স্বীকৃতি

ছয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পেল পুরস্কার

সুপার-সমকাল আর্থকোয়েক প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যাওয়ার্ড

প্রকাশ: ১৮ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৮ মে ২২ । ০১:৩৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

সুপার-সমকাল আর্থকোয়েক প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার অতিথিদের সঙ্গে বিজয়ীরা - সমকাল

দেশে প্রথমবারের মতো ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড-সংক্রান্ত দুর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তুতিতে উৎসাহিত করায় সুপার-সমকাল আর্থকোয়েক প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দুই সাংবাদিক ও চার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি আরমান হক। সুপার-সমকাল আর্থকোয়েক প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যাওয়ার্ডের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- ইউএনইএসসিএপি সাসটেইনেবল বিজনেস নেটওয়ার্ক টাস্কফোর্স অন ডিজাস্টার অ্যান্ড ক্লাইমেট রিস্ক রিডিউশনের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, একশনএইড বাংলাদেশের সুপার প্রকল্পের কনসোর্টিয়াম ম্যানেজার আ ম নাসির উদ্দিন, ইউনাইটেড পারপাসের বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীরামাপ্পা গনচিকারা এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অপারেশন্স ও প্রোগ্রাম কোয়ালিটি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর চন্দন জেড গোমেজ।

পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই গণমাধ্যকর্মী হলেন- দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার বাহরাম খান ও বাংলাভিশন অনলাইনের স্টাফ রিপোর্টার কেফায়েত শাকিল। বেসরকারি খাতের চারটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এফ আর খান, প্রিমিয়ার ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, বিবিএস কেবলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল হাসান ও ইউনাইটেড শক্তি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. তাজমির আলম পুরস্কার গ্রহণ করেন। পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যক্রম প্রতিযোগিতার আওতাভুক্ত হয়। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে একটি জুরি বোর্ডের মাধ্যমে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নির্বাচিত করা হয়। জুরি বোর্ডে ছিলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মোহাম্মদ খান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান ও সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান।

স্ট্রেংদেনিং আরবান পাবলিক প্রাইভেট প্রোগ্রামিং ফর আর্থকোয়েক রেজিলিয়েন্স (সুপার) প্রকল্প একটি কনসোর্টিয়াম প্রকল্প। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সিভিল প্রটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইডের (ইসিএইচ) আর্থিক সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে একশনএইড বাংলাদেশ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), ইউনাইটেড পারপাস এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।

পুরস্কার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে মো. কামরুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে রোল মডেল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে প্রাইভেট সেক্টর বড় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণে আরও সফলতা আসবে বলে বিশ্বাস করি।

মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। কিন্তু এ দেশের মানুষ অত্যন্ত সহনশীল। দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্জন বেশ প্রশংসনীয়। তবে দেশে ভূমিকম্পসহ নানা দুর্যোগ বেড়ে যাচ্ছে। এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সমকাল এ ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এর আগে সকালে প্রথম পর্বে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং সুপার প্রজেক্ট কনসোর্টিয়াম আয়োজিত 'দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ' শীর্ষক জাতীয় সিম্পোজিয়ামে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে কোনো দেশের জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত; বেসরকারি খাতের উৎপাদন ও সরবরাহ থেকে শুরু করে সার্বিক বিপণন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। এ অবস্থায় যে কোনো দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষতা অর্জনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান বলেন, দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা চেম্বারের সহায়তায় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে 'প্রাইভেট সেক্টর ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার' স্থাপন করা হয়েছে, যেটি আমাদের বেসরকারি খাতের দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করবে। সংশ্নিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে তার মন্ত্রণালয় 'স্টেট অব দি আর্থ ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার' স্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলায় ডাটাবেজ প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত অ্যালেন এল ডেনেইগা বলেন, ঝুঁকি মোকাবিলায় তার দেশ জাতীয় বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। ২০১৮ সালে সারা পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো ফিলিপাইন 'প্রাইভেট সেক্টর ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার' স্থাপন করেছে।

ইকোর প্রধান অ্যানা অরল্যানডিনি বলেন, টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি দেশকেই তাদের নিজস্ব কাঠামোর সঙ্গে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা অপরিহার্য।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব খুবই বেশি। এ ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বেসরকারি খাতকে কার্যকর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।

একশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর বলেন, বেসরকারি খাতের স্বার্থে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা সম্প্রসারণে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত অপরিহার্য।





© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com