ডেল্টা প্ল্যানে চ্যালেঞ্জ ছয়টি হটস্পটে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ মে ২২ । ১৬:৩৫ | আপডেট: ১৯ মে ২২ । ১৬:৪৫

সমকাল প্রতিবেদক

উন্নত বাংলাদেশ বির্নিমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আবাসযোগ্য দেশ প্রতিষ্ঠায় ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে দেশে ছয়টি ‘হটস্পট’ চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

এই ছয়টি ‘হটস্পট’ হল-উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, নদী অঞ্চল এবং মোহনা এবং নগরাঞ্চল।

বৃহস্পতিবার পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২০২১: ইমপ্লিমেন্টেশন প্রসেস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য দেশ নির্মানে শতবর্ষী বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান-২১০০ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

জাহিদ ফারুক বলেন, ডেল্টা প্ল্যানে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ছয়টি হটস্পট… যেগুলো মূলত পানি ও জলবায়ু উদ্ভুত অভিন্ন সমস্যাবহুল অঞ্চল। এগুলো হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, নদী অঞ্চল এবং মোহনা এবং নগরাঞ্চল। 

তিনি বলেন, পরিকল্পনায় হটস্পট-ভিত্তিক সমস্যাগুলো আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে। 

উপকূলীয় অঞ্চলে-ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা। নদী ও উপকূলীয় এলাকায়- ভাঙন, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া। 

বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ এলাকার সমস্যা-স্বাদু পানির প্রাপ্যতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা, পরিবেশের অবনমন। 

হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের সমস্যাগুলো হচ্ছে- স্বাদু পানির প্রাপ্যতা, আকস্মিক বা মৌসুমি বন্যা, জলাবদ্ধতা ও অপর্যাপ্ত নিস্কাশন, অপর্যাপ্ত পানি ও পয়ঃনিস্কাশন। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমস্যাগুলো হচ্ছে- স্বাদু পানির স্বল্পতা, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা ও ক্রমহ্রাসমান জীববৈচিত্র সংরক্ষণ। 

নদী অঞ্চল ও মোহনার সমস্যা-বন্যা, পরিবেশের অবনমন, পানিদূষণ, পলিব্যবস্থাপনা ও নৌ-পরিবহন, নদীগর্ভের পরিবর্তন, ভাঙন ও নতুন চর জেগে ওঠা। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পানি সম্পদ উন্নয়নে ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা প্রদান করবে এবং পানির দূষণ কমাতে সক্ষম হবে। 

সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম; আরো উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য খান মো.নুরুল আমিন-বিভাগীয় প্রধান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান।  


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com