সামান্য বৃষ্টিতে যায় তলিয়ে খানাখন্দে উল্টে গাড়ি

প্রকাশ: ২১ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২১ মে ২২ । ১২:২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

এম তুষারী, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)

হাতিমারায় শুক্রবার তলিয়ে যাওয়া সড়ক - সমকাল

কাশিমপুর-জিরানী বাজার সড়ক ধরে প্রায় প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে হয় শহিদুল ইসলামকে। কাশিমপুর বাজারের নদীর পাড়ের ভাড়া বাসা থেকে জিরানী বাজারের পোশাক তৈরির কারখানায় যেতে তাঁর দুর্ভোগের সীমা নেই। সড়কটির আনুমানিক ২৫০ মিটার অংশ সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায়। তখন আশপাশের কলকারখানা-বাসাবাড়ির বর্জ্যও ভেসে আসে। ফলে কষ্ট করে কাজে যেতে হয় বলে জানান শহিদুল।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে কাশিমপুর-জিরানী বাজার সড়কটি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে হাতিমারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে শহিদুলের সঙ্গে কথা হয়।

তাঁর মতোই নিয়মিত এখান দিয়ে কারখানায় যাতায়াত করেন হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, খানাখন্দের কারণে সারা বছরই এখানে কমবেশি পানি জমে থাকে। বৃষ্টি হলে পাশের কারখানার বর্জ্যও ভেসে থাকে। ফলে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে জানান সজীব মিয়া, নাছিমা আক্তারসহ কয়েকজন শ্রমিক। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় কাউন্সিলর বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছেন।

এ সময় হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায় অনেক মানুষকে। শত শত যানবাহনকেও ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে দেখা যায়। অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনগুলো খুব ধীরে সড়কের ওই অংশ পার হচ্ছিল।

স্থানীয়রা বলছেন, সড়কের এই স্থানটি যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এখান দিয়ে হাতিমারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে যাতায়াত করতে হয়। পাশেই অবস্থিত মিতালী ফ্যাশন লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানা। ওই কারখানা ছাড়াও হাজারো পোশাক শ্রমিক ইপিজেড, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, জিরানী এলাকার কর্মস্থলে যান এই পথ দিয়েই। খানাখন্দের সড়ক তলিয়ে থাকায় এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় তাঁদের। সড়কটিকে জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষায় কাউন্সিলরকে জানিয়েও লাভ হয়নি। তিনি এর সমাধানে আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি।

তবে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ওই এলাকার পানি নিস্কাশনে ড্রেন তৈরি হয়েছে। তবে এখনও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার পানি নামার জন্য ড্রেনটি খুলে দেননি। যে কারণে জলাবদ্ধতা কাটছে না।

ওই এলাকার দোকানি হারিজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে পাশের মিতালী ফ্যাশন লিমিটেডের কারখানার বর্জ্যমিশ্রিত পানি এসে পড়ে। বৃষ্টি হলে সেই পানির সঙ্গে মিশে সড়ক তলিয়ে যায়। অপর দোকানি মেহেদী হাসান বলেন, পথচারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রায়ই ইজিবাইক, অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে পানির মধ্যে উল্টে পড়ে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সাইজুদ্দিন মোল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, সড়কের পাশ দিয়ে একটি ড্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনও ড্রেনটি বন্ধ করে রেখেছে। ড্রেনটি খুলে দেওয়ার জন্য তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই ড্রেনটি খুলে দেওয়া হলে এ জলাবদ্ধতা কেটে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com