আড়াই মণ ওজনের একটি বাছুর কেনেন খামারি রেজাউল ইসলাম। শখ করে এর নাম রাখেন ‘পাগলা রাজা’। চার বছরে সেই বাছুর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ মণে। এবারের কোরবানির হাটে ষাঁড়টি বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

রেজাউল ইসলামের বাড়ি ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়নের মাড়মি গ্রামে। রেজাউল জানান, দেশীয় পদ্ধতিতে ‘পাগলা রাজা’কে ছোলা, গমের ছাল, খেসারি, ভুট্টার আটা, ধানের কুড়া, কাঁচা ঘাস ও খড় খাওয়ান। ষাঁড়টিকে সুস্ত রাখতে প্রতিদিন ২-৩ বার গোসল করানো, খাওয়ানোর কাজটা রেজাউল ও তার স্ত্রী আসমা খাতুন নিজের হাতেই করেন। পাগলা রাজা যেন গরমে কষ্ট না পায় সেজন্য তার মাথার উপরে  ফ্যানও লাগিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়,বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রিয় ষাঁড়টিকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করেন রেজাউল।

খামারি রেজাউল আরও জানান, প্রতিদিন 'পাগলা রাজা'র পেছনে তার খরচ হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকা। চার বছর ধরে তিলে তিলে কষ্ট করে এবারের ঈদুল আজহার আগে বিক্রি করার জন্য ষাঁড়টিকে প্রস্তুত করা হলেও ভালো দাম পাওয়ার আশা ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে রেজাউলের।

রেজাউল জানান, ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ১১ লাখ টাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাঙ্খিত দাম বলেনি কোন ক্রেতা কিংবা ব্যাপারি। রেজাউল ইসলাম বলেন,কেনা থেকে শুরু করে  ‘পাগলা রাজা'র পেছনে যে শ্রম ও খরচ হয়েছে তার তাতে ১০ থেকে ১১ লাখ টাকায় ষাঁড়টি বিক্রি হলে খরচের টাকাটা ঘরে আসবে।

আমিরুল ইসলাম নামে এক গরুর ব্যাপারি বলেন, পাবনা জেলায় এর চেয়ে বড় ষাঁড় আমি এবার এখনো দেখিনি। আরেক গরুর ব্যপারি মান্নান হোসেন বলেন, এই ষাঁড়ের ওজন প্রায় ৩৫ মণ হবে বলে ধারণা করছি।