শিশুর কথাই সবার আগে শুনতে হবে

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২২ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

--

করোনার অভিঘাতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে শিশুরা। কিন্তু তারা নিজেদের সমস্যার কথা নিজেরা বলতে পারে না। তাদের বলার জায়গাগুলো কম। করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে শিশুদের কথাই সবার আগে শুনতে হবে। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে  শিশুদের পাঠ্যক্রমেও পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। পড়া চাপিয়ে দেওয়ার বদলে শিশুদের কাছে সেটিকে উপভোগ্য করে তুলতে হবে।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনলাইনে আয়োজিত 'শিশুদের মুখেই শুনি শিশুদের কথা' শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। সমকাল, চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ (ক্রাক) এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

রাশেদা কে চৌধুরী

আজকে আমরা শিশুদের কথা শুনে উজ্জীবিত হয়েছি। আমাদের যে স্বপ্নগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে, সেগুলো তারা সুন্দরভাবে তুলে এনেছে। আমরা শিশু-কিশোরদের পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু দিয়ে ভারাক্রান্ত করে ফেলছি। তাদের তো ধারণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। ১০ বা ১৫ বছরের শিক্ষার্থী কতটুকু ধারণ করতে পারবে, তা নির্ধারণ না করেই আমরা পাঠ্যপুস্তক ঠিক করে ফেলছি। এ রকম হলে পুঁথিগত বিদ্যাটাই ধারণ করবে সে। মানবিক মূল্যবোধটা তার মধ্যে নির্মাণ হবে না। উন্নত বিশ্বে একটিভিটিবেসড লার্নিং প্রচলিত। সেখানকার এক শিক্ষার্থীর উদাহরণ দিতে পারি। আমাদের দেশে তৃতীয় শ্রেণি পড়ার সময়ে সে শিক্ষার্থী বাবা-মায়ের সঙ্গে কানাডাতে চলে যায়। এখন পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে পড়াশোনার কোন জিনিসটা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে? সে জানাল, স্কুলে কোনো হোমওয়ার্ক দেয় না। শিক্ষকরা খেলতে খেলতে তাদের নানা বিষয় শেখায়। এ বিষয়টিই তার ভালো লেগেছে। ওখানকার শিক্ষকরা প্রশিক্ষিত হওয়ার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থাটিও অনেক উন্নত হয়েছে। আমাদের দেশে পড়ানোর পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন প্রয়োজন। এখানে শিক্ষকরা ক্লাসে গাছের ছবি দেখিয়ে মূল, কাণ্ড, পাতা ইত্যাদি শিক্ষার্থীদের চেনাচ্ছেন। এর বদলে ক্লাসের বাইরে এসে একটি গাছ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালে তারা আরও বেশি শিখতে পারবে। এখানেই আমাদের শিক্ষক প্রশিক্ষণের মূল গুরুত্ব। বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। তোমাদের জানামতে যদি কোথাও বাল্যবিয়ে হয়ে থাকে, তাহলে তোমরা সেটি স্থানীয় উপজেলা অফিস বা থানায় জানাবে। অভিভাবকদের যতই দায়িত্ব দিই না কেন, আমাদের মনে রাখতে হবে অনেক অভিভাবকেরই শিক্ষার অভাব আছে। তাই তোমরা যারা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছ, তাদের দায়িত্বটাই বেশি। সেই সঙ্গে সমকালসহ দেশের গণমাধ্যমকেও এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশে অনেক কমিউনিটি রেডিও আছে। দেশের মানুষজন এগুলো শোনেন। আমাদের এগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। তাদের অনেক হটলাইন আছে। বলা হয়, কোথাও বাল্যবিয়ে হলে তাদের জানালে সেটি তারা প্রকাশ করে। আয়োজকসহ সবাইকে এটি ভাবতে হবে। মৌলভীবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি স্কুলে গিয়েছিলাম। সেখানে মেয়ে শিক্ষার্থীরা বলছিল, আমরা তো স্কুলে যেতে চাই, তবে বখাটেরা বিরক্ত করার কারণে বাবা-মায়েরা আমাদের বিয়ে দিয়ে দিতে চায়। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারেন। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনা প্রকাশ করতে পারে। এখানেও একটা কথা থেকে যায়, শিক্ষার্থীরাই বলেছে, অনেক সময় বখাটেরা সমাজে প্রভাবশালী হতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এতে।

নাসিমা বেগম

শিশুদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়েও আমি কাজ করেছি। এতে করে অনেক ভুক্তভোগী শিশুকে নিয়ে আমি কাজ করেছি। মানবাধিকার মানে কী? একজন শিশু জন্মের সময়ে যে অধিকার নিয়ে জন্মায়, সেটি মানবাধিকার। শিশুর অধিকার সবচেয়ে বড় মানবাধিকার, তাদের নিয়েই আমাদের ভবিষ্যৎ। আমি বলেছিলাম, শিশুর চাহিদা অনুযায়ী শিশু একাডেমির বাজেট বাড়ানো হোক। তবে সবকিছু চাইলেই সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। আজ এক শিশুর কাছে যা শুনলাম, এর সব যদি সত্য হয়ে থাকে, সেটি খুব দুঃখজনক। শিক্ষার্থী স্মিতা বলেছে, তাদের ওখানে নাকি টয়লেট নেই। আমরা বলি শতভাগ স্যানিটারি ব্যবস্থা রয়েছে দেশে, তাহলে আজকে এ কথা আমাদের শুনতে হবে কেন? কিশোরগঞ্জে একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বখাটের অত্যাচার সইতে না পেরে। আমাদের এসব বিষয় নিয়ে আরও গভীরভাবে কাজ করতে হবে। আগাগোড়াই বাবা-মায়ের কাছে বিয়ের ক্ষেত্রে প্রবাসী পাত্র লোভনীয় বস্তু হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রবণতা ও চিন্তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মেয়েরা আজকে এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে সব সেক্টরেই সফলতা পাচ্ছে। আমাদের এসব সফলতার গল্পগুলোকে আরও বেশিভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে অভিভাবকদেরও কাউন্সেলিং করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যে প্রতিষ্ঠানে বা বিষয়ে পড়তে চায়, তারা পারে না। বিষয়টি জেনে আমার কষ্ট হয়। কেউ ডাক্তার হবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার হবে, সেটি সিস্টেম ঠিক করে দেয়। পড়াশোনা করলে বড় কিছু করা যাবে, এমন একটি বোধ আমাদের জন্ম নিয়েছে। আমাদের স্বপ্ন হওয়া উচিত, মানুষের মতো মানুষ হবো। শিশুদের উদ্দেশে আমি বলব, আমি যখন এসএসসি পাস করি, তখন এমন বয়সের মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রচলন ছিল। আমার পরিবার তখন আমাকে অনেকভাবে সমর্থন করেছে। মাত্র তিন বছর বয়সে আমার হাতে গল্পের বই তুলে দেওয়া হয়। মাকে তখন বলেছিলাম, আমি পড়াশোনা করে এমন জায়গায় যাব যখন মানুষজন আমাকে রান্না করে খাওয়াবে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ার সময়ে বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। আমার বাবা তখন বিষয়টি প্রতিরোধ করেন। তাই আজকে আমি আপনাদের সামনে এসে কথা বলতে পারছি। অর্থাৎ, অভিভাবকের সচেতনতা একটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আমরা সামনে মানবাধিকার নিয়ে সবার জন্য একটি কোর্স চালু করতে চাই। বেশির ভাগ মানুষই মানবাধিকার সম্পর্কে জানে না। আমাদের বুঝতে হবে, আমার যে অধিকার সেটি কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

নীনা গোস্বামী

আমরা সংবিধানে দেখেছি, সেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা আছে। অথচ মেয়ে শিশুর বিয়ের বয়স ১৮ আর ছেলের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ বছর। তার মানে কন্যাশিশুদের জন্য আমরা ধরেই নিচ্ছি, মেয়েরা এসএসসি পাস করলে বিয়ে দিয়ে দেব। ছেলেদের ক্ষেত্রে বয়সটা এমনভাবে ধরা হয়েছে, যাতে সে স্নাতক ঠিকমতো পড়তে পারে। আমরা যদি সমঅধিকারের কথা চিন্তা করি, তাহলে দেখব পাশের দেশগুলোতে সমঅধিকার নিয়ে কাজ করা শুরু হয়েছে। তারা এক ধরনের সমতা নিয়ে আসছে। আমরা আইন ও সালিশ কেন্দ্র তো আছিই, বাকিদের সঙ্গে নিয়েও আমরা চেষ্টা করব বিয়ের নূ্যনতম বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমতা যেন থাকে। আমাদেরও এটি ভাবার সময় এসেছে।


ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ

শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া কেন প্রয়োজন এ কথাটি অনেকেই বলেছেন। শিশুকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে আমি অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার জন্য বলব। আমরা শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে শারীরিক বিকাশটাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। যেমন সে ঠিকমতো খাচ্ছে কিনা, লম্বা হচ্ছে কিনা, পড়াশোনা ঠিকমতো করছে কিনা বা জিপিএ ৫ পাচ্ছে কিনা ইত্যাদি। অথচ তাদের যে ধারণাগত বিকাশ বলে একটি বিষয় রয়েছে বা সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশ রয়েছে এবং তাদের নৈতিক চরিত্রের বিকাশ হওয়া উচিত, এসব বিষয়ে আমাদের অভিভাবকরা উদাসীন থাকেন। এই বিকাশগুলোকে যদি আমরা ঠিকমতো করতে না পারি, তাহলে মানুষ হিসেবে আমাদের পরিপূর্ণ বিকাশ হবে না। এই বিকাশ থমকে গেছে চারাগাছের মতো থাকা একটি শিশু কখনোই মহিরুহে পরিণত হতে পারবে না। এই শিশুদের ধারণাগত বিকাশের ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন ত্রুটিপূর্ণ ধারণা দিয়ে তাদের বড় করছি। অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের সামনে দেশ সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক কথা বলে থাকেন, যেমন এ দেশের কোনো উন্নতি হবে না, এ দেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই ইত্যাদি। এই কথাগুলো শিশুর ধারণাগত বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। সন্তানদের সামনে রাস্তার উল্টো দিক দিয়ে যাওয়াসহ অনেক নিয়ম আমরা ভাঙি বা মিথ্যা কথা বলি। এই বিষয়গুলো তাদের নৈতিকতার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তাদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশকে আমরাই দমিয়ে রাখি। আমরা ছেলেশিশুকে কাঁদতে দিই না এই বলে যে, ছেলেদের কাঁদতে হয় না। মেয়েদের খুব জোরে হাসতে নেই বলে তাদের হাসিটাকেও আমরা বাধা দিই। এসব জিনিসই তাদের আবেগীয় বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই বাবা-মায়েদের পরিবর্তনটা জরুরি, সেই সঙ্গে এই বিকাশটাও অনেক জরুরি। অনেকেই বলেন, শিশুদের পাঠ্যসূচিতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটি অধ্যায় যুক্ত করার জন্য। আমি শিশু-কিশোরের মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসক বলে শিক্ষা বোর্ডের অনেক সভাতেই অংশ নিয়ে থাকি। সেখানে যিনি মাদক নিয়ে কাজ করেন, তিনি বলেন মাদকাসক্তির কুফল নিয়ে অধ্যায় যুক্ত করতে। আবার যিনি বাল্যবিয়ে নিয়ে কাজ করেন, তিনি বলেন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও প্রতিকারে একটি অধ্যায় ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। অন্যরাও যার যার কাজের ক্ষেত্র অনুযায়ী সূচি নির্ধারণের পরামর্শ দেন। আমি বলি, শিক্ষার্থীদের বইগুলোতে যদি এত এত বিষয় ঢোকাই, তাহলে তারা রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত পড়তে পারবে না। তাই আমি কারিকুলামে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে রাজি নই। বর্তমানে আটটি ক্লাস হয় শ্রেণিগুলোতে। আমি বলব এত ক্লাসের দরকার নেই। চারটি বা পাঁচটি ক্লাস করালেই চলে। আমরা অনেকেই হয়তো মনে করছি, করোনা মহামারিতে আমাদের সন্তানরা পিছিয়ে যাচ্ছে। আমি কখনোই মনে করি না আমাদের সন্তানেরা পিছিয়ে যাচ্ছে। মহামারি থেমে গেলে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

নিশাত সুলতানা

শিশুরা মতামত দিতে গেলে পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। তোমাদের মনে যা আসে, তাই বলবে। তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হয়। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি কেন বাল্যবিয়ে সংঘটিত হচ্ছে, এর মূল কারণটা উদ্ঘাটন করতে হবে। অভিভাবকদের বোঝাতে হবে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বেশিরভাগ বাবা-মা জানেন, ১৮ বছরের নিচে কাউকে বিয়ে দিলে তা 'বাল্যবিয়ে' হয়। এত সচেতনতা তৈরির পরও কেন বাল্যবিয়ে হচ্ছে? তাই সচেতনতা তৈরিই যথেষ্ট নয়, এর কারণটা বের করতে হবে। অভিভাবককে বোঝাতে গেলে, তারা প্রশ্ন ছোড়েন, 'আমার মেয়েকে কি নিরাপত্তা দিতে পারবেন?' সেখানেই আমাদের আন্দোলন থেমে যাচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বাল্যবিয়ে বন্ধে তাদের সুবিধা বা স্বস্তির জায়গাটা কী বোঝাতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি উন্নয়নকর্মীসহ সর্বত্র মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর সহায়তায় জাতীয় হেল্পলাইন সেন্টার ১০৯, পুলিশের ৯৯৯, ৩৩৩ এই নম্বরগুলো সম্পর্কে জানাতে হবে। মানুষ এই সেবাগুলো সম্পর্কে জানে না। 'ওয়ার্ল্ডভিশন' ৫০ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আসলে আরও কাজ করতে চাই। বাল্যবিয়ে ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছি।

হালিমা আক্তার

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার জেরে লকডাউনের ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের শিশুদের ওপর। মহামারির কারণে শিশুশ্রম যেমন বেড়েছে, বাল্যবিয়ের হারও তেমন বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকা, দরিদ্রতা, নিরাপত্তীনতাই হচ্ছে বাল্যবিয়ে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। যদিও ২০১৪ সালে লন্ডন গার্লস সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করা হবে। সেই লক্ষ্যেই সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে চলেছে। বাল্যবিয়ে বন্ধে শিশুর শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। কারণ কভিডের সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে শিশুরা। যেসব শিশু অনলাইনে ক্লাস করছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তারাও বিরক্তবোধ করছে। আবার তৃণমূল পর্যায়ে বেশিরভাগ শিশুই অনলাইনে যুক্ত হতে পারেনি। এই কারণগুলো স্কুলবিমুখ করে তুলেছে অনেক শিশু শিক্ষার্থীকে। তাদের জন্য আনন্দময় শিক্ষাই পারে স্কুলে ফেরাতে। আগ্রহ তৈরি করতে।

মনিকা বিশ্বাস

সারা বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে ৩৭ বিলিয়ন শিশু যে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে, তা আমরা খুব সহজে মুছে ফেলতে পারব না। করোনা পরিস্থিতি এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সামনের দিনগুলোতে আমাদের আরও কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিশুর ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করতে, দেশকে নিরাপদ রাখতে আমাদের এখনই চিন্তাভাবনা শুরু করা উচিত। করোনার এই সময়ে শিশুরা বাল্যবিয়ে, নিরাপত্তাহীনতা এবং পরিবার অর্থকষ্টের কারণে শিশুশ্রমের শিকার হয়েছে। আমি বলি, আজকের শিশু আগামী দিনের নয়, আজকেরই ভবিষ্যৎ। দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এসব যোদ্ধার মূল অস্ত্র শিক্ষা। অথচ এই শিক্ষাক্ষেত্রেই শিশুরা ব্যাপকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। করোনাকালের দীর্ঘ লকডাউনের কারণে তারা পরিবারের পজিটিভ প্যারেন্টিং কেয়ার তারা পায়নি। অভিভাবকরাও এ বিষয়ে খুব বেশি সচেতন নন। ফলে শিশুদের মধ্যে এক ধরনের ট্রমা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব জায়গায় এ বিষয়ে সচেতন হতে আরও বেশি প্রচারণা চালানো উচিত। দীর্ঘদিন বাসায় থেকে অনলাইনে ক্লাস করার কারণে শিশুদের চিন্তাচেতনায়ও পরিবর্তন এসেছে। কিছুদিন আগে স্কুুল খোলার পর আমার সন্তানদের ক্লাস করতে পাঠিয়েছিলাম। ফেরার পর কেমন লেগেছে প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেছিল, অনলাইন মাধ্যমে পড়াশোনা নাকি বেশি ভালো ছিল। বেশির ভাগ শিশুই এখন সরাসরি স্কুলে গিয়ে ক্লাস করতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না। করোনা-পরবর্তী এই সময়ে তাদের সিলেবাসগুলোকে যদি একটু ভিন্নভাবে সাজানো যায়, তাহলে বোধহয় কিছুটা উপকার হবে।

নুয়ারা শফিক দিশা

প্রথমত শিশুরা নিজেদের সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের ওপরই নির্ভর করে। আমাদের ওপর ভরসা করে বলে তাদের তেমন 'কেয়ার' করি না বা করতে চাই না, 'ওরা কী বোঝে অধিকারের'- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যেই দেখা দেয়। ফলস্বরূপ নিজেদের সিদ্ধান্তগুলো শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিই। শিশুদের স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই। তাদের যদি মানসিকভাবে শক্ত রাখতে পারি, তাহলে শারীরিকভাবেও তারা সুস্থভাবে বিকশিত হবে। আমাদের আগামী প্রজন্ম যোগ্য হবে, মেধাবী হবে। শিশুবান্ধব পরিবেশ আসলে গড়ে তোলাটাই এখন মুখ্য সময়, যা ইতোমধ্যে বেশ খানিকটাই পার হয়ে গেছে। করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে গেছি।

ইশমিতা খালকো

আদিবাসী হওয়ায় এমনিতেই আমরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষাদানে আগের চেয়ে আমাদের বাবা-মায়েরা অনেকটাই সচেতন। তার পরও খুব কমসংখ্যক ছেলেমেয়ে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরের গণ্ডি পার হতে পারে। তবে করোনাকালে আমিসহ আমার এলাকার কোনো শিশুই ক্লাস করতে পারিনি। কারণ অনলাইনে ক্লাস হয়েছিল। যেখানে খেয়ে বেঁচে থাকাটাই আমাদের জন্য কষ্টের ছিল, সেখানে স্মার্ট মোবাইল ও ইন্টারনেট ডাটা কেনা ছিল অসম্ভব। ২০২০ সালের শুরু থেকে তীব্র খাবার সংকট, সংসার চালানোর দায়ে আমরা মাঠে নেমেছি। পড়ালেখা বন্ধ করে বেশির ভাগ মা-বাবা তাদের কন্যাশিশুকে বিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া আমাদের এলাকায় স্বাস্থ্যকর শৌচাগার নেই। ফলে খোলামেলা পরিবেশেই মলত্যাগ করতে হয়। কিশোরীরা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ন্যাপকিনও ব্যবহার করতে পারে না। কারণ ন্যাপকিনের দাম বেশি। এ কারণে মায়েরা আগ্রহ দেখান না। পরিবারও এ বিষয়ে সচেতন নয়। আমরা বলতেও সংকোচ বোধ করি। তাই বেশির ভাগ কিশোরী মাসিক চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

সামান্তা ইসলাম সামিয়া

কভিডকালে অন্যান্য স্কুলের মতো বন্ধ ছিল প্রতিবন্ধীদের বিশেষ স্কুলগুলো। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হলেও প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার জন্য বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিকল্প করণীয় সম্পর্কে তেমন কোনো উদ্যোগ দৃষ্টিগোচর হয়নি। স্বাভাবিক সময়েও প্রতিবন্ধী শিশুরা অন্যদের তুলনায় শিক্ষার সুযোগ ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া থেকে পিছিয়ে থাকে, পিছিয়ে থাকে উপার্জন এবং সামাজিক অংশগ্রহণ থেকেও। তারা বেশির ভাগই ভীষণ দারিদ্র্যময় জীবনযাপন করে এবং অনেক বেশি অবহেলা, হিংস্রতা ও খারাপ আচরণের শিকার হয়। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এই অসমতা আরও বেড়েছে। এ ছাড়া নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বাইরে যেতে না পারা, খেলার সুযোগ কমে যাওয়া, থেরাপি না পাওয়াসহ আরও বিভিন্ন কারণে প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে।

তারিক মুস্তাফিজ

করোনার সময়ে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই বছর ধরে অনলাইনে ক্লাস করেছে তারা। প্রায় সারা দিনই তাদের হাতে মোবাইল থাকত। নিজের ভাইয়ের ক্ষেত্রে দেখেছি, ও পড়ালেখার পাশাপাশি মোবাইলে গেম, ইউটিউব আসক্ত হয়ে পড়েছিল। সে পড়াশোনায় আগে যেমন মনোযোগী ছিল, এখন তেমনটা নেই। এই যে অনলাইনে আসক্তি, এটাই মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে। তাই বাবা-মায়েদের উচিত, তাদের সন্তানদের পাশে থাকা। সময় দেওয়া ও তাদের কথা শোনা।


কে এইচ খান রোহান

করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এলে ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ছুটিতে ধারাবাহিক পড়াশোনায় অনেক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস হওয়ায় স্বল্প সিলেবাসেই আমরা বার্ষিক পরীক্ষার মুখোমুখি হই। তবে স্বল্প সিলেবাস আয়ত্তে না নিয়েই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়েছে অনেককেই। ফলে অসম্পূর্ণ পড়াতেই পরীক্ষা নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মুখে পড়েছে। কারণ আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় পরিবার থেকে বাড়তি চাপ দেওয়া হচ্ছে। নিজের ও পরিবারের মধ্যে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব না মেলায় বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর মাঝে মানসিক রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সুস্থভাবে মেধার বিকাশ হচ্ছে না। তাদের মধ্যে যারা সচ্ছল পরিবারের, তারা অতিরিক্ত টিউশনের দিকেও ঝুঁকে পড়ছে। এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও অনলাইনে যে ক্লাসগুলো হয়েছিল, সেগুলো দ্বিতীয়বার পড়ানো হচ্ছে না। এতে যারা অনলাইনে ক্লাস করেনি, তারা ওই অধ্যায় সম্পর্কে জানতেই পারল না। পাঠ থেকে তারা সম্পূর্ণ বঞ্চিত হলো। সব শিক্ষার্থীর কল্যাণে সরকার যেন নির্দেশনা দেয়, প্রয়োজনীয় সিলেবাস সম্পূর্ণ করার জন্য ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়। এতে করে পরীক্ষা নিয়ে যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে পরিত্রাণ সম্ভব।

আঞ্জুমান আরা আকসা

শিশুর অংশগ্রহণ বা সর্বোচ্চ স্বার্থ, এটি শিশু অধিকার সনদের চার মূলনীতির একটি, যা শিশুসংশ্নিষ্ট সব পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শিশুর অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের বেঁচে থাকা, বেড়ে ওঠা বা উন্নয়ন এবং কল্যাণের বিষয়টিতে জোর দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই। পাশাপাশি শিশুর বাবা-মা এবং অন্যান্য লোকজন, যাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে শিশুর অধিকার পূরণের দায়বদ্ধতা রয়েছে, তাদের সমর্থন ও সহায়তা করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানায় এটি।

অথচ বাংলাদেশে শিশুর অংশগ্রহণের বিষয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। দেশে বেশির ভাগ পরিবারেই ছেলেবেলা থেকেই পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের মতামত চাপিয়ে দেয় শিশুর ওপর। আমাদের চারপাশে অনেক শিশুই এ রকম সমস্যা মুখোমুখি হচ্ছে। আমার অনেক সহপাঠী আছে, পরিবার থেকে তাদের ইচ্ছাগুলো চাপিয়ে দেয়। যেমন তাকে ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে হবে। এই যে মতামত চাপিয়ে দেওয়া, এটা কোনোভাবেই শিশুর জন্য মঙ্গলজনক নয়। তাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠায় বাধা তৈরি করছে। এজন্য শিশুর অংশগ্রহণ ও তাদের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা জরুরি। একটা শিশু মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে গেলে, তার কাছে থেকে ভালো কিছু আশা করা সম্ভব নয়।

তাসনিম রহমান রাইদা

সমাজে বাল্যবিয়ে চিহ্নিত সমস্যা। আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু। আর ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়াই হচ্ছে বাল্যবিয়ে। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে দেশে বাল্যবিয়ে ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৫ বছরে এ হার সবচেয়ে বেশি। করোনা শুধু জীবনকেই নয়, বরং সমাজ এবং অর্থনীতিকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনেক দরিদ্র পরিবারই কন্যাশিশুকে বাল্যবিয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সারা বিশ্বে বাল্যবিয়ের হার কমলেও বাংলাদেশে বেড়েছে। বাল্যবিয়ের হারে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ, তবে সংখ্যার দিক থেকে ভারতের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। বিগত দুই বছরে বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৫৯ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে ১৮ বছরের আগে এবং ২২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে ১৫তম জন্মদিনের আগে। মহামারির সময় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল এবং অনেক মানুষ কাজও হারিয়েছে। অনেক পিতামাতা সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতার কারণে তাদের মেয়েসন্তানদের তাদের সঙ্গে রাখার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

শেখ রোকন

সমকাল সবসময়ই শিশুর অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা ও তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। শিশুবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সমকালের সম্পাদকীয় নীতির অংশ। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমেরও এক্ষেত্রে বড় দায়িত্ব রয়েছে। সবাই দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে এলে শিশুর জন্য আদর্শ বাংলাদেশ ও বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশের শিশুদের পরিস্থিতি নদীর মতো। নদীতে যেমন সবাই বাঁধ দিতে চায়, তেমনি নানা নিয়মের বেড়াজালে আমরা শিশুকে বেঁধে রাখতে চাই। পাঠ্যক্রম নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা এরই অংশ। অথচ রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, তোমার হাতে নেই ভুবনের ভার। এমনকি নদীদূষণের মতো শিশুদূষণও ঘটছে। সামাজিক ও পারিবারিক নানা দূষণেও শিশুরা সবার আগে আক্রান্ত হয়। করোনার সময় দেখা যাচ্ছে, ইন্টারনেটসহ নানা বিষয়ে আসক্তি বেড়েছে শিশুদের। বাল্যবিয়ে, মানসিক অবসাদসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে শিশুরা। শিশুদের আমরা দেশ ও সমাজের ভবিষ্যৎ আখ্যা দিই। বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে। কিন্তু একাত্তরে আমরা যে মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলাম, শিশুর জন্য সেই মুক্তি এখনও আসেনি। এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।


আলোচক

রাশেদা কে চৌধুরী
নির্বাহী পরিচালক, গণসাক্ষরতা অভিযান

নাসিমা বেগম
চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

নীনা গোস্বামী
পরিচালক (প্রোগ্রাম)
আইন ও সালিশ কেন্দ্র

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

নিশাত সুলতানা
ডেপুটি ডিরেক্টর
অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড জাস্টিস ফর চিলড্রেন
ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ

হালিমা আক্তার
ম্যানেজার, পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি এডুকো বাংলাদেশ

মনিকা বিশ্বাস
চাইল্ড স্পন্সরশিপ ম্যানেজার
একশনএইড বাংলাদেশ

নুয়ারা শফিক দিশা
প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর
আইন ও সালিশ কেন্দ্র

ইশমিতা খালকো
শিশু সাংবাদিক, ঠাকুরগাঁও

সামান্তা ইসলাম সামিয়া
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী
যশোরের বাহাদুরপুর হাই স্কুল

তারিক মুস্তাফিজ
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ

কে এইচ খান রোহান
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী
গাইবান্ধা সরকারি কলেজ

আঞ্জুমান আরা আকসা
এসএসসি পরীক্ষার্থী, চাঁদপুর

তাসনিম রহমান রাইদা
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী
শেরপুর সরকারি কলেজ

সঞ্চালক

শেখ রোকন
সহকারী সম্পাদক
সমকাল

অনুলিখন
সাজিদা ইসলাম পারুল
স্টাফ রিপোর্টার
সমকাল

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com