ওয়াশিংটন ডিসিতে মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯      

ওয়াশিংটন ডিসি (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি

অসচেতনতার কারণে এবং যথাযথ জ্ঞানের অভাবে বহু প্রবাসী বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ হারাচ্ছেন। এ বিষয়ে কমিউনিটির লোকজনের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির করতে পারলে প্রবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পাশাপাশি ঘরে বসে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনও করতে পারবেন।

স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ভার্জিনিয়ার সিএন্ডটি হোম কেয়ার সার্ভিসেস অলাভজনক সংগঠন ‘মুক্তি’ এবং ‘বাংলাদেশ এন্টারপ্রেনার্স সোসাইটি অব ট্যালেন্টস (বেস্ট)’-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

মুক্তির উদ্যোক্তা সামিনা হাসান বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই অসুস্থ আত্মীয়স্বজনের স্বাস্থ্যসেবার জন্য বাসায় বসেই শুশ্রূষাকারী বা কেয়ারগিভার পাওয়ার বিষয়টি জানে না। কিন্তু সরকারিভাবে এই সেবা পাওয়ার জন্য যে যোগ্যতা অর্জন করতে হয় সে ব্যাপারে যথাযথ জ্ঞানের অভাবে অনেকেই এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার অনেকেই মেডিকেয়ার বা মেডিকেইড বিষয়ে খুব কমই জানেন বা এ দুয়ের পার্থক্যও বোঝেন না। কেউ কেউ মেডিকেইড বা মেডিকেয়ার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেও না জানার কারণে এই সেবা নিতে পারছেন না। সে কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিকে স্বাস্থ্যসেবার এ দু’টি টার্মের বিষয়ে সম্যক ধারণা প্রদান এবং বিষয়গুলোর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা ও জ্ঞান বিনিময়ই করাই আজকের সেমিনারের মূল লক্ষ্য।

‘মুক্তির’ সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেশিরভাগ প্রবাসী মেয়ে প্রধানত ভাষাগত কারণে সমাজের মূলধারায় আসতে পারছে না। তারা যাতে ইংরেজি ও ড্রাইভিং শিক্ষার পাশাপাশি হোমকেয়ার সার্ভিসের ওপর স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘরে বসে আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীদের সেবা দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারে সে লক্ষ্যেই 'মুক্তি' কাজ করছে।

'বেস্টে'র চেয়ারম্যান ফয়সাল কাদের বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে ভালো করছে- এমন বাংলাদেশি অরিজিন উদ্যোক্তাদের সফলভাবে আমেরিকার মূলধারায় নিয়ে আসার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে 'বেস্ট'। সেই সঙ্গে বেস্ট উদ্যোক্তাদের একটি ডাটাবেজ গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ করছে।

তিনি বলেন, লেখাপড়া শেষে চাকরি করতে হবে- প্রচলিত এমন ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে এসে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টায় নিরলসভাবে কাজ করছে তার সংগঠন।

বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।