জাতিসংঘ প্রদত্ত শিশু অধিকারবিষয়ক সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন, অগ্রগতি, প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

শিশু অধিকার রক্ষায় অধিদপ্তর ও কমিশন অপরিহার্য

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২২ । ০১:৩৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

--

দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু। তাদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের ওপরই নির্ভর করছে দেশ ও সমাজের অগ্রযাত্রা। কিন্তু এই শিশুরাই নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের অধিকার থেকে। করোনা মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে তাদের। শিশুদের অধিকার রক্ষায় যেসব আইন আছে, সেগুলোরও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই পৃথক শিশু অধিদপ্তর এবং শিশু অধিকার কমিশন গঠন এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।গত ৩০ ডিসেম্বর 'জাতিসংঘ প্রদত্ত শিশু অধিকারবিষয়ক সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন, অগ্রগতি, প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ' বিষয়ে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সমকাল, চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।


নুয়ারা শফিক দিশা

শিশুদের জন্মনিবন্ধন সঠিকভাবে করতে হবে। তাহলে বাল্যবিয়ে ও স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। তবে এখন অনলাইনের কারণে নিবন্ধনের হার বাড়ছে। সরকারের নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও ১৮ বছরের নিচে ৫১ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। করোনা মহামারিকালে এই হার আরও বেড়েছে। ২০১৭ সালে বাল্যবিয়ে রোধ আইন প্রণীত হলে এ আইনের বিশেষ বিধানে যে ছাড়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার অপব্যবহার হওয়ার অবকাশ রয়েছে। মহামারিকালে যাদের বিয়ে হয়ে গেছে, তাদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা উচিত। বাল্যবিয়ে রোধে সব পর্যায়ে কমিটি গঠন করতে হবে।



তাকবীর হুদা

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯ সালে প্রণীত হয়। এটি মানব ইতিহাসের মানবাধিকার সুরক্ষায় সবচেয়ে বিস্তৃত ও বাস্তবসম্মত সনদ। ১৯৯০ সালের আগস্টে এ সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শিশু অধিকার রক্ষায় গঠিত কমিটি (সিআরসি) এ সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি তদারকি করে। বিশ্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা (ইউপিআর) ২০০৬ সালে প্রণীত হয়। এ পদ্ধতিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ১৯৯০ সালে স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের দুটি বিধান বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। একটি হলো ১৪(১), যেখানে বাকস্বাধীনতা, ধর্ম ও বিবেকের বিষয়ে বলা হয়েছে। আর বিধান ২১, যেখানে দত্তক নেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে। সিআরসির পক্ষ থেকে বারবার এ আপত্তি তুলে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশকে বলা হলেও তা আজও কার্যকর হয়নি। ২০১১ সালে সিআরসি একটি নতুন প্রটোকল প্রণয়ন করে। যেখানে বলা হয়, কোনো শিশুর অধিকার লঙ্ঘিত হলে তারা সরাসরি জাতিসংঘের সংশ্নিষ্ট সংস্থায় অভিযোগ করতে পারবে। এটির বাংলাদেশ এখনও স্বীকৃতি দেয়নি।

শিশু অধিকার রক্ষায় ২০১৩ সালে শিশু আইন প্রণীত হয়েছে। এতে ১৮ বয়সের কমবয়সীদের শিশু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশু অপরাধে জড়িত হয়েছে- যদি এমন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়, আর কোনো শিশুকে আদালতে সাক্ষ্য দিতে যেতে হয়; এ আইনে তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইনে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শিশুকল্যাণ বোর্ড গঠন করতে হবে। প্রতিটি পুলিশ স্টেশনে শিশুদের জন্য সহায়তা ডেস্ক ও অফিসার থাকতে হবে। শিশু আদালত গঠন করতে হবে। তার পরও কিছু ঘাটতি রয়েছে এ আইনে। তা পূরণ করার জন্য নানা সময় বিভিন্ন ফোরাম থেকে সুপারিশ এসেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ৯ বছর হয়ে গেলে কোনো শিশুকে ফৌজদারি অপরাধে দায়ী করা যাবে। এই বয়সটা বাড়িয়ে ১২ বছর করা উচিত। এ আইন কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা তদারকির জন্য কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। আইন বাস্তবায়নে কোনো বিধি এখনও প্রণীত হয়নি।

শিশু অধিকার রক্ষায় জন্মনিবন্ধন খুব জরুরি। আইন অনুসারে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে শিশুদের জন্মনিবন্ধন করতে হবে। কিন্তু মাত্র ৫ শতাংশ শিশুর জন্মনিবন্ধন এই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হয়। পাঁচ বছরের মধ্যে নিবন্ধনের হার ৫৬ শতাংশ। অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় নিবন্ধন করার হার বেড়ে গেছে। ২০১১ সালে নিবন্ধনের হার ছিল ৩১ শতাংশ; ২০১৫-তে তা বেড়ে হয়েছে ৮৬ শতাংশ। এই অনলাইন নিবন্ধন পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম রোধে অনলাইন নিবন্ধন খুবই কার্যকর। ১৮ বছরের নিচে ৫১ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। করোনা মহামারিকালে এ হার আরও বেড়েছে। ২০১৭ সালে বাল্যবিয়ে রোধ আইন প্রণীত হয়। এ আইনের বিশেষ বিধানে ১৮ বছরকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর সুযোগ নিচ্ছে অনেকেই। মহামারিকালে যাদের বিয়ে হয়ে গেছে তাদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা উচিত। বাল্যবিয়ে রোধে সব পর্যায়ে কমিটি গঠন করতে হবে।

শিশু আইনে ১৮ বছর পর্যন্ত শিশু বলা হলেও শ্রম আইনে বলা হচ্ছে, ১৪ বছর হলেই শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। এ আইনের মাধ্যমে শিশুশ্রমের সুযোগ রয়ে গেছে। জরিপ অনুসারে ১৪ বছরের নিচে ১৪ লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত। ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সের ১৭ লাখ শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। আবার গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুরা এ জরিপের আওতায় আসেনি। শুঁটকি তৈরি, পাথর উত্তোলন, বর্জ্য সংগ্রহকে ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়িত শিশুদের পুনর্বাসনে একটা নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকা উচিত। গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের রক্ষায় আইন থাকা উচিত। কারণ, তারা শ্রম আইনের আওতায় পড়ে না। আইএলও প্রণীত সর্বনিম্ন বয়স-সংক্রান্ত কনভেনশন এবং গৃহকর্মী কনভেনশনকে বাংলাদেশের দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

শিশুদের শারীরিক নির্যাতনের জন্য শিশু আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু এ বিধানের আওতায় শিশুদের শারীরিক অবমাননামূলক নির্যাতনকে পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। রেলওয়ে আইন-১৮৯০, প্রিজন অ্যাক্ট-১৮৯৪ এবং উইপিং অ্যাক্ট-১৯৯০-এর আওতায় অপরাধে অভিযুক্ত শিশুদের এ ধরনের নির্যাতনের সুযোগ রয়েছে, যেগুলো বাতিল করতে হবে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শিশু

অধিকার রক্ষা কমিশন গঠন। এর উদ্দেশ্য হবে শিশু আইন, শিশুনীতি এবং আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার যেসব সনদকে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেগুলো মানা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা।

রাশেদ খান মেনন

ইউএন চাইল্ড রাইটস কমিশনে দুটি আপত্তি দিয়েছে বাংলাদেশ। এর একটি সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ থেকেই বোঝা যায়, শিশু অধিকার নিয়ে আমরা কতটা আগ্রহী। শিশুদের ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নে সংবিধান বলছে- কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ানো যাবে না।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নিয়ে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। জনবল ও অবকাঠামো সমস্যায় এর অনেক ধারা সঠিকরূপে বাস্তবায়ন হয়নি। বাস্তবে নিয়ে আসার জন্য ঢাকায় কিছু আদালত গড়ে তোলা হয়েছিল।

অভিজ্ঞতা হচ্ছে, যে তিনটি সংশোধনাগার রয়েছে, সেখানে ধারণক্ষমতা নেই। কর্তৃপক্ষের আচরণও ভালো নয়। যশোরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

শিশুশ্রম বন্ধে আইন হয়েছে। অনেক খাতে শিশুদের শ্রমিক থেকে মুক্ত করা গেছে, যেমন-

পোশাক খাত। কিন্তু অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এখনও শিশুশ্রম রয়ে গেছে।

অ্যাডভোকেসি মাত্র রিপোর্ট আদান-প্রদানের মধ্যে না রেখে, সংসদের কাছে আরও বেশি ভূমিকা রাখা। যদি সংসদ সদস্যদের সুপারিশগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়, তাহলে আইন প্রণয়নে বড় ভূমিকা রাখা যাবে।

শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু কভিডকালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিশুরা। স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল। পরিবারকে সাহায্য করার জন্য অনেককে কাজে নামতে হয়েছে। মেয়েদের বাল্যবিয়ের খপ্পরে পড়তে হয়েছে। আমরা যেখানে এসডিজির কথা বলছি; কাউকে পেছনে রাখতে চাই না। সেখানে শিশুরাই পিছিয়ে রয়েছে। এমনটি হলে এসডিজি বাস্তবায়ন হবে না।

আরমা দত্ত

গত দুই বছরের মহামারিতে শিশুরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজকের অনুষ্ঠান থেকে যেসব সুপারিশ আসবে, তা নিয়ে আগামী তিন বছর কাজ করতে হবে। এ জন্য একটি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তাহলে একটি সফলতা আসতে পারে। ২০১৩ সালের যে শিশু আইনটি রয়েছে, তাতে অনেক ভালো দিক আছে; আবার অনেক ঘাটতিও আছে, যা পূরণ করতে হবে। কিন্তু দেখতে হবে আইনে যা আছে, তা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে। অনেক অর্জন হয়েছে; পুলিশ স্টেশনে ডেস্ক হয়েছে, অফিসার হয়েছে। কিন্তু এতে আসলেই কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে? এখন একটা পর্যালোচনা করা হয়েছে। শিশুর অধিকার কতটুকু রক্ষা করতে পারছে রাষ্ট্র? কভিড মহামারিতে শিশুদের একটা বড় অংশ শিক্ষা থেকে ঝরে গেছে। মেয়েদের বাল্যবিয়ে হয়েছে। এটা খুব উদ্বেগজনক। শিশুদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গেলে নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শিশুদের নিয়ে বিশেষভাবে বলা উচিত এখন। কারণ, মহামারিতে এই শ্রেণিগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা অনেক কিছু বলতে পারি, তবে করতে পারি কতটুকু? কিন্তু এখন সময় হয়েছে অল্প করে হলেও শিশুদের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করা। তারা যেন হারিয়ে না যায়; অপরাধে যুক্ত না হয় সে বিষয়ে কাজ করতে হবে। এসব বিষয়ে সরকারের কাজ করার সদিচ্ছা আছে; আমাদের সুন্দর সুন্দর আইন আছে, নীতিমালা আছে। কিন্তু শিশুদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে না কেন? কারণ, একটি মানবিক মনের প্রয়োজন, যেটার বড় অভাব। শিশু অধিকার কমিশন খুব জরুরি। কারণ, কমিশন থাকলে সবার কাজ করার সুযোগ হবে। শিশুদের অধিকার রক্ষা করা সহজ হবে। নতুন বছরে শিশুদের নিয়ে সংসদীয় ককাসকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এ জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

এম রবিউল ইসলাম

মানবাধিকার কমিশন যখন যাত্রা শুরু করে, তখন একটি বেজলাইন সার্ভে করেছিল কোথায় কোথায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেশি ঘটে। তাতে দেখা গেছে, শিশুদের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় অনেক বেশি। শিশু অধিকারবিষয়ক কমিশনের একটি কমিটি রয়েছে। শিশুদের নিয়ে যেসব সংগঠন কাজ করে, তাদের সঙ্গে কাজ করছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সিভিল সোসাইটির একটি বড় শক্তি। দীর্ঘদিন থেকে শিশু অধিদপ্তর, শিশু অধিকার কমিশনের কথা বলা হচ্ছে। মানবাধিকার কমিশন শিশু অধিদপ্তর ও শিশু অধিকার কমিশনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে। স্বাধীনতার পরই বঙ্গবন্ধু শিশুদের জন্য আইন করেছিলেন। এরও অনেক পরে ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শিশুদের অধিকার রক্ষায় সনদ প্রণয়ন করেছে। জাতিসংঘ বা অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কর্তৃক প্রণীত শিশুদের অধিকার রক্ষায় যেসব সর্বজনীন নীতি রয়েছে, এগুলোর স্বীকৃতি দিলেও অনেকটাই এখনও বাস্তবায়ন করেনি বাংলাদেশ। শিশুশ্রম নিয়ে কমিশন সাম্প্রতিক সময়ে একটি ধারণাপত্র তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে শ্রম মন্ত্রণালয়ে কিছু সুপারিশ প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু শ্রম মন্ত্রণালয় শিশুশ্রম বন্ধে তাদের পাঁচ বছর মেয়াদি যে কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে, তাতে কমিশনের সুপারিশমালার তেমন কোনো প্রতিফলন চোখে পড়েনি। যদিও এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

রাশেদা আক্তার

শিশুদের অধিকার রক্ষায় সংসদীয় কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০১২ সালে। উদ্দেশ্যে ছিল শিশুদের স্বার্থ নিয়ে তারা সোচ্চার থাকবে; শিশু অধিকার নিয়ে কথা বলবে। সিভিল সোসাইটির সঙ্গে সরকারের একটা সেতু হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু তাদের তেমন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। শিশুদের অধিকার রক্ষায় শিশু অধিদপ্তর ও শিশু অধিকার কমিশন গঠনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে সিভিল সোসাইটি। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। সংসদীয় কমিটিকে এসব বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় শিশু অধিকার সনদ নিয়ে কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউপিআর নিয়ে কাজ করছে। তাদের মধ্যে সমন্বয় থাকা উচিত। কারণ কখন কে কী সুপারিশ করছে, তা সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা না করা হলে তেমন কাজে আসবে না।

হুসাইন শাকির

দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু। তাদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের ওপরই নির্ভর করে দেশের অগ্রযাত্রা। কিন্তু এই শিশুরাই নানাভাবে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। করোনা মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিশুরাই। তাদের অধিকার রক্ষায় যেসব

আইন আছে, তারও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই পৃথক শিশু অধিদপ্তর এবং শিশু অধিকার কমিশন গঠন এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। শিশুদের নিয়ে যেসব আইন-রীতি রয়েছে, তা নিয়ে ওয়ার্ল্ড ভিশন সরাসরি মাঠে কাজ করছে।


আব্দুল্লাহ আল মামুন

জন্মনিবন্ধন, বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম, শিশু অধিকার নিয়ে অনেক কাজ করার আছে। এগুলো একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তবে রাতারাতি এসব থেকে বের হওয়া যাবে না। এর মধ্যে কভিড এসে সব উল্টেপাল্টে দিয়েছে। আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করছি। এখন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। দেশের শিশুদের নিয়ে কাজ করার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান হলো মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। দেশের ৪৪ শতাংশ শিশুকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার মতো জনবল, অবকাঠামো, সক্ষমতা, দক্ষতা এ প্রতিষ্ঠানের নেই। শিশুদের নিয়ে কাজগুলো বিক্ষিপ্তভাবে, অসমন্বিতভাবে করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ চিত্র কোথাও নেই। নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় যতটুকু কাজ করে শিশুদের নিয়ে, তার চেয়ে বেশি কাজ করে সমাজসেবা মন্ত্রণালয়। আরও বেশি কাজ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কাজগুলো সমন্বিতভাবে হওয়া উচিত। এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তাহলে কাঠামোগত সংস্কার করা যাবে, যাতে এ কাজগুলো সমন্বিত উপায়ে বাস্তবায়িত হয়। রাষ্ট্রের সদিচ্ছা রয়েছে, কিন্তু কোন জায়গা থেকে পরিকল্পনা করে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করলে জাতি পূর্ণাঙ্গ সফলতা পাবে। এ জন্য সরকারের কাছে আহ্বান- সবাইকে নিয়ে কাজ করলে শিশুদের অধিকার রক্ষায় আরও বেশি কাজ করা সম্ভব।

লোটন একরাম

দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ শিশু বেশি দরিদ্র। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ প্রণীত শিশু অধিকার সনদে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার সংরক্ষণে অনেক কাজও করেছে। আরও অনেক উন্নতি করা প্রয়োজন। কারণ, এখনও অনেক শিশু অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে। এই একবিংশ শতাব্দীতে তারা স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত; সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সের প্রায় ৪৪ লাখ শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে। কভিডকালে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪৪ শতাংশ শিশুর জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি। পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪৪ লাখের বেশি খর্বাকৃতির শিকার। প্রতি ১০ জনের ৯ জন শিশু তাদের প্রতিপালনকারীদের দ্বারা মানসিক বা শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়। দেশে এখন অর্ধেক সংখ্যকের বেশি শিশুর বিয়ে হয় ১৮ বছর পেরোনোর আগে। প্রায় দুই কোটি শিশুর জীবন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন; আইনকানুন ও নীতি প্রণয়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু জাতীয়ভাবে সমন্বিত শিশু সুরক্ষা কাঠামো না থাকায় শিশুদের কল্যাণে এসব আইন, নীতিমালা তেমন কাজে লাগছে না। বাজেট শিশুদের জন্য তেমন কাজে আসে না।

সামাজিক দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ থেকেই সমকাল এ আয়োজনে সম্পৃক্ত। এ ধরনের কাজের সঙ্গে সমকাল আগামীতেও থাকবে।


শিশু অধিকার রক্ষায় জন্মনিবন্ধন খুব জরুরি। আইন অনুসারে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে শিশুদের জন্মনিবন্ধন করতে হবে


মহামারিকালে যাদের বিয়ে হয়ে গেছে, তাদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা উচিত। বাল্যবিয়ে রোধে সব পর্যায়ে কমিটি গঠন করতে হবে


এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শিশু অধিকার রক্ষা কমিশন গঠন। এর উদ্দেশ্য হবে শিশু আইন, শিশুনীতি এবং আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার যেসব সনদকে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেগুলো মানা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা নতুন বছরে শিশুদের নিয়ে সংসদীয় ককাসকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এ জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে


স্বাগত বক্তব্য



নুয়ারা শফিক দিশা

প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর

আইন ও সালিশ কেন্দ্র



প্রবন্ধ উপস্থাপন




তাকবীর হুদা

আইনি গবেষক



প্রধান অতিথি



রাশেদ খান মেনন

সংসদ সদস্য



বিশেষ অতিথি



আরমা দত্ত

সংসদ সদস্য



অংশগ্রহণকারী



এম রবিউল ইসলাম

উপরিচালক

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন



রাশেদা আক্তার

চাইল্ড প্রটেকশন অ্যান্ড জেন্ডার জাস্টিস অ্যাডভাইজার

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ



হুসাইন শাকির

জাতীয় সমন্বয়ক

সুশাসন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ



আব্দুল্লাহ আল মামুন

পরিচালক

চাইল্ড রাইটস গভর্ন্যান্স অ্যান্ড

চাইল্ড প্রটেকশন

সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ


সঞ্চালক
লোটন একরাম

প্রধান প্রতিবেদক

সমকাল



অনুলিখন

হাসনাইন ইমতিয়াজ

স্টাফ রিপোর্টার

সমকাল

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com