নারায়ণগঞ্জে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

হামলায় দুই দিনে আহত ৫

প্রকাশ: ১৭ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৭ মে ২২ । ০১:৫৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে বেপরোয়া কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীরা। ১১ মে গলাচিপার বোয়ালিয়া খাল এলাকায় এভাবেই সংঘাতে জড়াতে দেখা যায় কিশোরদের সমকাল

নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীরা। ধারালো অস্ত্র হাতে দল বেঁধে চলা, পথিমধ্যে প্রকাশ্যে কাউকে কুপিয়ে জখম করা তাদের কাছে স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও তেমন সরব দেখা যায় না।

নারায়ণগঞ্জের পাড়া-মহল্লা, অলি-গলিতে গড়ে উঠছে একের পর এক কিশোর গ্যাং। অসচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসা বখাটেদের পরিচয় অনেক সময় জানা যায় না। গত ১৩ ও ১৪ মে এদের হামলায় আহত হয়েছে ৫ জন। এর আগে এক সাংবাদিকের ওপরেও হামলা হয়েছে। গত ৩ এপ্রিল প্রথম রোজার রাতে নারায়ণগঞ্জ নগরের জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহর সামনে কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজের ছেলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহমেদ অনন্ত শাহ। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা হলে পুলিশ ৩ কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। তবে দ্রুতই তারা জামিনে মুক্ত হয়।

গত ১৩ মে রাতে নগরের গলাচিপা বোয়ালিয়া খাল এলাকায় কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক অগ্রবাণী পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক রশিদ চৌধুরী ও পথচারী মো. জসিম। আহত রশিদ চৌধুরীর ভাষ্য, বোয়ালিয়া খাল এলাকায় কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্র হাতে মহড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দিন আগে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ত্র হাতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই যুবককে কোপাচ্ছে। সেই ভিডিওর সূত্র ধরে তাদের পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। এর জের ধরে তার ওপর হামলা হয়েছে বলে তার ধারণা।

এদিকে গত ১৪ মে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর থানা এলাকায় ৩টি হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় ২ শিক্ষার্থীসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফতুল্লার দেওভোগ পানির ট্যাঙ্ক এলাকায় মিরাজুল ইসলাম দিপু, সিদ্ধিরগঞ্জে কলেজ শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন রিয়াদ ও বন্দরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রিফাত ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। এসব ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তেমন তৎপরতা নেই।

১৪ মে মিরাজুল ইসলাম দিপুকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় দায়ের মামলায় ১৫ মে পুলিশ নোয়াস নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। অন্য ঘটনাগুলোতে কোনো গ্রেপ্তার নেই।

ফতুল্লার জামতলা-ঈদগাহ এলাকায় আবদুর রহমান বল্টু, বোয়ালিয়া খাল ও দেওভোগ পানির ট্যাঙ্ক এলাকায় বুইট্টা মাসুদ ও শান্ত, সিদ্ধিরগঞ্জে সাকিব ও বন্দরে খান মাসুদ কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা কী- জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জয়েদুল আলম বলেন, অভিভাবকদের অনুরোধ করব, তারা যেন সন্তানদের সন্ধ্যার পর কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে যেতে না দেন। অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার মধ্যে ফতুল্লার বোয়ালিয়া খাল এলাকার ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অন্য ঘটনাগুলো কিশোরদের মধ্যে ঘটলেও সেগুলো ছিল নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের। সব ঘটনাতেই পুলিশের সতর্ক নজরদারি রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান বিষয়ে কোনো খবর থাকলে তা পুলিশকে অবহিত করতে তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।









© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com