খাদ্যের মোড়কে লেবেলিং কার্যকর করতে হবে

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২২ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

--

পুষ্টিমান উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে মোড়কজাত খাবারে ট্রাফিক লাইট লেবেলিং ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। ট্রাফিক লাইট লেবেলিং না থাকায় প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে কী ধরনের উপাদান কী পরিমাণে রয়েছে, তা মানুষ জানতে পারছে না। এতে করে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদানসমৃদ্ধ খাবার বেশি গ্রহণ করছে মানুষ। এতে করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি, হাইপারটেনশনসহ অসংক্রামক রোগ ভয়াবহ আকারে বেড়ে চলছে। পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে খাদ্যের মোড়কে লেবেলিং কার্যকর করতে হবে। এ জন্য সরকার, সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

'ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং :বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে মোড়কজাত খাবারে ট্রাফিক লাইট লেবেলিং-এর গুরুত্ব' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন), সান বিজনেস নেটওয়ার্ক, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম ও সমকাল যৌথভাবে এ আয়োজন করে।


ড. নাজমা শাহীন

আমরা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি) সঙ্গে কথা বলে মোড়কজাত খাবারের বিষয়ে কথা বলেছি। মোড়কজাত এসব খাবারের প্রথম দেখার বিষয় পুষ্টিগুণ। পুষ্টি কতটুকু আছে, তা বোঝার জন্য পণ্যগুলোকে ঠিকমতো লেবেলিং করতে হবে। এ বিষয়টি মোড়কজাত খাবারের মধ্যে এখনও আসেনি। এসব খাবারে কী কী পুষ্টি আছে, সেগুলো আমাদের ভোক্তাদের জানাতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করার কারণে শিশুদের রোগব্যাধির পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ ছাড়া রিপ্রোডাক্টিভ ওমেনদের ক্ষেত্রে ওজন বাড়ার বিষয়টি আমরা দেখতে পাচ্ছি।

সর্বোপরি, আমরা এক ধরনের পুষ্টিহীনতার মধ্যে আছি। আমাদের জীবনযাত্রার মান যেমন বদলে যাচ্ছে, সেখানে প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করার হারও বেড়ে যাচ্ছে। এটিকে আমরা বদলে ফেলতে পারব না। তবে এসব খাবারকে আমরা নিরাপদ করে ফেলতে পারি। আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কথা বলছি। নির্দিষ্ট চারটি জিনিসের ওপর ভিত্তি করে এই ট্রাফিক লাইট লেবেলিং আমাদের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে খাবার সম্পূর্ণ নিরাপদ হলে সবুজ রং, তুলনামূলক কম নিরাপদ হলে দ্বিতীয় স্তরের রং অ্যাম্বর (হলুদ) আর তার চেয়েও বেশি খারাপ হলে লাল রং দিয়ে খাবারগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

আমরা জানি, ট্রান্সফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর। দেশে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহূত ডালডা পরীক্ষা করে দেখেছি, সহনশীল মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট এটাতে আছে। প্রক্রিয়াজাত করা খাবারে লবণ ও চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত এই লবণ ও চিনি হৃদরোগের অন্যতম কারণ।

আমরা গবেষণা করে দেখেছি, সাধারণ জীবনে প্রক্রিয়াজাত করা ২৪ ধরনের খাবার বেশি গ্রহণ করা হয়। এদের মধ্যে একটিকেও আমি গ্রিন ফুড হিসেবে পাইনি। খাদ্যপণ্যগুলোর মধ্যে শুধু একটিতে ঠিকমতো লেবেলিং করা হয়েছে। বাকিগুলোতে পুষ্টিগুণ ও উপাদান উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কমবেশি লেখা হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা একটা সময়ের দাবি। অনেক শিক্ষিত লোকও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বোঝে না। আমরা যদি ট্রাফিক লাইট লেবেলিং করতে পারি, তাহলে তারা লেবেলের গায়ে নির্দিষ্ট রং দেখেই সেটি কতটুকু নিরাপদ বুঝতে পারবে। আমার ধারণা, উৎপাদকরা এগুলো করতে চাইবে না, তাতে অনেকের ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে সরকারসহ সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এর বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়।

মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ

লেবেলিং হলো খাদ্যপণ্যে কী উপাদান আছে, তা অবহিত করা। যাতে ভোক্তা তার পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করতে পারেন। বিশ্বের বড় অনেক দেশে খাদ্যপণ্যের মোড়কে লেবেলিং করা হয়নি। যেমন বিশ্বজুড়ে বলা হচ্ছে, চলমান কভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে জীবনযাপন করতে হবে। সুতরাং খাবারেও বিভিন্ন সমস্যা থাকবে। এটি মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। দেশে লাখ লাখ মানুষ খাবার উৎপাদন ও বিপণনে যুক্ত। সুতরাং আপনি কাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন, কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করবেন। দেশের চলমান আর্থসামাজিক অবস্থায় সেটি নিশ্চিত করার সম্ভাবনা কম। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে ভেজাল ও মানহীন খাবার উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান অভিযান পরিচালনা করে। তখন জেল-জরিমানাও করা হয়। কিন্তু এমন খাবার প্রতিষ্ঠান আছে, যাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করলে সেই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব থাকবে না। সুতরাং নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির বিষয়টি একদিনে হবে না। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এটি নিয়ে বছরের পর বছর কাজ করছে। কিন্তু দৃশ্যমান কিছু হয়নি। যেমন- আগে গ্রামাঞ্চলে খাবার পানি ও পাকা পায়খানা ছিল না। ধীরে ধীরে টিউবওয়েল ও পাকা পায়খানার ব্যবস্থা হয়েছে। এখন গ্রামের প্রায় সব বাড়িঘরে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা আছে। সুতরাং নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টিও এমন করে ভাবতে হবে। এরই মধ্যে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। যাতে স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো যায়। একই সঙ্গে গ্রামে গ্রামে খাদ্য সচেতনতা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি রোডম্যাপ করেছে। যেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হয়তো ২০ থেকে ৩০ বছর সময় লেগে যেতে পারে। তখন সবার কাছে নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি দৃশ্যমান হবে।

ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান

ঘরে রান্না করা খাবারের পরিবর্তে মানুষ এখন বাইরের খাবারের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়েছে। আমাদের ছোটবেলায় মা ঘরে খাবার তৈরি করতেন। সেই খাবার আমরা গ্রহণ করতাম। কিন্তু এখন অধিকাংশ মা চাকরি করেন। এ কারণে তাদের পক্ষে ঘরে নিজ হাতে খাবার তৈরি করা সম্ভব হয় না। এ কারণে প্যাকেটজাত খাবার খেতে হচ্ছে। কিন্তু এই প্রস্তুত করা খাদ্য কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত কিংবা নিরাপদ, তা অজানা। প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ফুচকা, চটপটি, আচার, শিঙাড়া, পুরিসহ বিভিন্ন খাদ্য বিক্রি করা হয়। মানুষ দেদার এসব খাবার কিনে খাচ্ছে। এ খাবারের ফলে কী হচ্ছে, তা আমরা জানতে পারছি না। কিন্তু আমরা দেখছি ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, হৃদরোগ, হাইপারটেনশন, ক্যান্সারসহ অসংক্রামক রোগ বেড়ে চলছে। এসব রোগের সৃষ্টি যে খাবারের সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিত করে বলা যায়। এ জন্য খাদ্যপণ্যে মোড়কে লেবেলিং প্রয়োজন আছে। তাহলে আমরা খাবারের কোন উপাদান খাচ্ছি, কী পরিমাণে খাচ্ছি- তা জানতে পারব। কারণ, ভোক্তা সব সময় দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। এটি দূর করতে হবে। চল্লিশের দশকে সিগারেট নিয়ে যত গবেষণা হয়েছে, চিনি নিয়ে কিন্তু তত গবেষণা হয়নি। অথচ সিগারেটের চেয়ে চিনি কম ক্ষতিকর নয়। সুতরাং মানুষের কাছে সুষম খাবার পৌঁছাতে হলে খাদ্যের মোড়কে তার ক্ষতিকর দিকটিও তুলে ধরা প্রয়োজন। তাহলে মানুষ জেনেশুনে খাবার খেতে পারবে। এ জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সম্মিলিতভাবে সবার মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

ডা. তাহেরুল ইসলাম খান

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কাজটি কোনো একক মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগের নয়।  সরকারের অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এ কাজের সঙ্গে যুক্ত। সুতরাং সুষম খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টনে পলিসি নির্ধারণ করতে সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন কোম্পানি স্বাদের আলোকে খাবার উৎপাদন করে বাজারজাত করছে। কারণ, স্বাদ না থাকলে ব্যবসা হবে না। বাণিজ্যিকভাবে লোকসানে পড়তে হবে। এতে করে চরম ক্ষতিকর অথচ মুখরোচক খাবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে খোলাবাজারে চটপটি, ফুচকা, শিঙাড়া বিক্রি এর উদাহরণ। এসব খাদ্যের বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করে তুলতে হবে। খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে ক্ষতিকর কী কী উপাদান আছে, তা উল্লেখ করা প্রয়োজন। কারণ, খাবার গ্রহণকারী ব্যক্তি যাতে জানতে পারেন, তিনি কী খাবার গ্রহণ করছেন। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার জনস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন। কারণ, এ খাবারের মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গড়ে ওঠে। কিন্তু ভেজাল খাবার ও অপুষ্টির কারণে মানুষের রোগব্যাধি বাড়ে। আমাদের দেশে যে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি বাড়ছে, এর নেপথ্যে রয়েছে খাদ্যের প্রভাব। সুতরাং নিরাপদ খাবার ছাড়া এই রোগব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা যাবে না।


প্রকৌশলী আবদুস সামাদ

বিএসটিআই দেশে উৎপাদিত ২২৯টি পণ্যের মান প্রণয়ন করে। পণ্যের মান অনুযায়ী গুণগত আদর্শ মান নির্ধারণ করে থাকে। আইন অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যে কী কী উপাদান আছে, তা জানা যাবে। কিন্তু ওই সব খাদ্যপণ্যের পুষ্টিগুণ অথবা ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে উল্লেখ করার বিধান নেই। কিন্তু আমাদের সুষম খাবার গ্রহণে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অনেকে ঘরে রান্না করা খাবার গ্রহণের জন্য জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ ও সচেতনতা সৃষ্টি কার্যক্রমে যুক্ত থেকেও নিজে বাইরের খাবার গ্রহণ করেন। এ ধরনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএসটিআইর প্রতিনিধি হিসেবে অনেক নকল ও ভেজাল কারখানায় অভিযান পরিচালনা করি। কিছু কিছু মানহীন প্রতিষ্ঠান বন্ধও করে থাকি। এরপরও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু খাদ্যপণ্যের মোড়কে ট্রাফিক লাইন লেবেলিং করা গেলে পরিস্থিতি পাল্টাবে। এ আইন শুধু দেশি খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর করলেই চলবে না; বিদেশ থেকে আমদানি করা খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও কার্যকর করতে হবে। এটি চালু করলে হয়তো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তা কার্যকর করতে পারবে। কিন্তু মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে। পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে এটি কার্যকরের বিকল্প নেই।

ডা. রুদাবা খন্দকার

গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) আমাদের একটি গ্লোবাল মুভমেন্ট। দেশের সব মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা বাড়াতে হলে সবাই মিলে অ্যাডভোকেসি স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতে হবে। বর্তমানে আমরা কী খাচ্ছি, জানি না। খাবার যদি নিরাপদ না হয়, সেটি আসলে খাবার হয়ে ওঠে না। তার জন্য, বিশেষ করে খাবার প্যাকেজিং করার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। জাম্বিয়ার মতো দেশও ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং করছে। তারা প্রতিটি খাবারের গায়ে নিরাপদতা বোঝাতে রঙের ব্যবহার করছে; যাতে সাধারণ মানুষ খাবার কেনার ক্ষেত্রে সেটি নিরাপদ কিনা, বুঝতে পারছে। আমাদের দেশে খাবার কেনার ক্ষেত্রে সেটিতে কী কী পুষ্টি আছে, আমরা জানতে পারি না। আমাদের সবাইকে সংঘবদ্ধ হয়ে এ অবস্থা থেকে ফুড সেক্টরকে উন্নত করতে হবে। সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসা উচিত। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য তিনটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে- এক. যেখান থেকেই আসুক না কেন, খাবারের প্যাকেটে সঠিকভাবে লেবেলিং করতে হবে। সেইসঙ্গে সেটি যেন সবার বোধগম্য হয়, সেটি আমাদের মাথায় রাখতে হবে; দুই. খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; তিন. আমাদের এখন পর্যন্ত যেসব আইন হয়েছে, সেসব আইন অনুযায়ী কার কী দায়িত্ব, সেটিও আমাদের পরিস্কার হতে হবে। এই তিনটি ধাপ অনুসরণ করতে পারলে খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

গুলশান আরা

সদ্য সন্তান জন্মদান করা মায়েদের প্রতি সব সময় আমাদের পরামর্শ থাকে, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিশুদের বুকের দুধ দেওয়ার জন্য। তারপর শিশু একটু বড় হলে সাধারণ খাবারদাবার অভ্যাস করার ক্ষেত্রে ঘরে তৈরি খাবার দিতে হবে। অথচ শিশুরা একটু চিবিয়ে খাওয়া শিখলেই আমরা অভিভাবকরা বাইরে থেকে খাবার কিনে দিতে থাকি। আমরা কখনোই তাদের হাই সুগার বা উচ্চমাত্রায় লবণ থাকা খাবার দিতে পারি না। কর্মজীবী মায়েরা শিশুদের সকালের নাশতা হিসেবে নুডলস খেতে দেন। এসব খাবার দীর্ঘ মেয়াদে গ্রহণ করলে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। আমাদের দেশে যেমন অনেক শিশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে, আবার অন্যদিকে অনেকে ওজন নিয়ে সমস্যায় ভোগে। ট্রাফিক লাইট লেবেলিং করা তাই আমাদের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। বিশ্বের অন্য অনেক দেশে এই লেবেলিং প্রচলিত। আমাদের দেশে চালু করা হলে এটি খাদ্য নিরাপত্তা অনেক বাড়িয়ে দেবে।



ফারিয়া শবনম

বাজারে অনেক খাবারই কিনতে পাওয়া যায়। এগুলো থেকে আমাদের দেশের মানুষকে নিরাপদ খাদ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। বিভিন্ন দেশে সরকারের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাবার পণ্যে লেবেলিং নিয়ে বেশ কিছু কাজ করছে। প্যাকেটজাত খাবার লেবেলিং করার সঙ্গে সঙ্গে সেটির মান ও পুষ্টিগুণ ঠিক আছে কিনা, আমাদের তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনকানুনের সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশ ও সংস্থাগুলো কী ধরনের মানদণ্ড রেখে কাজ করছে, সেটিও খেয়াল রাখা উচিত। লেবেলিংয়ের পাশাপাশি কমপ্লায়েন্স আদৌ হচ্ছে কিনা, সেটিও আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।

প্রায় ৩০০ খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। পণ্যের লেবেলে দেওয়া তথ্য ও খাদ্যে থাকা পুষ্টিগুণের মধ্যে মিল আছে কিনা, এসব পরীক্ষায় তা উঠে আসবে। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হবে। তখন আমরা আরও গঠনমূলকভাবে এগুলো বিশ্নেষণ করতে পারব। সবকিছু বিবেচনায় নিলে পণ্যের লেবেলের গায়ে রং দিয়ে সেগুলোর নিরাপত্তা চিহ্নিত করা হলে সেটি সবার জন্যই সুফল বয়ে নিয়ে আসবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব সময় যুগোপযোগী এসব পদক্ষেপকে উৎসাহিত করে।


ফারহানা শারমিন

জনগণ বিশেষত, শিশু ও মাতৃপুষ্টির উন্নয়নে ইউনিসেফ সব সময় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে আসছে। গত চার দশকে পুষ্টির বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুষ্টির বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের সামনে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের বিষয়টি এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বর্তমানে আমরা নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। জনগণ সচেতন না হলে খাদ্যপণ্যের মোড়কে লেবেলিং বা রং দিয়ে সতর্কীকরণ চিহ্ন দিয়েও খুব একটা লাভ হবে না। আমরা সব সময় অভিভাবকদের পরামর্শ দিই, শিশুদের ঘরের তৈরি খাবার খাওয়ানোর জন্য। তবে উপশহরাঞ্চলে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, শহরাঞ্চলের মতোই শহরাঞ্চলের বাইরের অভিভাবকদের মধ্যেও শিশুদের বাইরের কেনা প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার বেশি দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। শিশুদের প্রতি আদর প্রকাশ করতে গিয়ে তারা বাইরের খাবার কিনে দেন। তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ থেকে দেখা যায়, এসব প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের ফলে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টিসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে, যা অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি করছে। একটি সুস্থ, মেধাবী প্রজন্মের জন্য আমাদের অভিভাবকদের পুষ্টিকর, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতন করতে হবে, এমনকি শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সচেতনতা তৈরির জন্য বিষয়গুলো পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পুষ্টিকর, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুসরণ করে এবং মন্ত্রণালয়গুলো ও উন্নয়ন সহযোগীদের সংশ্নিষ্ট করে আমাদের একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে।

ড. শেখ সাহেদ রহমান

নাগরিক সমাজের অংশ হিসেবে কথা বলার সময় আমরা আসলে কী চাই, সে বিষয়টি আমাদের ভাবতে হয়। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশের অনেক সরকার নিরাপদ খাবারসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করেছে। ফলে আমরা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করতে পেরেছি। ফুড লেবেলিং অ্যাক্ট ২০১৭ সালে হওয়ার আগেও ২০০৯ সালে আরেকটি আইন হয়েছিল। ২০১৭ সালে করা আইনটি পড়তে গিয়ে আমি অনুভব করেছি, সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি পড়ে বুঝতে পারা খুব কঠিন হবে। আলোচনার মাধ্যমে আগেও অনেক কিছু বদলেছে। আমরা একসঙ্গে বসে এই আইনের আলোকে যদি সেটিকে আরও বাস্তবসম্মত করার প্রস্তাবনা করতাম, তাহলে আইনটি আরও ভালো হতো।

নিজের একটি ঘটনার উদাহরণই যদি দিই, আমি কিছুদিন আগে প্রক্রিয়াজাত করা বিদেশি একটি খাবার কিনেছিলাম। পণ্যের গায়ে প্রস্তুতের তারিখ থাকলেও সেটির মেয়াদ কবে শেষ হবে, তা সেখানে উল্লেখ ছিল না। এ বিষয়ে বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলেও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাইনি। বিদেশের প্রক্রিয়াজাত খাবার আমদানি করার ক্ষেত্রে আমাদের এসব বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আমাদের দেশের ৬৫ ভাগ লোক এখনও গ্রামে থাকে। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, গ্রামের এসব বাসিন্দার, বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠরা খুব বেশি শিক্ষিত নন। তাদের ক্ষেত্রে এই ট্রাফিক লাইটিংয়ের বিষয়টি সহজ করে নিয়ে আসা উচিত। কারণ, আমাদের দেশে প্রক্রিয়াজাত খাবারের একটি বড় অংশ দেশের গ্রামাঞ্চলে বিক্রি হয় এবং তাদেরও নিরাপদ খাবার চেনাতে হবে। পুষ্টিবান্ধব ব্যবসা কি শুধুই একটি স্লোগান, নাকি আমাদের সময় এসেছে এটিকে বাস্তবসম্মত করে এগিয়ে নেওয়ার- বিষয়টি নিয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।

সায়কা সিরাজ

প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার অধিকার সব মানুষেরই আছে, তাই প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে ঠিকমতো লেবেল লাগানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু লেবেলিং করলেই হবে না, তা যেন সবার চোখে পড়ে- সে ব্যবস্থা করতে হবে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। প্যাকেটজাত চাল প্রথমবারের মতো বাজারে আসার পর অনেক বয়োজ্যেষ্ঠই তাতে সহজে আস্থা আনতে পারেননি। প্যাকেটজাত চাল তারা স্পর্শ করে ও দেখে চাল কেনার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। সে অবস্থার এখন পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের দেশে এখন প্যাকেটজাত পণ্যের বিস্তার ঘটেছে, ঠিক তেমনি লেবেলিং বিষয়েও সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সেইসঙ্গে শুধু একবার পরীক্ষা করেই মান উত্তীর্ণ সনদ দিলে হবে না, নিয়মিত পরিবীক্ষণ করে লেবেল অনুযায়ী খাবারের মান নিশ্চিত করতে হবে।

সমাজের রোল মডেল বা সেলিব্রেটিদের সঠিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার নিয়ে প্রচার বা সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ, নতুন প্রজন্ম তাদেরই অনুসরণ করে। প্যাকেটজাত খাবার প্রস্তুতকারী সব বড়, মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিতে হবে। এর পাশাপাশি যেহেতু খাদ্য ও পুষ্টি একটি মাল্টিসেক্টরাল বিষয়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরকে লেবেল অনুযায়ী খাবারের পুষ্টিমান নিশ্চিতকরণে যুক্ত হয়ে স্ব-স্ব ভূমিকা রাখতে হবে। যেমন- কৃষিপণ্য যখন প্যাকেটজাত হয়ে বাজারে আসে, তখন কৃষি মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি দেখভাল করতে পারে। নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল মাল্টিসেক্টরাল অ্যাপ্রোচে এবং সকলের সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে অপুষ্টি সমস্যা সমাধানের যুগোপযোগী এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানায়।

ডা. বুলবুল আহমেদ

শুধু আমাদের দেশই নয়, পৃথিবীর সব দেশই প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীল। এটিকে আমরা কমিয়ে নিয়ে আসতে পারব না। তাই আমাদের এসব খাবারকে নিরাপদ করার দিকেই ঝুঁকতে হবে। অনিরাপদ খাবার গ্রহণ করার কারণে বিশ্বে অনেক লোকের মৃত্যু হয়। সান বিজনেস নেটওয়ার্কের অন্যতম কাজ হচ্ছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যকর খাবার উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা। আমাদের পোশাকশিল্পে এক ধরনের সুস্থ প্রতিযোগিতা রয়েছে। যে কারণে তারা গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। দেশের বাইরে থেকে যারা পোশাক কিনছেন, তারা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছেন। আমাদের ভোক্তাদেরও এ রকম কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এখন শুধু খাবারের ফ্যাট বা প্রোটিন কতটুকু আছে, তা দেখা হয়। এখানে ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং বিষয়টি ঠিকঠাক প্রয়োগ হলে উৎপাদকরা চিন্তা করবেন, যাতে তাদের পণ্যের লেবেলিং সবুজ থাকে। শ্রীলঙ্কার মতো দেশে স্কুলের বাইরে প্রক্রিয়াজাত করা খাবার বিক্রি করা যায় না। এসব এলাকায় তাজা খাবার বিক্রি করতে হয়। আর আমাদের দেশে স্কুলের কাছে কার্বোনেটেড ড্রিংকস আর জাঙ্ক ফুড দেদার বিক্রি হয়। এই অভ্যাস পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

একসময় আমাদের দেশের চ্যালেঞ্জ ছিল, সবার মুখে খাবার তুলে দেওয়া। আমরা সেটা পেরেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো, সবার মুখে নিরাপদ খাবার তুলে দেওয়া। এটি অর্জন করতে হলে আমাদের গবেষণার পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে আরও আন্তরিক হতে হবে।

এস এম মাহমুদুল হাসান

জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশ্বের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করছে। যুক্তরাজ্যের একটি কোম্পানি স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে ৮০ শতাংশ খাদ্যপণ্যে কালার কোডেড লেবেলিং করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউএই, ইরান, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ, শ্রীলঙ্কা খাদ্যপণ্যের মোড়কে ট্রাফিক লাইট লেবেলিং ব্যবহার শুরু করেছে। এর ফলে শ্রীলঙ্কায় কোমল পানীয় উৎপাদন ও বিপণনে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো খাবারে চিনির পরিমাণ ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করে ফেলেছে। ভারতেও খাদ্যপণ্যের মোড়কে ট্রাফিক লাইট লেবেলিং ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তা খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত বড় বড় কোম্পানির বাধার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশেও এ চেষ্টা করা প্রয়োজন। বাধা আসবে, কিন্তু সেটি ভেবে বসে থাকলে চলবে না। কারণ, মানুষকে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া প্রয়োজন। মানুষ যাতে খাদ্য গ্রহণের আগে জানতে পারে, তাতে ক্ষতিকর ও উপকারী কী কী উপাদান রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে খাদ্যের মাধ্যমে যে রোগব্যাধির সৃষ্টি হয়, সেগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে নিরাপদ খাবার নিয়ে সচেতনতা একটি অভ্যাসের বিষয়। আমাদের এখনকার অভ্যাসই পরবর্তী প্রজন্মকে আরও বেশি সচেতন করে তুলবে। আমরা আজ একটি প্রাথমিক অবস্থানে আছি, হয়তো ২০ বছর পর আমরা খাদ্য নিরাপদতার পরবর্তী ধাপ নিয়ে কথা বলব।

আবু সাঈদ খান

জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব। পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের কথা সংবিধানের ১৮(১) ধারায় আছে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্যে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কথা বলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ কম। এ জন্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা কী খাচ্ছি, নিজেরা জানি না। এতে করে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর খাবার গ্রহণ করছি। অনিরাপদ খাবার গ্রহণের কারণে রোগব্যাধি, বিশেষ করে ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলছে। পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে হবে। খাদ্যের মানের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্নিষ্ট সংস্থাকে মনিটর জোরালো করতে হবে।




আলোচক
অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন
পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ
সদস্য, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান
লাইন ডিরেক্টর, ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভিসেস (এনএনএস)

ডা. তাহেরুল ইসলাম খান
পরিচালক, জাতীয় পুষ্টি পরিষদ

প্রকৌশলী আবদুস সামাদ
উপপরিচালক, বিএসটিআই

ডা. রুদাবা খন্দকার
কান্ট্রি ডিরেক্টর, গেইন

গুলশান আরা
ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ডহুড ম্যালনিউট্রিশন, নিউট্রিশন অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট আইসিডিডিআর,বি

ফারিয়া শবনম
ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ফারহানা শারমিন
নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট, ইউনিসেফ

ড. শেখ সাহেদ রহমান
সেক্রেটারি, সিভিল সোসাইট অ্যালায়েন্স ফর স্কেলিং আপ নিউট্রিশন

সায়কা সিরাজ
কান্ট্রি ডিরেক্টর, নিউট্রিশন
ইন্টারন্যাশনাল (এনআই)

ডা. বুলবুল আহমেদ
টেকনিক্যাল সাপোর্ট টু সান
কান্ট্রি ফোকাল পয়েন্ট

মোহাম্মদ হেমায়েত হোসেন
প্রজেক্ট ম্যানেজার, সান বিজনেস নেটওয়ার্ক, গেইন

এস এম মাহমুদুল হাসান
কর্মসূচি সহযোগী, গেইন

সঞ্চালক
আবু সাঈদ খান
উপদেষ্টা সম্পাদক
সমকাল

অনুলিখন
রাজবংশী রায়
সিনিয়র রিপোর্টার
সমকাল

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com