'অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে নৈতিকতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও বিনা খরচে অভিবাসন' বিষয়ে সংলাপ

প্রবাসী কর্মীর ভালো-মন্দ সরকারকেই দেখতে হবে

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২২ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

--

অভিবাসন নিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় রেমিট্যান্সের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু রেমিট্যান্স যারা পাঠান, তাদেরও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠানো প্রবাসী কর্মীর ভালো-মন্দ সরকারকেই দেখা উচিত। কর্মীর সুরক্ষায় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিয়োগে নৈতিকতা এবং বিদেশ যাওয়ার খরচ শূন্যতে নামিয়ে আনতে হবে। বিনা খরচে অভিবাসন নিশ্চিত করতে হবে। গত ২৪ মার্চ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টাইমস মিডিয়া ভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। 'অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে নৈতিকতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও বিনা খরচে অভিবাসন' শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), সমকাল ও ডেইলি স্টার।



ইমরান আহমদ

স্বচ্ছ অভিবাসন নিয়ে কথা বললে অনিয়মের কথা এসে পড়ে। মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের চেষ্টার কমতি নেই। আমরা চাই, অভিবাসনপ্রত্যাশীর খরচ কম হোক। কর্মী যেখানে যেতে চায়, সেখানে যেতে যদি ১৮ মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা খরচ হয়, তাহলে সে উপার্জন করবে কখন? খরচ ওঠাবে কখন? ভিসাই তো দুই বছরের।

আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি মন্ত্রণালয়ে আসতে এবং সমস্যা সমাধান নিয়ে কথা বলতে; পরামর্শ দিতে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। এতে অনেক সাফল্য এসেছে। বিদেশগামীদের বীমা নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে। আগে যেখানে ৯৯০ টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে তারা দুই লাখ টাকা পেত, এখন ৪৯০ টাকা প্রিমিয়ামে চার লাখ টাকা পাচ্ছে। এখন আরও ভালো বীমার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের বীমার আওতা বিদেশে নেই।

করোনাকাল সবার জন্য সমস্যা ছিল। তারপরও করোনার মধ্যে পৌনে তিন লাখ কর্মী বিদেশ গেছে। চলতি অর্থবছরের ২২ মার্চ পর্যন্ত যে পরিমাণ কর্মী বিদেশ গেছে, তাতে জুনের মধ্যে সংখ্যাটি ১০ লাখ ছাড়াবে। তবে রেমিট্যান্স কমছে। কিন্তু

আমি এখনও আশাবাদী। এখন যারা বিদেশ যাচ্ছে, তারা রেমিট্যান্স পাঠাবে।

পরিকল্পনায় আমরা সুন্দর সুন্দর কথা বলি, কিন্তু কাজ করতে গেলে অনেক বাধা আসে। এ কারণে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা ও অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে মিড টার্ম সংশোধন প্রয়োজন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ রয়েছে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভা হবে। সেখানে অভিবাসনের বিষয় তোলা হবে।

স্বচ্ছ বা নৈতিক অভিবাসনের কথা বলা হচ্ছে। করোনাকালের জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। আমরা এখন প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছি। সারাদেশে ৪০০ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) হবে। ৪০টির নির্মাণকাজ চলমান। আমরা স্বচ্ছ ও সঠিক অভিবাসন চাই। বিদেশফেরতদের পুনর্বাসনে বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও আসল কাজ শুরু করেছে করোনাকালে। ২১২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বিদেশফেরতদের।

সরকারের অনেক নার্সিং কলেজ রয়েছে। কিন্তু এখানকার শিক্ষার্থীরা বিদেশে কাজ পায় না। কারণ তারা বিদেশে চাকরির উপযোগী প্রশিক্ষণ পায় না। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানিতে প্রচুর স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এ জন্য ওইসব দেশের ভাষা জানা কর্মী প্রয়োজন। জার্মানির চার লাখ স্বাস্থ্যকর্মী দরকার। যুক্তরাজ্যের দেড় লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা রয়েছে। কর্মীদের বিদেশি ভাষা শিখতে হবে। চীনা ভাষা শিখুন। সেখানে তারা চাকরি নিয়ে অপেক্ষা করছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছি।

দক্ষতার কথা সবাই বলছেন। কিন্তু কিছু সমস্যা রয়েছে। নিয়োগকারীর চাহিদা অনুযায়ী কর্মী তৈরি করতে হবে। সে অন্য জায়গা থেকে কর্মী নিয়োগ করে ফেলবে। নিয়োগকারী সব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস নেই। ওইখানে এমন কেউ থাকতে হবে, যে কর্মীর চাহিদাপত্র পাঠাবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া ঠিক আছে কিনা, তা নিশ্চিত করবে।

বাজেটে প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে আসলেই বরাদ্দ প্রয়োজন। এ জন্য পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় মধ্যবর্তী পরিমার্জন প্রয়োজন। ডাটাবেজ নিয়ে কাজ হচ্ছে। কিন্তু তা পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়। ডাটাবেজে সবকিছু থাকতে হবে। যারা বিদেশ যাচ্ছে, তাদের সেখানেই নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকা উচিত বাংলাদেশ দূতাবাসে। নিবন্ধন করলে তবে দূতাবাস সেবা দেবে। এটা তখনই সম্ভব, যখন সবকিছু ইন্টিগ্রেটেড হবে।

বিদেশ যেতে কাগজে-কলমে খরচ থাকে এক লাখ টাকা। কর্মীর কাছ থেকে নেওয়া হয় চার লাখ টাকা। কিন্তু এ জন্য কাউকে ধরা যায় না। কারণ সব অদৃশ্য; প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ জন্য একটা উপায় খোঁজা হচ্ছে। বিদেশ যাওয়ার আগে নয়; যখন একজন কর্মী বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, তখনই প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (পিডিও) করতে হবে। পিডিও করার সময় চুক্তিপত্র নিয়ে আসতে হবে। তখন সে জানতে পারবে কোন এজেন্সির মাধ্যমে, কত টাকায় বিদেশ যাচ্ছে। যে বিদেশ যাচ্ছে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট হয়; স্মার্টকার্ড হয়নি। এ অনিয়ম যারা করছে, তাদের ধরা হবে।

স্বচ্ছ অভিবাসন ও অভিবাসন ব্যয় কমাতে কারও কাছে আইডিয়া থাকলে মন্ত্রণালয়ে পাঠান। ভালো আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে হবে। ধীরে ধীরে অভিবাসন ব্যয় কমানো বলে কিছু নেই। রাতারাতিই তা করতে হবে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আলোকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসন সুনিশ্চিত করতে আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে। এ জন্য অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে ব্যয় নির্ধারণ করা জরুরি। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার এবং আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।



ড. শামসুল আলম

বছরে ছয় লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়। কিন্তু সাত লাখ করে গেছে। আগে আমাদের প্রায়ই কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডিফিসিট থাকত। এখন রপ্তানি ও রেমিট্যান্স

মিলে যে ডলার আসে তাতে ঘাটতি নয়, উদ্বৃত্ত থাকে। এর মূল কারণ রেমিট্যান্স।

করোনায় অনেকের ধারণা ছিল, রেমিট্যান্সে ধস নামবে। কিন্তু সৌভাগ্য, রেমিট্যান্স ১৮ বিলিয়ন থেকে ২২ বিলিয়ন হয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্য প্রশান্তি। বাজেট ঘাটতি ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ করোনার টিকা কেনায়। তার পরও খুব বড় বাজেট ঘাটতি হয়নি রেমিট্যান্সের কারণে। রেমিট্যান্সের ৯০ শতাংশ গ্রামে খরচ হয়। করোনার সময় তা অর্থনীতি সচল রেখেছে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অভিবাসন খাতকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 'জিরো মাইগ্রেশন কস্ট' মানে নিয়োগকারী সব খরচ দেবে। সরকারও পিছিয়ে নেই। কেউ বিদেশে চাকরি পেলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে। আইনগত যা যা প্রয়োজন ছিল, তা সরকার করেছে। তার মানে, এখানেই শেষ নয়।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) বলা হয়েছে তাদের প্রশিক্ষণ মডিউল উন্নত করতে। শ্রমবাজারের চাহিদার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। আধা, অদক্ষ কর্মীর চাহিদা কমছে। বাংলাদেশের চেয়ে ফিলিপাইনের প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা কম বলে তারা রেমিট্যান্স বেশি পাচ্ছে। নেপালও এগিয়ে যাচ্ছে। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে। দক্ষতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

দেশে অনেক কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রশ্ন হলো- সেগুলোর মান কেমন? প্রচুর নার্স পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। সিলেটের গ্র্যান্ড সুলতান হোটেলের প্রায় সব কর্মী ফিলিপাইনের। আমাদের তাদের মতো দক্ষ কর্মী তৈরি করতে হবে। বিদেশি কর্মী নিয়োগে দোষের কিছু নেই। আমরা কর্মী পাঠাব, আবার কর্মী নেবও। আইসিটি, অটোমেশন, রোবোটিক খাতে কর্মী তৈরি করতে হবে।

কূটনীতির আগের ধারণা বদলে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও দেখেছে। এখন কূটনীতি ও বাণিজ্য মিলে একটি মন্ত্রণালয়। বহু দেশে বাংলাদেশের শ্রম উইং আছে। কিন্তু খুব বেশি লাভ হচ্ছে? দেশে এত রিক্রুটিং এজেন্সি! প্রতিযোগিতা থাকার কথা। কিন্তু প্রতিযোগিতার বদলে কেন অভিবাসন ব্যয় বাড়ছে, তা নজরদারি করতে হবে। রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তারা মুনাফা করবেই। কিন্তু অতি মুনাফা যেন না করে। বিদেশে সরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর পদ্ধতি আমার কাছে কার্যকর মনে হয় না। সরকার এটা পারবে না। সরকারের কাজ ব্যবসা নয়। শ্রমবাজার তৈরি, গবেষণা ও চাহিদাপত্র আনার কাজ এজেন্সিকেই করতে হবে। সরকারকে নজরদারি করতে হবে। আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দুর্বল। সেগুলোর দক্ষতা বাড়াতে হবে। যেসব কলকারখানা রয়েছে, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তাদের যেমন কর্মী প্রয়োজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তেমন কর্মী তৈরি করতে হবে। ভারত আইসিটি খাতে বিপল্গব করেছে এই প্রক্রিয়ায়। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রয়োজনে অবশ্যই মিড টার্ম রিভিউ করা হবে।



শহীদুল হক

এখনও অভিবাসন খাতে কোনো পদ্ধতি কাজ করছে না। ব্যবসা মানে ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসায়ী লাখ টাকা মুনাফা করতে চাইবে। এটি ঠেকাতে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রাতারাতি অভিবাসন ব্যয় কমবে না। কিন্তু দেশে কিছু এজেন্সি আছে, যারা স্বচ্ছ অভিবাসন করে। তারা রাতারাতি বড় লোক হতে চায় না।

এই প্রথম প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে তা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নয়। ব্যক্তির ওপর নির্ভর করছে। এ ধারা থেকে বের হয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা দাঁড় করাতে হবে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অভিবাসন মানে ছিল শুধুই রেমিট্যান্স। রেমিট্যান্সের পেছনে যে একজন মানুষ আছে, তা দেখা হয়নি। সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তা দেখা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যা ও মানব পাচার নিয়ে কোনো এক দলের সরকারের সময় কথা বলতে চেয়েছিলাম। সেই মন্ত্রী আমাকে কক্ষ থেকে বের করে দিতে চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, 'আপনারা জাতিসংঘের লোকরা সমস্যা তৈরি করে নিয়ে আসেন।' সমস্যা স্বীকার করলে সমস্যা অর্ধেক সমাধান হয়ে যায়। আমলারা সমস্যার কথা বলতে চান না। চাকরিরত অবস্থায় তো আরও বলেন না।

ভারত অভিবাসন খাতে একটি 'সলিড সিস্টেম' তৈরি করেছে। তারা কর্মীদের বীমা নীতি করেছে। বীমার প্রিমিয়ামের ২৫ শতাংশ কর্মী, ২৫ শতাংশ এজেন্সি এবং ৫০ শতাংশ সরকার দেয়। বীমা কর্মীর জন্য অনেক বড় শক্তি। কিন্তু সরকার কিছু টাকা দিলেও 'জিরো কস্ট মাইগ্রেশন' হয় না। নেপাল, ভারতে খুব শক্ত আইন রয়েছে। কিন্তু সেখানে এজেন্সি বেশি মুনাফা করলে জেলে যেতে হয়। বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশ যাবেন, তাদের জন্য এমন নীতি-সহায়তা দিতে হবে। বিদেশে বীমা করতে হবে। বাংলাদেশিরা যেখানেই যাবেন, সেখানেই সরকারের সহাযোগিতা দিতে হবে। প্রয়োজনে সরকারের উদ্যোগী হতে হবে শ্রমবাজার তৈরি ও কর্মীর চাহিদাপত্র আনতে। বাজার ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

নৈতিক নিয়োগ ও অভিবাসন খরচ কমাতে এথিক্যাল পয়েন্ট অব ভিউ থেকে অভিবাসনের ব্যয় নির্ধারণ এবং বিদেশে এই অভিবাসীদের নিয়োগকর্তাদের অভিবাসন ব্যয় বহনে অংশ নিতে মাইগ্রেশন ডিপ্লোম্যাসিতে জোর দিতে হবে। নৈতিকতার ভিত্তিতে যারা প্রবাসী শ্রমিককে কাজ দেয়, সেই কোম্পানি ও বিজনেসের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।



মো. বিল্লাল হোসেন

ভিসা কেনাবেচা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এর শুরু বাংলাদেশে হয় না। শুরুটা হয় নিয়োগকারী দেশে। করোনায় ৬০ লাখ মানুষ মারা গেছে, যা খুবই দুঃখজনক। কিন্তু করোনা বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছে। কুয়েত, কাতার, ইতালি থেকে কৃষিকাজের কর্মীর চাহিদাপত্র আসছে। যুক্তরাজ্যে সোয়া লাখ নার্স দরকার। এগুলো বাংলাদেশের জন্য সুযোগ। করোনাকালে রেকর্ড ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

বোয়েসেল একমাত্র সরকারি এজেন্সি হিসেবে নৈতিক ও স্বচ্ছ অভিবাসন করে। ক্রোয়েশিয়ায় আজই ১০ জন কর্মী পাঠিয়েছে বোয়েসেল। পিডিও, সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ কর্মীপ্রতি মাত্র ৩৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় যে সময় লেগেছে, ভিসা আসতে তার চেয়ে বেশি সময় লেগেছে বাংলাদেশে ক্রোয়েশিয়ার দূতাবাস নেই বলে।

বোয়েসেল ২০২০-২১ অর্থবছরে ছয় হাজার এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২ হাজার কর্মী বিদেশ পাঠিয়েছে। একজন কর্মীও বিদেশে খারাপ নেই। জর্ডানে একজন কর্মীও মারা যাননি, নির্যাতিত হননি। কর্মী যিনি বিদেশ যাচ্ছেন, তারও দায়িত্ব রয়েছে। তিনি জানেন না, কোন এজেন্সির মাধ্যমে, কী কাজের জন্য বিদেশ যাচ্ছেন। তাহলে তো মুশকিল। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অভিবাসন ব্যয় কমাতে। কেউ যেন জমি বিক্রি করে বিদেশ না যান। কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার খরচ ঋণ হিসেবে দিতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক রয়েছে।



সসান আল হাবেবেহ

বাংলাদেশি কর্মীরা স্বচ্ছ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জর্ডান আসছেন। তারা সবাই ভালো আছেন। ট্রেড ইউনিয়নসহ নানাবিধ সুবিধা পাচ্ছেন। জর্ডানের নিয়োগকারীরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করেন। আমি মনে করি, বাংলাদেশ থেকে জর্ডানে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অভিবাসীরা যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, তার কারণ জর্ডানের পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের প্রবাসে যাওয়ার সব খরচ বহন করে এবং বোয়েসেল এ ক্ষেত্রে আমাদের একমাত্র বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করে। জিরো কস্ট মাইগ্রেশন এবং এমপ্লয়ার পে প্রিন্সিপাল অনুসরণে বোয়েসেলের সুস্পষ্ট নীতি ও নিয়োগকারীদের কমিটমেন্টের কারণেই আজ বাংলাদেশ থেকে জর্ডানে যাওয়া অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আমি মনে করি, এথিক্যাল মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে জিরো কস্ট মাইগ্রেশনের নীতি অনুসরণ করা বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে।



মো. মিজানুর রহমান
এক সময় সৌদি আরবে ১২ লাখ টাকায় কর্মী যেতেন। এখন এক লাখ ২০ হাজার টাকায় যাচ্ছেন। রিক্রুটিং এজেন্সিই কর্মী পাঠাচ্ছে। এজেন্সির সামনে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করলে আরও কম খরচে কর্মী পাঠানো সম্ভব। গত দুই মাসে প্রায় দুই লাখ কর্মী সৌদি আরব গেছেন। ৭৬ শতাংশের ক্ষেত্রে তাদের আত্মীয়স্বজন ভিসা পাঠিয়েছেন। এজেন্সি শুধু সেগুলো প্রক্রিয়াকরণে কাজ করছে। নারী কর্মী পাঠাতে একটি টাকাও লাগে না। নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অনেক ঘটনা ছিল। সামান্য একটি পরিবর্তনে নির্যাতন অনেক কমে এসেছে। অনেক দিন ধরে চেষ্টার পর মধ্যপ্রাচ্যের নারী কর্মীরা দেশে ফোন করার আইনি সুবিধা পেয়েছেন, যা নিয়োগের শর্ত। এ সুবিধার কারণে নির্যাতন অনেক কমে গেছে।

সৌদি আরবের এখন বিমান ভাড়া ৯৫ হাজার টাকা। পাসপোর্ট, মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য টাকা দিতে হয়। আগের স্মার্টকার্ড করাতে সরকারি ফি ছিল এক হাজার ২০০ টাকা। তা এখন চার হাজার ৮০০ টাকা। একজন কর্মীকে ১৮ মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা খরচ করতে হয় ভিসা কিনে বিদেশ পাঠাতে হয় বলে। মালয়েশিয়ায় ১০টি

রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠিয়েছিল। সরকার নির্ধারিত ব্যয় ছিল এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু কর্মীপ্রতি চার লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

বায়রা অনেক কষ্ট করে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে পেরেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বায়রাকে সম্পৃক্ত করতে হবে। মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচিতে অভিবাসন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যারা বিদেশ যেতে ইচ্ছুক, তারা তাহলে শৈশবেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে জানবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো স্বচ্ছ অভিবাসন, অভিবাসন ব্যয় নিয়ে বাংলাদেশে যেমন কাজ করছে; নিয়োগকারী দেশেও তেমন কাজ করা উচিত। তাহলে জিরো কস্টে কর্মী পাঠানো যাবে। ২০৪০ সালের মধ্যে বিনা খরচে অভিবাসন সরকারের ভিশন। আর আমরাও চাই এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন হোক।



শাকিরুল ইসলাম

আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নম্নতি হলেও এখনও অভিবাসনে অনিয়ম হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে একজন কর্মীকে বিদেশ যাওয়ার খরচ তুলতে ১৮ মাস কাজ করতে হয়। অর্থাৎ বিদেশ যেতে যে টাকা খরচ হয়, তা তার ১৮ মাসের বেতনের সমান। অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য কর্মীকেই দায়ী করা হয়। প্রশ্ন করা হয়- তিনি কেন এত টাকায় যাচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন তোলা উচিত- এত টাকা কেন দিতে বাধ্য হচ্ছেন? ৭০-৮০ শতাংশ রিক্রুটিং এজেন্সি দালালের মাধ্যমে কর্মী জোগাড় করে। ভিসা কিনে আনে। এ দুই কারণেই অভিবাসন ব্যয় বাড়ে। আইন সংশোধন করে দালালদের নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে শুধু আইন নয়; তার প্রয়োগও থাকতে হবে। বিদেশগামীদের একটি ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন। যেখানে একজন কর্মীর দক্ষতা ও যোগ্যতার সব তথ্য থাকবে। নিয়োগকারীর খরচে কর্মী নিয়োগের মডেল থাকতে হবে।



সৈয়দ সাইফুল হক

দক্ষ কর্মীকে ভিসা কিনে বিদেশ পাঠাতে হয় না। যতদিন ভিসা কেনাবেচা থাকবে ততদিন অভিবাসন ব্যয় কমবে না। এর সমাধান- কর্মীর দক্ষতা বাড়ানো। যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো আলোচনায় আটকে না রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে তা অনেক চ্যালেঞ্জিং। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বিদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর চাহিদাপত্র পায় না। নিয়োগকারীকে বা বিদেশের নিয়োগকারী এজেন্সিকে ঘুষ দিয়ে চাহিদাপত্র আনা হয়। বিদেশে ভিসা বিক্রি বন্ধে নিয়োগকারী দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। একটি দেশ বা সংস্থা ভিসা কেনাবেচা বন্ধ করতে পারবে না। রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স দেওয়ার আগে তার মার্কেটিং সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। বেশি সংখ্যায় কর্মী পাঠানোর চেয়ে নিরাপদ ও স্বচ্ছ অভিবাসনে জোর দিতে হবে। বাংলাদেশ থেকে কর্মীকে যে কাজে পাঠানো হয়, তা তিনি পান না। বিদেশ গিয়ে শ্রমিকের কাজ করেন। কারণ তার দক্ষতা নেই। বহু লোক এ কারণে মারা যাচ্ছেন। তাই নিয়োগকারী কর্মীর কাছ থেকে পয়সা নেয়। বিনা খরচে কর্মী পাঠাতে সরকারি বরাদ্দ লাগবে।




নুসরাত ফাতেমা গাজ্জালী

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অভিবাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিবাসন নিয়ে পরিকল্পনায় ১০টি পয়েন্ট রয়েছে। তারপরও অভিবাসীরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। জোরপূর্বক শ্রম আদায়, অনৈতিক নিয়োগ, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশ পাঠানোর মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। করোনায় কর্মীদের দুরবস্থা দেখা গেছে। পাঁচ লাখের মতো কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। তাদের পুনর্বাসনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ছয়, আট এবং নয় নম্বর এই তিনটি লক্ষ্যমাত্রায় অভিবাসীর ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে এথিক্যাল রিক্রুটমেন্ট, লো কস্ট মাইগ্রেশন (স্বল্প খরচে অভিবাসন), এমপ্লয়ার পে-মডেল (নিয়োগকর্তা অভিবাসনের ব্যয় বহন করবেন) এবং আইওএমের ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট ইন্টিগ্রিটি সিস্টেমের (আইরিস) কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনটি লক্ষ্যের ক্ষেত্রে নৈতিক (এথিক্যাল) প্রক্রিয়ায় অভিবাসনে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান সুস্পষ্ট করেছে। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে আইওএম সরকারের কাজ করতে ও সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে নিরলসভাবে কাজ করবে।

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসন অভিবাসী, তাদের পরিবার এবং দেশের উন্নয়নে নানাভাবে সহযোগিতা করে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন। কর্মী নিয়োগের বিষয়টি যে কোনো অভিবাসন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর একটি অপরিহার্য উপাদান।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা একটি পথপ্রদর্শক দলিল, যা ২০২৬ সালে দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বের হয়ে আসতে সহযোগিতা করছে। এটি ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং অভিবাসন বিষয়ক বৈশ্বিক দলিল জিসিএমের লক্ষ্যগুলো অর্জনেও সহায়তা করছে। অনেক সময় অভিবাসী শ্রমিকরা নানা শোষণের শিকার হন; যা শুরু হয় শ্রমিকদের নিয়োগের মধ্য দিয়ে। অভিবাসীরা অনেক সময় অনৈতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার শিকার হন। সেখানে তারা অতিরিক্ত ফি, ব্যক্তিগত নথি নিয়ে নেওয়া এবং আইনি সুরক্ষা পেতে বাধার মতো বিষয়ের মুখোমুখি হন।

আইওএম অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সমুন্নত রাখতে এবং তাদের সুরক্ষার জন্য সরকার, বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ড, সরবরাহকারী এবং নিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করে। আমরা বাংলাদেশে ওতপ্রোতভাবে কাজ করছি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় দারিদ্র্য বিমোচনে কৌশল হিসেবে অভিবাসনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায়

বিদেশে যেতে ইচ্ছুক অভিবাসী, বিদেশে থাকা অভিবাসী এবং ফেরত আসা অভিবাসীদের সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

এটি অর্জনে বাংলাদেশ সরকার, অভিবাসী গ্রহণকারী দেশ, নিয়োগকারী এবং অন্যান্য পক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা থাকা দরকার। আজকের এই বহুপক্ষীয় সংলাপ তারই একটি অংশ, যাতে আমরা সবাই অভিবাসনে নৈতিকতার পথকে সুসংহত করতে পারি।



আবু সাঈদ খান

সমকাল আশা করে, সরকার অভিবাসনে সব অনিয়ম, অস্বচ্ছতা দূর করতে শক্ত পদক্ষেপ নেবে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ধরনের উদ্যোগ নিলে সমকাল লেখনীর মাধ্যমে সমর্থন জানাবে। তবে অনিয়ম হলে তার কড়া সমালোচনা করবে। সরকারকে কঠোর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকতে হবে। কোনো এজেন্সি কর্মীদের প্রতারণা করলে তার কী পরিচয়- না দেখে আগে শাস্তি দিতে হবে। কর্মীদের নিরাপত্তায় সরকারকে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই কর্মীরাই করোনাকালে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন।



সঞ্চালনা


আবু সাঈদ খান

উপদেষ্টা সম্পাদক

সমকাল



প্রধান অতিথি


ইমরান আহমদ

মন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক

কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়



বিশেষ অতিথি




অধ্যাপক ড. শামসুল আলম

প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়



স্বাগত বক্তা



নুসরাত ফাতেমা গাজ্জালী

মিশনপ্রধান (ভারপ্রাপ্ত)

আইওএম বাংলাদেশ



আলোচক




শহীদুল হক

জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, আইওএম বাংলাদেশ

এবং সাবেক পররাষ্ট্র সচিব



মো. বিল্লাল হোসেন

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)



মো. মিজানুর রহমান

সাবেক প্রথম যুগ্ম মহাসচিব

বায়রা



শাকিরুল ইসলাম

চেয়ারপারসন

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ)



সৈয়দ সাইফুল হক

চেয়ারম্যান

ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন



সসান আল হাবেবেহ

নির্বাহী পরিচালক

জর্ডান গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন



আব্দুল্লাহ আল মুঈদ

ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার

আইওএম বাংলাদেশ



অনুলিখন




রাজীব আহাম্মদ

সিনিয়র রিপোর্টার

সমকাল

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com