আপন দর্পণ

সাহিত্যকে জীবিকার উপায় করতে চেয়েছি

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২১ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ময়ূখ চৌধুরী

- আত্মপ্রকাশলগ্নে কেন প্রতিবন্ধকতার কথা মনে পড়ে?

-- ১৯৬৫ সালের নেতিবাচক স্মৃতি সত্যিই এখন আর মনে নেই।

- প্রথম বই প্রকাশের স্মৃতি-

-- 'কালো বরফের প্রতিবেশী' (১৯৮৯) পল্লব পাবলিশার্স কী ভেবে ২২০০ কপি ছেপেছিল, আজও তা ভাবি।

- প্রিয় কবি, প্রিয় কবিতা-

-- প্রিয় কবি অনেক। প্রিয় কবিতা 'আট বছর আগের একদিন'।

- এখন কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

-- মন খারাপ করা কিছু ব্যাপার নিয়ে ব্যস্ত আছি, যার ফলে আমি ভালো নেই।

- ব্যক্তিজীবনের এমন কোনো সীমাবদ্ধতা আছে কি, যা আপনাকে কষ্ট দেয়?

-- সীমাবদ্ধতা তো অনেক; কোনটা রেখে কোনটা বলি! কেউ কেউ সত্যটুকু না জেনেই আমাকে ভুল বোঝেন। কীভাবে তাদের বোঝাব, বুঝতে পারি না।

- আপনার চরিত্রের শক্তিশালী দিক কোনটি বলে আপনি মনে করেন?

-- সহিষুষ্ণতা, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস।

- নিজের সম্পর্কে বেশি শোনা অভিযোগ কোনটি?

--আমি নাকি অহংকারী ও অসামাজিক।

- নিজের সম্পর্কে প্রিয়জনদের কাছ থেকে বেশি শোনা প্রশংসাবাক্য কোনটি?

-- এ প্রসঙ্গ থাক।

- কী হতে চেয়েছিলেন, কী হলেন?

--আমি সাহিত্য (বিশেষত কবিতা) রচনা করতে চেয়েছিলাম। সাহিত্যকে জীবিকার উপায় করতে চেয়েছিলাম। মনে হয় তা পেরেছি।

- আপনার প্রিয় উদ্ৃব্দতি কোনটি?

--Pardon all but thyself

-জীবনকে কেমন মনে হয়?

-- আমার কবিতার লাইন- 'জীবন, তোমাকে আমি কোনোদিন ক্ষমা করবো না।'

গ্রন্থনা : গোলাম কিবরিয়া

ময়ুখ চৌধুরীর কবিতা

কাটা পাহাড়
সাঁতার কাটবে বলে কোনো এক স্বরচিত নদী
পায়ে পায়ে একদিন পাহাড়ের কাছে এসেছিল।
পাহাড় দো-ফাঁক হয়ে রাস্তা করে দিয়েছিল তাকে।
হঠাৎ কী জানি হলো
নদীটা গুটিয়ে গেল শামুকের কঠিন খোলসে।
কাটা পাহাড়ের মাংস
কে দেবে সেলাই করে শুনি!

রোহিণীর স্নান

জলের ঘটনাটুকু অনায়াসে মুছে ফেলা যেত।
জঙ্ঘাদেশে, নক্ষত্রের যুগল কম্পনে
লেপ্টে থাকা সাদা শাড়ি পায়ে পায়ে উঠে এসেছিল,
উঠে এসেছিল লুব্ধ মৃত্যুর নিকট।
কী এমন দোষ ছিল রোহিণীতে কিংবা বৃষ্টিপাতে-
নিয়তির মধ্যে যার মাধ্যাকর্ষণের হাতছানি!
জলের তরঙ্গপটে আমরা কি কখনো দেখিনি
উন্নত বৃক্ষের শাখা চুম্বনকাতর ঠোঁটে
কীভাবে তৃষ্ণায় ঝুঁকে পড়ে!
এই সব দৃশ্যের আগুন নিয়ে একা জলাশয়ে
মাছের স্পর্শ পেতে রোহিণী রচনা করে অর্থহীন স্নান।
জলের লিখনটুকু অনায়াসে মুছে ফেলা যেত,
তবু মাছরাঙা সরলো না।

অন্য রকম আগুন

ফুঁ দিয়ে নেভাতে চাও? নেভাও।
ওটা কিন্তু আমিই জ্বালিয়েছি।
একবার ওইদিকে, আরেকবার ওদিকে তাকিয়ে
হঠাৎ হঠাৎ করে ফুঁ দিচ্ছ, দাও।
ধরো, কেউ দেখে ফেললো
এবং জিজ্ঞাসা করলো- কী হয়েছে?
তুমি বলতেও চাইবে, আবার বলতেও পারবে না;
নেভাতেও চাইবে, কিন্তু ফুঁ দেবে খুব আস্তে করে।
-কেন?

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com