ক্যালগেরিতে ৩ মিনিটেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রম উপস্থাপন!

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০১৯      

কানাডা প্রতিনিধি

অনুষ্ঠানে আগতদের একাংশ -সমকাল

কানাডার ‘ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরি’র বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘বাংলাদেশি স্কলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএ) আয়োজনে স্থানীয় সময় ১৭ আগস্ট প্রথমবারের মত হয়ে গেল থ্রি-মিনিট থিসিসের আদলে করা ‘নলেজ মোবালাইজেশন’ অনুষ্ঠান। 

সারা বিশ্বে ‘থ্রি-মিনিট থিসিস’ একটি সাম্প্রতিক ধারণা যেখানে গবেষকরা বহু বছর ধরে যে জটিল গবেষণাকর্ম পরিচালনা করেন সেটিই তিন মিনিটের মধ্যে তারা সাধারণ মানুষের জন্য বোধগম্য করে সবার সামনে তুলে ধরেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অন্যান্য আর্থ-সামাজিক ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর দূরত্ব কমিয়ে আনতে গত প্রায় দশ বছর ধরেই “থ্রি-মিনিট থিসিস” একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। “নলেজ মোবালাইজেশন” বা জ্ঞান সম্প্রসারণ বিষয়ক এই আনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরিতে অধ্যয়নরত বর্তমান শিক্ষার্থীরা তিন মিনিটের মধ্যে তাদের গবেষণা প্রবাসী বাংলাদেশি, ইউনিভার্সিটি এলামনাই এবং প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে সহজভাবে উপস্থাপন করার অনন্য এই সুযোগ পেল।

অনুষ্ঠানে শতাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ক্যালগেরিতে বসবাসরত বাংলাদেশি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ এবং ভূ-তাত্ত্বিকদের নিয়ে গঠিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরি, মাউন্ট রয়েল ইউনিভার্সিটির এবং শহরের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানটি ক্যালগেরির বাংলাদেশ সেন্টারে বিকাল ৫টায় শুরু হয়। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে চা-চক্রে আড্ডার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে পরিচিত হন অংশগ্রহণকারীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানান বিএসএ’র বর্তমান এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরিতে পিএইচডি গবেষণারত সাইফ উদ্দিন সিকদার। 

সূচনা বক্তব্যের পরে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের গবেষণা উপস্থাপন পর্ব। ইঞ্জিনিয়ারিং, বেসিক সায়েন্স, বিজনেস, হেলথ সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিভাগের সর্বমোট ১৭ জন শিক্ষার্থী তাদের কাজ উপস্থাপন করেন। থ্রি-মিনিট-থিসিস পর্বটি পরিচালনা করেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরির ফ্যামিলি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডঃ তুরিন তানভীর চৌধুরী।

অনুষ্ঠান শেষে নৈশভোজের সময়ে শিক্ষার্থীরা নেটওয়ার্কিং ও কমিউনিটির সাথে মেলবন্ধন স্থাপনের সুযোগ পান। অনুষ্ঠানে আসা দেশি-বিদেশি কমিউনিটি মেম্বাররা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাক্তিবর্গও সুযোগ পান মেধাবী এসকল শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার এবং তাদের কাজ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার। 

অনুষ্ঠানের প্রধান স্পন্সর ক্যালগেরির স্বনামধন্য রিয়েল এস্টেট ব্যাবসায়ী এবং ইকবাল রিয়েল এস্টেটের স্বাত্ত্বাধিকারী ইকবাল রহমান বলেন, ‘আমি এ ধরনের প্রচেষ্টার সাথে সংযুক্ত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি এবং ভবিষ্যতেও এধরনের আরও অনুষ্ঠান হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’

অনুষ্ঠান শেষে একান্ত সাক্ষাতকারে ডঃ তুরিন বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এরকম কমিউনিটি একাত্ত্বিকরণ অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। যেভাবে আজকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ কমিউনিটি সদস্যদের একটি পরিচিত ঘটল, সেভাবে ভবিষ্যতে স্কুল, কলেজগামী তরুণদের নিয়ে কাজ করা গেলে বাংলাদেশি কমিউনিটির তরুণরা আরও উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।’

অংশগ্রহণকারী একাধিক শিক্ষার্থী এই অনুষ্ঠান নিয়ে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি অধ্যয়নরত মহসীন রানা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত নতুন শিক্ষার্থীদের গবেষণার সাথে কমিউনিটির সবার পরিচিত হওয়ার জন্য এই প্রোগ্রাম এক অনন্য সুযোগ।’ 

অনুষ্ঠানে নিজেদের কাজ উপস্থাপনাকারীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষার্থী ১৬ বছর বয়সী সাকিব বলেন, ‘আমার জানার উৎসাহ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের সাথে নিজেকে জড়িত করেছি এবং এ থেকে আমি অনেক উপকৃত হয়েছি।’

বিএসএ’র বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও কিনিসিওলজি বিভাগে পিএইচডি গবেষণারত নবাংশু শেখর দাস সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণায় বলেন, ‘আজ এখানে দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আমাদের আবারও এই ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনে অনুপ্রেরণা যোগাবে। আমি আশা করছি এই আয়োজন ক্যালগেরিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সাথে বিশ্ববিদ্যালেয়র ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।’

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের বিএসএর পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। যে কোনো গবেষকই চেষ্টা করেন জ্ঞানের উৎকর্ষতা আরও ওপরে নিয়ে যেতে। এ ধরণের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।