শ্রীলঙ্কা সংকট

নতুন প্রধানমন্ত্রীও চান প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

প্রকাশ: ১৬ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২২ । ১১:৪০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভকারীরা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন। আর নজিরবিহীন এক ঘোষণায় দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। গোটাবায়াই তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।

ভারতের টেলিগ্রাফ পত্রিকার খবরে বলা হয়, ৯ এপ্রিল থেকে কলম্বোর জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত গ্যালে ফেস গ্রিনে শিবির স্থাপন করে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন একদল তরুণ। প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিবিসিকে বলেছেন, তিনি 'গোটা গো হোম' দাবি তোলা প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই তরুণ বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতের নীতি তৈরিতে তাদের মতামত চাওয়া হবে।

বিবিসি সিংহলা সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে 'গোটা গো হোম' প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে এবং দেশের তরুণদের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। তবে রনিলকে রাজাপাকসে পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে মনে করা হয়।

এদিকে কারফিউ লঙ্ঘন, জনসাধারণের ওপর হামলা এবং সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতিসাধনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৮ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র নিহাল থালডুয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। অন্যদিকে বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা পালনের জন্য শ্রীলঙ্কাজুড়ে জারি থাকা কারফিউ রোববার তুলে নেওয়া হয়েছে। বৌদ্ধ অধ্যুষিত দেশটির নাগরিকরা এদিন সব ভুলে প্রার্থনা ও উৎসবে মেতে ওঠেন।

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত-বিক্ষুব্ধ শ্রীলঙ্কানদের জীবনে খানিকটা শান্তির পরশ হয়ে এসেছে বুদ্ধপূর্ণিমা। এদিন অনেক সরকারি ও বেসরকারি ভবনে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতীক নানা রঙের পতাকা উড়তে দেখা যায়। লোকজন পুরো সাদা রঙের পোশাক পরে মন্দিরে প্রার্থনা করতে যান। সেই প্রার্থনায় তারা নিশ্চিতভাবেই দেশে শান্তি কামনা করেছেন।

তামিল বিদ্রোহীদের নিয়ে ভারতের খবর নাকচ : ভারতের গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে দেশটির দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শ্রীলঙ্কার তামিল বিদ্রোহীরা (এলটিটিই) নতুন করে সংঘবদ্ধ হতে শুরু করেছেন। আবার শ্রীলঙ্কায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন তারা। তবে শনিবার শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হিন্দুর এ প্রতিবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

সম্প্রতি দ্য হিন্দু প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় খবরটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, 'এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমন নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে আমরা কোনো গোয়েন্দা সতর্কতা পাইনি।' দেশটির অনেক রাজনীতিকও এ খবরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com