কানাডায় জমে উঠেছে ভার্চুয়াল ঈদ কেনাকাটা

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২০   

কানাডা প্রতিনিধি

বছরে প্রায় আট মাস  কানাডা বরফে আচ্ছাদিত থাকলেও ভালোবাসার রং, আড্ডার রং ,লোকজ ভাবনা , বাংলার ঐতিহ্য ভালোবাসা বিনিময়ে এখানকার প্রবাসী বাঙালিরা কখনও পিছিয়ে থাকেন না। তবে এবারের দৃশ্যটা ভিন্ন। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সব কিছুই বন্ধ হয়ে আছে। এ কারণে এবার প্রবাসী জীবনের আনন্দ জয়গান আর পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভিডিও কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে।
কানাডায় সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে এসেছে। কানাডাবাসী যতটা পারছেন মেনে চলছেন নিয়মকানুন আর সামাজিক দূরত্ব। মুসলিম সম্প্রদায়ও রমজান মাসে ঘরে বসেই তারাবীহ নামায আদায় করছেন। কোথাও যাওয়া থেকে বিরত থেকেই ঘরে বসেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ইফতারি আয়োজন করছেন। আর কানাডা সরকারও মুসলিম সম্প্রদায়ের এসব দিক চিন্তা করে কানাডার চারটি সিটিতে প্রকাশ্যে মাগরিবের আযান দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
তবে সরকারের দেয়া বিধি-নিষেধ, সামাজিক দূরত্ব আর ঘরে বসে থাকলেও বাঙালির চিরাচরিত ঈদুল ফিতরের উৎসব যেন মনের গহীনে ধাবিতমান। বাইরে বের হয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে পারলেও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম অনেক কিছু সহজ করে দিচ্ছে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেচাকেনা করছেন অনলাইনে। বাহারি রকমের  শাড়ি, চুড়ি ,কানের দুল সহ সাজগোজের নানা রকমের সরঞ্জাম পাওয়া যাচ্ছে সেখানে। পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি আর ছোট ছোট শিশুদের জামা কাপড়ও পা্ওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। সব মিলিয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরে অনলাইনে কেনাকাটায় কানাডা এখন জমজমাট। বাহারি রঙের শাড়ি কাপড়ে শিশু থেকে শুরু মধ্যবয়সীরা মডেল সেজে পরিবেশন করছেন তাদের বিভিন্ন পণ্যর সমাহার। বিভিন্ন মাধ্যমে চলছে ডেলিভারির ব্যবস্থা। আর এসব পুরোপুরি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেই করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির সভাপতি মো. রশিদ রিপন জানালেন--সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল এবং সামাজিক মিডিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই মুহূর্তে কেনাকাটার চাইতে এই মহামারিকে কিভাবে অতিক্রম করব এটাই আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
ক্যালগেরির ‘বারাকা এ্যপায়ারেল’এর স্বত্বাধিকারী আরিফা রব্বানি জানালেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেচাকেনা তেমন নেই। তবে অনলাইনে প্রচুর অর্ডার পাচ্ছেন। নিয়মিত ক্রেতার পাশাপাশি নতুন ক্রেতারাও অর্ডার দিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, সবই সম্ভব হচ্ছে ভার্চুয়াল পদ্ধতির কারণে।
এখানকার চিকিৎসক ডা. সায়মা মাওলার মতে, যে কোন কিছুর চাইতে স্বাস্থ্য সচেতনতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে ঘরে বসে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাই উত্তম। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে ঘরে বসেই আমরা ঈদ করব। বাচ্চাদের জন্য কিছু অনলাইনে অর্ডার করেছি।
ক্যালগেরির নারী সংগঠক লুবনা জাহান বলেন, এই মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সচেতনতা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেঁচে থাকলে ঈদ অনেক আসবে, কিন্তু সময়টা আমাদের অনুধাবন করতে হবে। অনলাইনে কেনাকাটার অর্ডার দিয়েছি । ঘরে বসেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এবার ঈদ করব ইনশাআল্লাহ।
ক্যালগেরির  নিয়মিত ক্রেতা মনিরা বেগম শম্পা জানান, সামনাসামনি না দেখতে পেলেও ভার্চুয়াল পদ্ধতির মাধ্যমে তারা এবার ঈদের জামা কাপড় কিনেছেন । তিনি বলেন, বাস্তবে কেনার যে আনন্দ তা ভীষণভাবে মিস করছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোথাও না গিয়ে ঘরে বসেই ঈদ পালন করার পরিকল্পনা নিয়েছি।
বৈশ্বিক মহামারি খুব দ্রুত কমে যাবে, সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে,এমনটাই প্রত্যাশা কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের।।


বিষয় : প্রবাস