সাফল্য

গড়াইয়ের চরে সবজি বিপ্লব

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২২ । ০২:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাজ্জাদ রানা,কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গড়াইয়ের চরে লাউক্ষেত-সমকাল

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ও চাপড়া ইউনিয়নে গড়াই নদীর তীর ঘেঁষে রয়েছে বিস্তীর্ণ চর এলাকা। এ চরেই সবজির বড় আবাদ হচ্ছে। কয়েক হাজার কৃষক বছরজুড়ে আবাদ করেন নানা জাতের সবজি, যার বাজারমূল্য শতকোটি টাকা। কুষ্টিয়ার চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি চলে যায় ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায়। তবে দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা ও সড়কের ভঙ্গুর দশার কারণে ভালো দাম পাচ্ছেন না কৃষক। সরকারি কোনো সহায়তা ও পরামর্শ পান না চর এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা।

নন্দলালপুর ইউনিয়নের হাবাসপুর গ্রামের কৃষক আবদুর রহিম চলতি বছর দেড় বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন লাউ, চালকুমড়া ও ঝিঙে। প্রতিদিন তিনি দেড় বিঘা জমি থেকে ৫০ থেকে ৭০টি লাউ বিক্রির জন্য নিতে পারেন। পাশাপাশি চালকুমড়া ও ঝিঙে বাজারজাত করেন। লাউ বিক্রি করে তাঁর প্রতিদিনের আয় গড়ে এক হাজার টাকা। অন্য সবজি বিক্রি করেও ভালো আয় হয়। আবদুর রহিম সমকালকে বলেন, লাউ ভালো হয়েছে। পাশাপাশি ঝিঙে ও চালকুমড়ারও ফলন হয়েছে। প্রতিদিন তিনি লাউ কেটে বাজারে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, এলাকায় বড় সবজিবাজার না থাকা, সড়কের কারণে বাইরের ব্যাপারী না আসায় কম দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো কৃষি কর্মকর্তার দেখা তিনি পান না; নেই সরকারি সহায়তাও। বিপণন ব্যবস্থা ভালো হলে এবং সরকারি সহায়তা পেলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কৃষকরা ভালো দাম পেতেন। তিনি বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় করেন।

চরের প্রায় দুই বিঘা জমিতে পটোল ও কচুর আবাদ করেছেন সাদ্দাম হোসেন। মরিচের আবাদ রয়েছে আরও ১৭ কাঠা জমিতে। সাদ্দাম বলেন, চাপড়া, বাহুলা ও কুবরাট ঘিরে সবজির বিশাল আবাদ হয়। শীত ও গ্রীষ্ফ্ম- দুই মৌসুমেই চরে শতকোটি টাকার বেশি সবজি উৎপাদন হয়। সবজি আবাদেই মূলত এলাকার কৃষকদের জীবন-জীবিকা। প্রায় প্রত্যেক কৃষকই সচ্ছল।

তবে এখানে মূল সড়ক থেকে নদীর দিকে চরের জমিতে আসার সড়কটির অবস্থা বেহাল। ফসল তুলে বাজারে নিতে কৃষকদের সমস্যা হয়। আধুনিক চাষাবাদ থেকে চরের কৃষকরা বঞ্চিত।

সবজি আবাদকারী মোহাম্মদ হারুন। সারেরও ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, প?াঁচ বিঘার বেশি জমিতে সবজি আবাদ করছেন। জমিতে আগাম মুলা, মরিচ, লাউসহ অন্যান্য সবজির আবাদ করছেন তিনি। তিনি বলেন, সারের দাম অনেক বেশি। এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা সরকারি দামে সার কিনতে পারেন না। এসব কারণে সবজি আবাদে তাঁদের খরচ বেশি হয়।

চর ঘুরে দেখা গেছে, নদীর পাড় ঘেঁষে বড় অংশজুড়ে সবজির মাঠ। কৃষকরা সবজি পরিচর্যা করছেন। অনেকে ফসল তুলে বাজারে নিচ্ছেন। একটি বেসরকারি বীজ কোম্পানির কর্মকর্তা ও কৃষক রিপন হোসেন বলেন, প্রতিবছর দুই মৌসুমে এখানে প্রচুর বীজ বিক্রি হয়। উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করা হয়। তবে কৃষকদের মূল সমস্যা- তাঁরা সঠিক পরামর্শ পান না। এলাকাটি অনেকটা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা পাওয়া যায় না।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবু শাহিন বলেন, কৃষি বিভাগ ও কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পাশে দাঁড়ালে তাঁদের জন্য ভালো হতো। সবজি আবাদে এলাকাটি রোল মডেল হতে পারে। তিনি বলেন, সবজিতে রোগবালাই হলে না জেনে বিষ ও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। কষ্টের ফসল অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।

খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. হায়াত মাহমুদ বলেন, চরের যেসব এলাকায় সবজি আবাদ হচ্ছে, সেখানকার কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁরা যাতে বিনামূল্যে সার ও বীজ পান, বিষয়টি তিনি তদারকি করবেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com