স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

নন্দিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

প্রকাশ: ১৭ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৯ মে ২২ । ১৮:৪৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমির হোসেন আমু

আমির হোসেন আমু

পঁচাত্তর সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ শেখ হাসিনা তার স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং ছেলে-মেয়ে জয় ও পুতুলকে নিয়ে পশ্চিম জার্মানিতে যান। জার্মানিতে থাকার কারণেই তাঁরা বেঁচে যান।


বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যে সামরিকতন্ত্র এই দেশের মানুষের বুকের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে হত্যা করে সংবিধানের চার মূলনীতি ফেলে দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা পুনঃপ্রবর্তন করেছিল; সেই অপশক্তি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নব্য পাকিস্তান সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিল। এ সময় দেশে চলছিল দল ভাঙার রাজনীতি, যা থেকে আওয়ামী লীগও রেহাই পায়নি।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের চরিত্র হনন, জিয়াউর রহমান ঘোষিত আই শ্যাল মেক পলিটিকস ডিফিকাল্ট ফর পলিটিশিয়ান্স-এর মতো বিরাজনীতিকীকরণের হুঙ্কার ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। হোন্ডা-গুন্ডা-স্টেনগানের মাধ্যমে ভোট ব্যবস্থা বিধ্বস্ত ও গণতন্ত্র হত্যা, জেল-জুলুম, গুম, হত্যা, নির্যাতনে মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছিল অতিষ্ঠ। রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ১৯৭৮ সালে জেল থেকে বেরিয়ে আমি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বপ্রথম দাবি তুলেছিলাম। ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকন্যাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জনমত সৃষ্টি করতে যুবলীগ সারাদেশে প্রচারপত্র ও লিফলেট বিতরণ করে। ওই পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি ও বিভিন্ন জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমন্বয়ে গঠিত সাবজেক্ট কমিটির মিটিং শুরু হলে সর্বজনাব আব্দুল মালেক উকিল, এম. কোরবান আলী, আবদুস সামাদ আজাদ ও ড. কামাল হোসেনের নাম সভাপতি পদে প্রস্তাবিত হয়। তখন হাউস থেকে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বলা হয়। তারা ভেতরের রুমে বসে কিছুক্ষণ আলোচনা করে শেখ হাসিনাকে সভাপতি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসেন। সরাসরি ইডেন হোটেলের কাউন্সিলে আব্দুল মালেক উকিল শেখ হাসিনার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে স্লোগান ওঠে- জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু।

সর্বসম্মতভাবে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি পিতা-মাতা, স্নেহের রাসেলসহ ভাইদের হারিয়ে স্বজনহারা বুকভরা বেদনা নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করেন। ৬৫-৭০ মাইল বেগের ঝড়-ঝঞ্ঝা, প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ তাকে স্বাগত জানায়। মনে হচ্ছিল, মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়ই ছুটে এসেছে। বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগরে ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় তার সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি জনতার উদ্দেশে বলেন, খুনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জনগণের কোনো কল্যাণ করতে পারে না। যেদিন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে; বঙ্গবন্ধুর ২য় বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে, সেদিন বাংলা শান্ত হবে। শোষণমুক্ত সমাজ, শোষণহীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সোনার বাংলা কায়েমের সংগ্রামের ঘোষণা দিয়ে তিনি ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।



তিনি বলেন, আমি নেতা নই, সাধারণ মেয়ে; বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার একজন কর্মী। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য আপনাদের নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাব। এই সংগ্রামে জীবন দিতেও আমি প্রস্তুত।

জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে বঙ্গবন্ধুর মতো অকুতোভয় নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা ও মূল্যবোধকে হত্যা করা হয়েছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ সংবিধানে জাতীয় চার মূলনীতি পুনঃস্থাপন করেন; যে অবৈধ ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল, তা তুলে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করেন; যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচার অনুষ্ঠিত করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে পাপমুক্ত করছেন। এক কথায় তার নেতৃত্বে আমরা ২য় মুক্তিযুদ্ধ করেই এ অর্জন করেছি।


শেখ হাসিনা নির্ভীক, তেজস্বী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে এবং সফল রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্ত ও পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার বাস্তব প্রতিফলন দেখিয়েছেন। তিনি আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের নির্মাতা ও উন্নয়নের কাণ্ডারি; উন্নত, সমৃদ্ধ, মর্যাদাশীল বাংলাদেশ নির্মাণের রূপকার। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে এবং দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। তাঁর সফল নেতৃত্বে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্প, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেল প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, পায়রা বন্দর, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দরসহ মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাস, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, শিক্ষানীতি প্রণয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, জঙ্গি দমন, গণতন্ত্র, শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে তিনি বহু মর্যাদাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্বমর্যাদায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। শেখ হাসিনা আজ বিশ্বে একজন নন্দিত সফল রাষ্ট্রনায়ক। তিনি সৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্বে তৃতীয় স্থানের অধিকারী হয়েছেন।


বৈশ্বিক মহামারি করোনা মোকাবিলায় শেখ হাসিনার সফলতা জাতিসংঘ, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বসসহ সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। আজ তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর ঘোষিত ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে বাংলাদেশ। তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি।


আমির হোসেন আমু আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য; কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com