নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

বিলাসবহুল ১০ গাড়ি বিক্রির নির্দেশ

প্রকাশ: ১৮ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৮ মে ২২ । ১১:৪০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশেষ প্রতিনিধি

আইন অনুসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও প্রায় ৩৫ কোটি টাকা দামের ১২টি বিলাসবহুল গাড়ি নিজেদের ব্যবহারের জন্য কিনেছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওজি) সদস্যরা। সেগুলো তাঁরা ব্যবহারও শুরু করেন। এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তদন্ত পর্যায়ে গাড়িগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেন বিওজি সদস্যরা। সেগুলো এখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পড়ে আছে। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। এ অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার ১২টি গাড়ির মধ্যে সর্বোচ্চ দামি ১০টি গাড়ি খোলা দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে বিক্রিলব্ধ অর্থ নর্থ সাউথের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা-১ উপসচিব মো. ফরহাদ হোসেনের সই করা এক আদেশে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ১২টি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছে; যার মধ্যে ১০টি গাড়ি শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এসব গাড়ি খোলা দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে বিক্রীত অর্থ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা খাতে ব্যয় করতে হবে। অন্য কোনো খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। পুরো বিষয়টি নজরদারি করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকেও অনুরোধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

যে ১০টি গাড়ি বিক্রি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ভোগ পি ৪০০ ই, মডেল-২০১৯, হার্ড জিপ রেঞ্জ রোভার অটোবায়োগ্রাফি মডেল ২০১৯, কার স্যালুন মার্সিডিজ বেঞ্জ মডেল ২০১৯, হার্ড জিপ (টয়োটা প্রাডো টি এক্স) মডেল-২০১৫, হার্ড জিপ রেঞ্জ রোভার ভোগ পি ৪০০ই ২০১৯ মডেলের গাড়ি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের মোবাইলে কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় গাড়ি কেনা প্রসঙ্গে মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, 'এটা একটা আর্থিক স্বেচ্ছাচারিতা। বিশ্ববিদ্যালয় যত আয় করবে, তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ চালিয়ে যা অতিরিক্ত থাকবে, সেটা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য উন্নয়নকাজ করা হবে। ট্রাস্টিদের জন্য গাড়ি কেনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না।'

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com