সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রবাসী বাংলাদেশি চট্টগ্রামের বাসিন্দা। করোনাকালে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় দেশে আটকে পড়া আমিরাত প্রবাসীদের সংখ্যাও চট্টগ্রামে বেশি। কিন্তু র‌্যাপিড টেস্ট বুথ না থাকার কারণে নানা হয়রানি আর ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর ধরে আমিরাতে ফিরতে হচ্ছে চট্টগ্রামে আটকে থাকা আমিরাত প্রবাসীদের। হয়রানির অভিযোগ তুলছেন সিলেটের যাত্রীরাও।

দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার বুথ স্থাপনের সরকার ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবয়নের ধীরগতি হওয়ায় যাত্রীদের হয়রানি ও ভোগান্তির পরিমাণ আরও বাড়াচ্ছে বলেও দাবি করেন সদ্য আরব আমিরাতে ফিরে আসা প্রবাসীরা।

চলতি সপ্তাহে ঢাকাফেরত বেশ কয়েকজন আমিরাত প্রবাসী সমকালকে অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা বিমানবন্দর হয়ে আরব আমিরাতে আসতে চট্টগ্রাম ও সিলেটের যাত্রীদের বাড়তি টাকা খরচ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ধরতে হচ্ছে। অধিকাংশ যাত্রীকে অন্তত দুইদিন আগে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হতে হয়। কাউকে কাউকে ভোররাতে বাস বা ট্রেন ধরে ঢাকায় পৌঁছাতে হচ্ছে। এমন সব বাড়তি ধকল ছাড়াও বিমানবন্দরে প্রবেশের পর নানামুখী হয়রানির শিকারও হচ্ছেন তারা।

যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার গোছানো কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। মাস্কবিহীন যত্রতত্র ঘোরাফেরা চলছে। নেই শারীরিক দূরত্ব। ভিড় ঠেলে পরীক্ষার জন্য যেতে হয়। তার ওপর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসদাচারণে অতিষ্ট প্রবাসীরা। সামান্য তথ্যের জন্যও ছুটোছুটি করতে হয়। এমনকি বিমানবন্দরের ভেতরে জরুরি কাগজপত্র ফটোকপিতেও নেওয়া হচ্ছে বেশি মূল্য।

জানা গেছে, করোনার কারণে বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের জন্য আকাশপথ উন্মুক্ত করে দেয়। কিন্তু দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে করোনা পরীক্ষার ল্যাব না থাকায় আটকে পড়া প্রবাসীদের ফিরতে বিলম্ব হয়। গত ৩ অক্টোবর থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আমিরাতের ফ্লাইট চালু হয়। এরপর থেকে ঢাকা থেকে আবুধাবি রুটে সপ্তাহে ৪টি ও ঢাকা থেকে দুবাই রুটে সপ্তাহে ৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স। তবে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমিরাতগামী ফ্লাইট এখনও আলোর মুখ দেখেনি। এই দুটো বিমানবন্দরে এখনও স্থাপন করা হয়নি আমিরাতের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুয়ায়ী করোনা পরীক্ষার বুথ।

প্রবাসীরা বলছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে অন্তত দুটো করে করোনা পরীক্ষার বুথ বসানো গেলে প্রবাসীদের ঢাকামুখী ধকল কমে আসবে। আটকে পড়া যাত্রীরাও হয়রানি বা ভোগান্তি ছাড়া ফিরতে পারবেন কর্মস্থলে।