শাহজালালের 'ফ্রোজেন মাছ' যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

গোফওয়ালা ৭৬ হাজার ২৫ পাউন্ড হিমায়িত (ফ্রোজেন) মাছ (আইর, মাগুর, বোয়াল, পাঙ্গাশ, বাতাশি, বাচা, গুলশা, টেঙ্গরা, কাজলি, পাবদা, সিং ইত্যাদি) যারা ক্রয় করেছেন তারা তা যেন ঐসব গ্রোসারি/সুপার মার্কেটে ফেরৎ দেন অথবা নষ্ট করে ফেলেন। 

কারণ, নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের উডসাইডে অবস্থিত বাংলাদেশী আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান 'প্রিমিয়াম ফুডস'র 'শাহজালাল' লেবেল লাগানো এসব মাছ বাংলাদেশ এবং বার্মা থেকে আমদানি করার পর তার খাদ্যমান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যথাযথ পরীক্ষা করা হয়নি। খবর এনআরবি নিউজের

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয়ের 'খাদ্য-নিরাপত্তা পরিদর্শন সেবা দফতর' (এফএসআইএস) কর্তৃক ফেরৎ অথবা নষ্ট করার এ নির্দেশ জারির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকও তা বাজার থেকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়েছে।

এসব মাছ বাংলাদেশ ও বার্মা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানীর অনুমতি নেই বলেও মার্কিন কর্মকর্তারা উলেতখ করেছেন। এগুলো রান্না করে খাবার পর তা স্বাস্থ্যের জন্যে খুবই ক্ষতিকর, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে বলে 'এফএসআইএস' ২৭ জুলাই প্রদত্ত ০৮০-২০১৯ নম্বরের সার্কুলারে বিশেষভাবে উলেতখ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে এ বছরের ৮ মার্চের মধ্যে শাহজালালের লেবেল লাগানো ঐসব মাছ নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, কলরাডো, কানেকটিকাট, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ইলিনয় এবং মিশিগানের গ্রোসারি/সুপার মার্কেটে বিক্রির জন্যে ঐসব স্থানেই খালাস করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তা অনেকে ক্রয় করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ মাছ খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন বলে আমদানিকারক অথবা খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ পাননি। গত মে মাসের প্রথমার্ধে একইকারণে ভিয়েতনাম থেকে আমদানিকৃত গোফওয়ালা মাছও বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি করে এফএসআইএস। 

লসএঞ্জেলেসভিত্তিক 'ক্র্যাব হাউজ ট্রেডিং কর্পোরেশন' এসব মাছ আমদানির পর তা গ্রোসারি/সুপার মার্কেটে বিক্রির জন্যে বিতরণ করেছিল। সে নির্দেশে ছিল ৩৬ হাজার ৪০ পাউন্ড মাছ। অর্থাৎ এসব মাছ পরীক্ষা এবং তার খাদ্যমান নিয়ে ঘনঘন দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন ঘটায় আমদানিকারকরা বিপদে পড়ছেন।

এদিকে, অভিযোগ উঠেছে যে, বাঙালিদের দেশের মাছ খাবার প্রচন্ড আগ্রহকে পুঁজি করে বহুদিন যাবত বার্মার ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ বাংলাদেশী লেবেল লাগিয়ে গ্রোসারি/সুপার মার্কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এগুলো বিক্রি করা হয় পদ্মার ইলিশ হিসেবে। চাঁদপুরের ইলিশের সংকট ঘটলেই ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত কমদানে কেনা বার্মার ইলিশকে এভাবে বাজারজাত করছেন। এফএসআইএস কর্তৃক গোফওয়ালা মাছের ওপর এমন নির্দেশ জারির পর ক্রেতাসাধারণেও সম্বিৎ ফিরে এসেছে যে, সব মাছই বাংলাদেশ থেকে আসে না। বার্মার পাশাপাশি পাকিস্ত্মানেও রয়েছে এসব মাছ। বাঙালিদের আবেগ-অনুভূতি পূঁজি করে কিছু ব্যবসায়ী নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন বলে এখন প্রকাশ্যে অভিযোগ উঠেছে।

কোন কোন ব্যবসায়ী বাংলাদেশের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের পণ্যের লেবেল নকল করে নিম্নমানের পণ্যে সেই লেবেল লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আনার সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত গুল, জর্দা, সিগারেট ইত্যাদি আনছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের বেআইনী তৎপরতায় লিপ্ত ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে স্কয়ার গ্রুপের উত্তর আমেরিকাস্থ আমদানিকারক লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন। কেউ কেউ সমঝোতার মাধ্যমে ঘটনাটি নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও অন্যেরা 'থুরাই কেয়ার' ভাব দেখাচ্ছেন। 'থুরাই কেয়ার' মার্কা লোকজনের মত অনেকে ইতিপূর্বে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, রিয়েল এস্টেট প্রতারণা, ব্যাংকের সাথে প্রতারণা, ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে প্রতারণার সাথেও জড়িত ছিলেন। তাদের প্রায় সকলেই জেল খেটে অথবা জরিমানা দিয়ে শুদ্ধ হবার পথে, আবার কেউ জামিন লাভের পর পালিয়ে বাংলাদেশে গেছেন। 

এখন যারা লেবেল নকল করে অখাদ্য-কুখাদ্য আমদানি করে বাঙালি-রসনাকে পুঁজি করে মোটা অর্থ বানাচ্ছেন, তারাও যে কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছেন সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।