টেকসই উন্নয়নে নিরাপদ খাদ্য: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তায় দরকার বিবেকের জাগরণ

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২২ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

--

দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আগের মতো মঙ্গা নেই। কিন্তু নিরাপদ খাদ্য এখনও নিশ্চিত হয়নি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারলেই উন্নয়ন টেকসই হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের প্রতিটি লক্ষ্যের সঙ্গেও নিরাপদ খাদ্য গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু এসডিজি অর্জনের অন্তরায় অনিরাপদ খাদ্য। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বাংলাদেশের সামনে এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সীমিত সম্পদ নিয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আইন কিংবা চাপ দিয়ে খাদ্যে ভেজাল নির্মূল করা কঠিন। এ জন্য প্রয়োজন বিবেকের জাগরণ। সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে সবার মাঝে, যাতে নিরাপদ খাদ্যের মৌলিক অধিকারের দাবি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়।

গত ২৫ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে। 'টেকসই উন্নয়নে নিরাপদ খাদ্য :প্রেক্ষিত বাংলাদেশ' শীর্ষক বৈঠকটির আয়োজন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও সমকাল। আয়োজনে সহযোগিতা করে জাইকা বাংলাদেশ।

সাধন চন্দ্র মজুমদার

সুস্থ-সবল জাতি গঠন এবং সমৃদ্ধিশালী সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যে গুরুত্ব দিয়েছেন। পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। গত ৫০ বছরে আমাদের দেশে উৎপাদন বেড়েছে। এখন আর মঙ্গা নেই। আমরা এখন পেট ভরে ভাত খেতে পারি। করোনাকালেও খাদ্য সংকট সরকার ভালোভাবে মোকাবিলা করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা লাখ লাখ মানুষকে ত্রাণ দিয়েছি। খাদ্য মন্ত্রণালয় ১০ টাকা কেজিতে চালও দিয়েছে। বর্তমানে এক হাজার ৭৩৭ জন ডিলার উপজেলা ও পৌরসভায় ৩০ টাকা কেজিতে চাল দিচ্ছে। একইভাবে ১৮ টাকা কেজিতে আটাও দেওয়া হচ্ছে। এ মুহূর্তে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু দেশে এখন খাদ্য সংকট না থাকলেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সাল থেকে কাজ করছে। জেলা পর্যায়েও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যালয় রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি উপজেলাগুলোতেও সেমিনার, উঠান বৈঠকসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার- উৎপাদন থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত খাদ্য নিরাপদ আছে কিনা। কৃষক প্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহার করলেও পণ্য বাজারজাতের আগে কিন্তু কিছু ব্যবহার করে না। ফলে বাজারজাতের আগেই ওই কীটনাশকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চলে যায়। যারা প্রক্রিয়াজাত করে এবং পণ্য তাজা রাখার জন্য ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করে, তাদের বিবেককে আগে জাগ্রত করতে হবে। শুধু এখানেই নয়; বড় বড় ব্যবসায়ী যে পণ্য বাজারজাত করেন, তা কতটা নিরাপদ? অনেকে পণ্য তাজা রাখার জন্য নানা কীটনাশক ব্যবহার করেন। যারা জুস বানায়, তাদের নিয়ে আমরা সেমিনার করেছি। তাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখেছিলাম- 'আপনারা যে জুসগুলো বানান, সেগুলো নিজের পরিবারে খান, নাকি বিদেশি জুস খান?' এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাইনি। গরিব ও অল্পশিক্ষিত লোক ভেজালের সঙ্গে তেমন জড়িত নন। অতি মুনাফার লোভে শিক্ষিত লোকরাই খাদ্যে ভেজাল দেন। নিজের বিবেককে আগে জাগ্রত করতে হবে। শুধু আইন দিয়ে খাদ্য নিরাপদ করা যাবে না। অতি মুনাফার লোভ সামলাতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বিএসটিআই মান নিয়ন্ত্রণের লাইসেন্স দেয়; নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ শুধু মনিটরিং করে। খাদ্য মন্ত্রণালয় তা সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন ও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দেশের আটটি বিভাগে আমরা পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করছি। ঢাকার পোস্তগোলায় জাইকার সহায়তায় আরেকটি রেফারেন্স পরীক্ষাগার করতে যাচ্ছি। এসব ল্যাবের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত শক্তিশালী করতে পারব বলে মনে হয় না। তারপরও ভোক্তাকে আগে সচেতন হতে হবে। এই সচেতনতার জন্য তাদেরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। ভোক্তারা নিজেরা বুঝতে পারছেন না নিরাপদ-অনিরাপদ। সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সবাই মিলে নিরাপদ খাদ্যের মৌলিক অধিকার অর্জনের আন্দোলন করতে হবে। আমরা উৎপাদক থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি। এ জন্য গণমাধ্যমকেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম

নিরাপদ খাদ্য অর্জনে ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন এবং ২০১৫ সালে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নয় যে খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া যাবে। এটি একটি মাল্টিসেক্টরাল ইস্যু। এখানে স্টেকহোল্ডার অসংখ্য। এখানে সবার ভূমিকা দরকার। সমাজের সব মানুষ এখানে জড়িত। যেমন- অনেক কষ্ট করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করলেন, কিন্তু যে পানিতে পরিস্কার করলেন, সেটি অনিরাপদ হলে আপনার সব কাজ ভেস্তে যাবে। সবকিছু করার পর বাসায় প্লেট ভালোভাবে পরিস্কার না করলে হবে না। ফলে আমরা রাতারাতি হয়তো সফল হতে পারব না। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্তে নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়ন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আমাদের উদ্দেশ্য অত্যন্ত পরিস্কার। কোথায় যেতে চাই, সেটিও পরিস্কার। যাব, কীভাবে সেটি আলোচনা করছি। যাওয়ার জন্য জন্য যে পথগুলো আছে, সেগুলো কুসুমাস্তীর্ণ নয়। আমাদের অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হয়। এ ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে খাদ্য নিরাপদ করা যাবে না। এ জন্য আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের ইনস্টিটিউশন আছে। দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছি। জাইকাকে ধন্যবাদ জানাই, তারা আমাদের কাছে একটি ভালো টেকনিক্যাল প্রকল্প নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে আমাদের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। এ প্রশিক্ষণ শুধু কর্মকর্তাদের দিলে হবে না; সব পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারকে দিতে হবে। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সেটি সম্ভব নয়। ফলে আমরা সরকারের রাজস্ব অর্থায়নে আরেকটি সক্ষমতা অর্জনে প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সেটি এখন বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আমাদের যে আইন আছে, অনেকটা প্যাকেটবন্দি করে রেখেছি। এগুলো আমরা যখনই বাস্তবায়ন করতে যাব, তখন অনেকের ওপর নানাভাবে চাপ আসবে। ফলে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে অনেকভাবে মোটিভেশন করছি। বিভিন্ন পর্যায়ে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করে বিষয়গুলো মানুষকে জানান দিচ্ছি। আমাদের পরীক্ষাগার সক্ষমতা নেই বললেই চলে। আমরা বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে ওঠা পরীক্ষাগারে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সীমিত পর্যায়ে হলেও কাজ করছি। সরকারি পর্যায়ের পরীক্ষাগারগুলোও আমাদের সহায়তা করছে। আট বিভাগে আমাদের আটটি পরীক্ষাগার হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার করার চিন্তাও করছি। কারণ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে আমরা বেকায়দায় পড়ে যেতে পারি। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষাগার খুবই জরুরি। আদালত পরিচালনা করতে গেলে পণ্যের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ দিতে হবে। না হলে একজনের মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। আমাদের একটি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার আছে। সরকারের অর্থায়নে আরও আটটি কেনার পরিকল্পনা করছি। সেটি হলে প্রতিটি এলাকায় পরীক্ষা করে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব খাদ্যের ভেজাল সম্পর্কে। এগুলো পরে রেফারেন্স পরীক্ষাগারে নিয়ে আসব। এ জন্য ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের রেফারেন্স পরীক্ষাগার করার উদ্যোগ নিয়েছি। সব মিলিয়ে আমাদের পদ্ধতিগতভাবে এগোতে হবে। খাদ্য অনিরাপদ হওয়ায় অনেক মূল্য দিতে হচ্ছে। মানুষ নানা অসুস্থতায় ভুগছে। আয়ু কমে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবেও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষক উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পাচ্ছে না। কারণ, সেই পণ্য আন্তর্জাতিক মানসম্মত নয়। ফলে পণ্য রপ্তানি করতে গিয়ে বারবার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। খাদ্য নিরাপদ না হলে তাকে খাদ্য বলা যাবে না। নিরাপদ খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। ফলে সর্বক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। মুষ্টিবদ্ধভাবে খাদ্য নিরাপদ করতে কাজ করতে হবে।

ড. আতিউর রহমান

বঙ্গবন্ধু খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্যের প্রতি জোর দিয়েছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে দেশ অদ্ভুত এক উটের পিঠে চলছিল। শেখ হাসিনার সরকার আসার পার দেশ আবার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। বেড়েছে খাদ্য উৎপাদন। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অবস্থায় আছে। এখন আমাদের নিরাপদ খাদ্য নিয়ে ভাবতে হবে। নিরাপদ খাদ্যের সঙ্গে এসডিজির সম্পর্ক গভীর। রপ্তানিতেও নিরাপদ খাদ্য যথেষ্ট প্রভাব রাখে। মানুষের আয় যত বেশিই হোক, খাদ্য নিরাপদ না হলে জীবন হুমকিতে পড়বে। উন্নয়ন টেকসই করতে হলে নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই। নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তায় আইনগত কাঠামো প্রয়োজন। খাদ্য উৎপাদনের গুণগত মান বাড়াতে হবে। তবে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বাড়াবাড়ির কারণে যেন কোনো ক্ষতি না হয়। শ্রীলঙ্কায় খাদ্য অর্গানিক করতে গিয়ে দেশটিতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। আমাদের দেশের মানুষ এখন খাদ্য গ্রহণে অনেক সচেতন। এ মুহূর্তেই দরকার উদ্যোগ।

মো. আব্দুল কাইউম সরকার

বর্তমান পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে। রপ্তানি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে খাদ্য নিরাপদ হতে হবে। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে সরকার খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন এবং ২০১৫ সালে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু এটি একটি কঠিন কাজ। এটি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে একা সম্ভব নয়। মৎস্য, কৃষি, স্থানীয় সরকার, বিএসটিআই, পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ সবার সমন্বয় জরুরি। ইতোমধ্যে কৃষি ও মৎস্য খাতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের চর্চা শুরু হয়েছে। খাদ্যের মান উন্নত করা গেলেই আমাদের রপ্তানি আয় বাড়বে। আমরা ইতোমধ্যে মানুষকে সচেতন করতে বেশকিছু কর্মসূচি পরিচালনা করছি। শিশুদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে পাঠ্যপুস্তকের মলাটের ভেতরে এ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষাগার স্থাপন, পরিদর্শন কার্যক্রম জোরদারকরণে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি অসাধু খাদ্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ভোক্তা ও খাদ্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। আমরা দেশের নাগরিকদের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি জাতীয় ও বৈশ্বিক বাজারে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পর থেকে জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে খাদ্য শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজনকে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ দেওয়া, খাদ্যের নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণার কাজ করে যাচ্ছে। খাদ্য এবং কৃষি-খাদ্য খাতে টেকসই ও স্থিতিস্থাপক ব্যবসা গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। এ জন্য ফুড ভ্যালু চেইনের প্রতিটি ধাপে সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রয়োজন। তাই আশা করা যায়, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম। আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো সচেতনতা তৈরি করা। কারণ, চাপ প্রয়োগ করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

মো. মনিরুল ইসলাম

জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের কোনোটিতেই নিরাপদ খাদ্যকে মূল সূচকে ধরা না হলেও প্রায় প্রতিটি অভীষ্ট বাস্তবায়নে নিরাপদ খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এই ১৭টি অভীষ্টই ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনে বিশ্বের ১৯২টি দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নিরাপদ খাদ্যের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দেশে দেশে নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত আইন, বিধি-প্রবিধি প্রণীত হচ্ছে। বিশ্বের নাগরিকদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে না পারলে এসব অভীষ্ট অর্জন সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।



সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা

আমাদের অনেক সাফল্য আছে। তারপরও প্রচুর মানুষ এখনও খাদ্যের প্রাপ্যতা থেকে দূরে। যে খাবার তারা পাচ্ছেন, সেটিও নিরাপদ নয়। এরা সংখ্যায় অসংখ্য, তারা কেন্দ্রীয় ক্ষমতা বলয়ের বাইরে। তাদের নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে করোনার কারণে নতুন করে কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে। সুতরাং একদিকে যেমন আমরা নিরাপদ খাদ্যের কথা বলছি, আবার মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তির বিষয়কেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। মানসম্মত খাদ্যের প্রাপ্যতা মানুষের মৌলিক অধিকার। ফলে মানসম্মত খাদ্য মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। খাদ্যের দাম এখন যে হারে বাড়ছে, সেটিও আমাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকে সংকুচিত করে ফেলছে। কারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা যখন সক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তারা নিরাপদ-মানসম্মত খাবার থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কিছু কাজ দরকার। এটি শুধু একটি ভেজালবিরোধী অভিযান নয়। সারাদেশে পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর তা মানুষের সামনে প্রকাশ হচ্ছে কিনা, এটি দেখতে হবে। যারা নিয়ম মানছে না, তাদের পুরোপুরি আইনি ব্যবস্থার মধ্যে আনতে পারছি কিনা। সর্বোপরি আমরা সব মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারছি কিনা। এ দৃশ্যমান তৎপরতা বড় ভূমিকা রাখবে।

ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ

ভ্রাম্যমাণ আদালত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয়। উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনে ভেজাল হতে পারে। প্রতিটি জায়গায় স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করে দিতে হবে। ফলে ওই সব জায়গা থেকে আর ভেজাল আসার আশঙ্কা থাকবে না। দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে লাভ নেই। কারণ, উৎপাদন পর্যায় থেকে দোকানে ভেজাল আসে। এ ছাড়া কাউকে শাস্তি দিয়ে নয়; স্বভাবতই মানুষ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করুক- এ পদক্ষেপ নিতে হবে। এর পরও যদি কেউ এ কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে তাকে ছাড় দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বাড়িয়ে কমিশন করা যায় কিনা, তা নিয়ে চিন্তা করার এখন সময় এসেছে। কমিশন না করতে পারলে মাল্টিসেক্টরাল প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। নিরাপদ খাদ্যের বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে দিতে হবে।

কাটসুকি

জাপান সরকার নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। জাপান সরকার নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন করছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখার মতো। কিন্তু নিরাপদ খাদ্য এখনও নিশ্চিত হয়নি। দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, ভোক্তা, উৎপাদকসহ সব পর্যায়ে সচেতনতা দরকার। সর্বস্তরে প্রশিক্ষণ দরকার। প্রাতিষ্ঠানিক নীতি দরকার। এ জন্য 'বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (এসটিআইআরসি)' প্রকল্পের মাধ্যমে জাইকার সমন্বয়ে কাজ করবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে দেশব্যাপী খাদ্যশৃঙ্খলে যারা যুক্ত আছেন, তাদের সবাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা, ডাটাবেজ প্রস্তুত, সচেতনমূলক কার্যক্রম ও কল সেন্টার স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার চালুর মাধ্যমে খাদ্যের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা সুবিধা সম্প্রসারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। জাইকা গৃহীত প্রকল্প বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জাপানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সঙ্গী হয়ে জাপান কাজ করে যাবে।

মো. রেজাউল করিম

বর্তমান সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জীবিকার তাগিদে ঘরের বাইরে থাকতে হয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী জ্ঞান অন্বেষণে দিনের অনেকটা সময় বাইরে থাকে। বাধ্য হয়ে তাদের বাইরের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেতে হয়। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী খাদ্য ব্যবসার প্রসার, ভোক্তার দ্রুত রুচি পরিবর্তন, পর্যটনের ব্যাপকতা ইত্যাদি কারণে খাদ্যের বহুমুখিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্য এখন শুধু জীবন রক্ষাকারী উপাদান নয়; আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে পড়েছে। উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, বিপণন, প্যাকেটজাতকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে খাদ্য অনিরাপদ হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর প্রায় ৬০ কোটি লোক অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়। এ কারণে প্রতিবছর ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষ মারা যায়। এ ছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৪০ শতাংশই খাবারজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। প্রতিবছর প্রাণ হারায় এক লাখ ২৫ হাজার শিশু। এ সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন খাদ্য অপচয় বা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই অপচয় বা ক্ষতির একটি প্রধান কারণ অনিরাপদ খাদ্য। বিশ্বব্যাংক বলছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বছরে এ ক্ষতির পরিমাণ ১১০ বিলিয়ন বা ১১ হাজার কোটি ডলার। এর মধ্যে খাদ্যসংশ্নিষ্ট রোগের কারণে মানুষের উৎপাদনশীলতা কমায় ক্ষতির পরিমাণ ৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং এসব রোগের চিকিৎসা ব্যয় এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম

টেকসই উন্নয়ন মানে অর্থনীতি সম্প্রসারিত হবে। করোনাকালেও বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্প্রসারণ হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন করতে গেলে নিরাপদ খাদ্য দরকার। নিরাপদ খাদ্য না হলে আমরা সবল জাতি গঠন করতে পারব না। জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নিরাপদ খাদ্যের। নিরাপদ খাদ্যের অধিকারই মানুষের অন্যতম মৌলিক মানবাধিকার। কৃষি, প্রাণী ও মৎস্য পর্যায় থেকে খাদ্য আসে। সেখান থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কৃষক পর্যায়ে সচেতনতা দরকার। অনেক উৎপাদকের নিবন্ধন নেই। ফলে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে না। আমরা কখনও সরাসরি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি না। বারবার সচেতন করার পরও যদি তা না মানে, তখন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের আয়ু বাড়বে। সুস্থ থাকলে আমরা ভালো আয় করতে পারব। আমাদের শিশুমৃত্যুর হার কমবে। মাতৃমৃত্যুর হারও কমবে। আমাদের রপ্তানি বাড়বে।

মো. শহীদুল ইসলাম

মনিটরিং জোরদার করা দরকার। মানুষকে আগে সচেতন হতে হবে। চাপ দিয়ে কোনো কিছু সম্ভব নয়। আইন প্রয়োগ করতে গেলে অনেক সময় সমন্বয়হীনতার অভাব দেখা দেয়। যার যে দায়িত্ব পালন করা দরকার, সে তা করছে না। উৎপাদনের সঙ্গে সাতটি মন্ত্রণালয় জড়িত। খাদ্য সরবরাহের সঙ্গে বিএসটিআই ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রয়েছে। তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা দরকার। বিএসটিআই পণ্যের মতো হোটেলসহ প্রতিষ্ঠানগুলোকে মান নিয়ন্ত্রণের মার্ক দিয়ে দিতে পারে। তাতে ভোক্তা তাদের অবস্থা সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো ভালো মার্ক পাওয়ার আশায় ভালো পণ্য বিক্রি করবে।

রেজাউল করিম সিদ্দিক

যে কৃষক খাদ্য উৎপাদন করেন, তার জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করা বড় চ্যালেঞ্জ। উদ্যোক্তারাও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে বিপদে থাকেন। যিনি ভোগ করেন, তিনিও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে বিপদে থাকেন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদ ভোক্তার। আর সব দায় নিতে হয় উৎপাদককে। সবাই প্রশংসা ওপরের দিকে দেন; দায় নিচের দিকে দেন। কিন্তু কৃষকের জন্য উত্তম কোনো বিকল্প দেওয়া হচ্ছে না। কৃষক বেশি ভোগেন। কারণ, তার কোনো সংগঠন নেই। তাদের প্রতিবাদ করার শক্তিও নেই। ফলে আমাদের মনোজগতের পরিবর্তন দরকার। নিরাপদ খাদ্য টেবিলে রাখতে না পারলে আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। সব মানুষকে সচেতন করা না গেলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের আন্দোলন সফল হবে না।

দীপক রাজন

মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৫১ হাজার পরিদর্শন পরিচালনা করবে। খামারগুলো নিবন্ধন করা হবে। ৬৫০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। ১৫ হাজার মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকারককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পণ্যের মান যাচাইয়ে সাভারে কিউসি পরীক্ষাগার স্থাপিত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে। উৎপাদিত দুধ, ডিম, মাংস যেন মানবদেহের উপযোগী হয়; যেন মানসম্পন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের হয়; সেটা নিশ্চিত করা হবে। এ মুহূর্তে নিরাপদ খাদ্যের জন্য কাঠামোগত নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি দরকার।

ড. মো. খালেদ কনক

খাদ্যের প্রধান উৎস কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ। মাছ চাষে দেশে বিপ্লব ঘটে গেছে। মাছ চাষে এখন ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার হচ্ছে না। আমরা এটি নিশ্চিত করতে পেরেছি। ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামে আমাদের তিনটি আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার আছে। এখান থেকে সনদ দেওয়ার পর আর বিদেশে পরীক্ষার দরকার হয় না। ১৭টি কোয়ারেন্টাইন আছে। এসব কারণে বর্তমানে ৫০টি দেশে আমরা মাছ রপ্তানি করছি। নিরাপদ মাছ উৎপাদনে আমরা ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছি। সমন্বিত চেষ্টায় আমরা নিরাপদ খাদ্যের সামাজিক আন্দোলন সফল করতে পারব।

মিনহাজ আহমেদ

আমাদের কৃষকদের প্রশিক্ষণ নেই। কী পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে, সে সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সব প্রতিষ্ঠানকে এক ছাতার নিচে আনতে হবে। সম্মিলিত প্রয়াসেই দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে। আর এটি নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসা-বাণিজ্যে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।



আবু সাঈদ খান

আমরা যে খাবার খাই, এটি কতটুকু নিরাপদ? যে খাদ্য খাচ্ছি, তা বিভিন্নভাবে দূষিত হচ্ছে। দূষণ দুই প্রক্রিয়ায় হয়- উৎপাদনকালে এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সময়। খাবারগুলো এখন প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। কারণ, শহরে হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্যাকেটজাত খাবার বিক্রি হচ্ছে। এটাও বাস্তবতা। বিজ্ঞানের উন্নতি ও সভ্যতা বিকাশের এ পর্যায়ে খাবার প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াজাতের মধ্য দিয়েও এক ধরনের দূষণ হচ্ছে। এই খাবারকে দূষণমুক্ত কীভাবে রাখা যায়, তা আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আলোচনা, সচেতনতা তৈরি ও আন্দোলনের এখন উপযুক্ত সময়। কারণ, দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে নিরাপদ খাদ্য দরকার। মানুষের সুস্বাস্থ্য যদি নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সামনের দিকে আমরা এগোতে পারব না। এ জায়গা থেকে আমরা বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এসেছে; সমকাল পাশে থেকে তাদের কাজে সহায়তা করবে। খাবারকে দূষণমুক্ত রাখা এবং মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সবাইকে কাজ করতে হবে। এ আন্দোলনে সমকাল যুক্ত থাকবে।

প্রধান অতিথি
সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি
খাদ্যমন্ত্রী

আলোচক
ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম
সচিব, খাদ্য মন্ত্রণালয়

ড. আতিউর রহমান
সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

মো. আব্দুল কাইউম সরকার
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

মো. মনিরুল ইসলাম
যুগ্ম সচিব
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা
প্রধান নির্বাহী, জিটিভি

ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কাটসুকি
প্রতিনিধি, জাইকা বাংলাদেশ

মো. রেজাউল করিম
সদস্য, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম
সদস্য, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

মো. শহীদুল ইসলাম
জেলা প্রশাসক, ঢাকা

রেজাউল করিম সিদ্দিক
সাধারণ সম্পাদক, বিসেফ ফাউন্ডেশন

দীপক রাজন
পরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর

ড. মো. খালেদ কনক
উপপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর

মিনহাজ আহমেদ
সদস্য
বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)

সঞ্চালক
আবু সাঈদ খান
উপদেষ্টা সম্পাদক
সমকাল

অনুলিখন
জাহিদুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
সমকাল

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com