গাজীপুরে দুই মহাসড়কে যান আছে, জট নেই

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২২ । ১৪:৩৯ | আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২২ । ১৪:৩৯

গাজীপুর, কালিয়াকৈর ও টঙ্গী প্রতিনিধি

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর ঈদের এই খুশি ভাগাভাগি করে নিতে গ্রামের বাড়ি ছুটছে মানুষ। এর মধ্যে শুক্রবার সপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় চাপ বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের। লঞ্চ, ট্রেনের পাশাপাশি মহাসড়কেও বেড়েছে ইদযাত্রায় সামিল হওয়া যাত্রীদের চাপ। আর তাতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহাসড়কে যানজট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে গাজীপুরের দুই মহাসড়ক যেন তার ব্যক্তিক্রম।

গাজীপুর ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান থাকলেও কোনো জট দেখা যায়নি। তবে দুই মহাসড়কেই যানবাহন ও ঘরমুখী মানুষের চাপ রয়েছে। যানজটে আটকা না পড়ায় ঈদযাত্রায় শামিল হওয়া ঘরমুখো মানুষ অনেকটা স্বস্তিতেই গন্তব্যে যাচ্ছেন। সড়কে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, আজ বিকেলের দিকে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের দুই মহাসড়কে যানবাহনের তেমন চাপ নেই। সড়কের পাশে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষমান যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ লাইন রয়েছে। গত দুদিন এই দুই মহাসড়কে থেমে থেমে গাড়ি চলাচল করলেও শুক্রবার সকাল থেকে কোথাও যানজট দেখা যায়নি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক

ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সেই চিরচেনা যানজট নেই। তবে স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে এখন তার সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। মাঝে মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। সেসব জায়গা আবার মাঝে মধ্যে ফাঁকাও হয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এসব জায়গা হচ্ছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কে নন্দন পার্ক এলাকা, কবিরপুর ও জিরানী এলাকা, পল্লীবিদ্যূৎ, জয়দেবপুরে বাইপাস মোড়।

চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কথা হয় দিনাজপুরগামী মাইদুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, বাসের চালক ও সহযোগীরা ভাড়া বৃদ্ধি করায় কিছুটা বিপাকে পড়তে হয়েছে। এখানে ভাড়া যাতে ইচ্ছামতো না নিতে পার তার জন্য কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

শফিপুর নিট এশিয়ার পোশাক তৈরির কারখানার শ্রমিক শিশির জানান, বগুড়া যেতে অন্য সময় ৪০০ টাকা বাস ভাড়া ছিল। কিন্তু এখন ভাড়া চাচ্ছে ১ হাজার টাকা। যার যেমন খুশি ভাড়া আদায় করছে। ভাড়া নিয়ে তাদের সঙ্গে কিছু বলতে গেলেই ঝগড়া–বিবাদ করতে হচ্ছে।

কোনাবাড়ি (সালনা) হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন জানান, চন্দ্রা ত্রিমোড় উত্তরবঙ্গের মুখস্থল। এখান থেকে ২৩ জেলার যানবাহন যাওয়ায় যানবাহনের চাপ থাকে। চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় বাসস্টেশন হওয়ায় এখানে সব সময় যানবাহনের চাপ থাকে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যাত্রীর চাপ বেশি থাকলেও পরিবহন ছিল কম। শুক্রবার পরিবহন বেশি, কিন্তু যাত্রী কম। আশা করছি, বিকেলে সড়কে যাত্রী ও পরিবহনের চাপ বাড়তে পারে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

ঈদযাত্রার আগে বড় আশঙ্কা ছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিআরটি প্রকল্পের কাজের কারণে এবার ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হবে। আর বৃষ্টি হলে যানজটের ভোগান্তি আরও বাড়ত। তবে এসব আশঙ্কা দূর করে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলাচল করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর সড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ ছিল। তবে সন্ধ্যার পর তা আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। শুক্রবার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও যানজট নেই।

এদিকে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা ছিল। তবে এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এখনো পর্যন্ত তেমন যানজট চোখে পড়েনি। তবে ইজিবাইক ও ফুটপাতে মহাসড়কের কিছু অংশ বেদখল হয়ে যাওয়ায় কিছু জায়গায় যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, এখন পর্যন্ত সবার সহযোগিতায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল একেবারেই স্বাভাবিক আছে। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com