আশ্বাসে বিশ্বাস নয় নিরাপদ সড়ক চাই

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

২৯ নভেম্বর ২১ । ০০:০০

সমকাল প্রতিবেদক

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রোববারও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে দেখা যায় 'পড়তে এসেছি, মরতে নয়' লেখা প্ল্যাকার্ড - সমকাল

শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলেই নিরাপদ সড়কের আশ্বাস দেওয়া হয়। রাজপথ ছেড়ে দিলেই ফিরে আসে সেই বিশৃঙ্খলা। মানুষ মরে। পথে পথে ঝরে যায় স্বপ্ন। ফলে আশ্বাসে তাদের আর বিশ্বাস নেই। সড়ক নিরাপদ করতে সরকারের আগের সব প্রতিশ্রুতির এখনই বাস্তবায়ন চান তারা।

গতকাল রোববার নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তা অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের কণ্ঠে ছিল দাবি বাস্তবায়নের এসব শানিত উচ্চারণ। তাদের কর্মসূচির কারণে গাড়ির চাকা থেমে যাওয়ায় সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে যানজট সৃষ্টি হয়।

তিন বছর আগের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সড়ক নিরাপত্তার গলদ বেরিয়ে এসেছে। নগরের আটটি পয়েন্টে বিআরটিএ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও লাইসেন্স ছাড়াই স্টিয়ারিংয়ে বসছেন চালক নামের চতুর লোকজন। তারা ধরা পড়েছেন শিক্ষার্থীদের হাতে।

গতকাল ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে সাভার পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯৭৯২) একটি বাস আটকে চালকের লাইসেন্স দেখতে চান শিক্ষার্থীরা। এ সময় সত্য বেরিয়ে আসে। স্টিয়ারিংয়ে থাকা লোকটি চালক নন, তিনি বাসটির হেলপার। শিক্ষার্থীরা এই হেলপার ও বাসটিকে পুলিশের হাতে বুঝিয়ে দিলে বাসটি ডাম্পিং করা হয়।

একই সড়কে পুলিশের গাড়ির কাগজও পরীক্ষা করেন শিক্ষার্থীরা। পৃথক মোটরসাইকেলের আরোহী দুই পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজনের লাইসেন্স ছিল না। অপরজনের হেলমেট ছিল না। শিক্ষার্থীদের দাবিতে তাদের জরিমানা করা হয়। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের গাড়ির কাগজ পরীক্ষা করেন তারা। সংবাদপত্রের স্টিকারধারী গাড়িও বাদ যায়নি।

সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসানের মৃত্যুতে সড়ককে নিরাপদ করতে ৯ দফা দাবি নিয়ে গত বুধবার রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা। বাসে হাফ বা অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে তারও দিন দশক আগে থেকে তাদের আন্দোলন চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে মিছিল বের করেন ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ, আইডিয়াল কলেজসহ কয়েক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্মধারী শিক্ষার্থীরা। প্রায় শ খানেক ছাত্রছাত্রী জাতীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড হাতে হেঁটে সায়েন্স ল্যাব থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন। পথে কলাবাগানে রাস্তা আটকে স্লোগান দেন তারা। সেখানে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চলছিল। আদালতের সামনেই কয়েকটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল আটকে চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস', 'আমরা বাঁচতে চাই', 'আমার ভাই সড়কে মরে/প্রশাসন ঘুমের ঘোরে', 'আর নয় আশ্বাস, নিরাপদ সড়ক চাই' স্লোগান দেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ফেসবুকভিত্তিক সংগঠন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের (নিসআ) যুগ্ম আহ্বায়ক ইনজামুল হক সমকালকে বলেছেন, তাদের কর্মসূচি জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে নয়। শিক্ষার্থীরা যেন সড়কের দুই লেন খোলা রেখে মিছিল সমাবেশ করেন, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ নির্বিকার থাকায় রাস্তার অর্ধেক খোলা রাখা যাচ্ছে না।

ইনজামুল হক আরও বলেন, সড়কে অবস্থানের কারণে জনদুর্ভোগ হওয়ায় আজ সোমবার রাস্তা অবরোধ না করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ৯ দফা দাবিতে মানববন্ধন করা হবে। যখনই আন্দোলন হয়, তখনই সরকার আশ্বাস দেয় সড়ক নিরাপদ হবে। আইন হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। শিক্ষার্থীরা আর প্রতিশ্রুতি নয়, নিরাপদ সড়ক চায়।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে ট্রাফিক সার্জেন্ট রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ জানান, শিক্ষার্থীরা পরিবহনের কাগজপত্র দেখছে, বাসের ফিটনেস সনদ দেখছে। 'ঠিকানা' ও 'সাভার' পরিবহনের দুটি বাসের চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। চালাচ্ছিলেন হেলপার। বাস দুটি ডাম্পিং করে মামলা করা হয়েছে।

বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ছাত্ররা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে উত্তরায় হাউস বিল্ডিং এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন ওই এলাকার শিক্ষার্থীরা। এতে ব্যস্ততম সড়কটির যানজট সৃষ্টি হয়। হাজারো যাত্রী আটকা পড়েন। অনেকে গাড়ি ছেড়ে হেঁটে গন্তব্যে যান।

এদিকে, গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে মানববন্ধন করে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com