লিটনের ক্ল্যাসিক সেঞ্চুরি

২৭ নভেম্বর ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২১ । ০০:৫৯

আলী সেকান্দার, চট্টগ্রাম থেকে

লিটন ঝাঁপিয়ে পড়ে পপিং ক্রিজ স্পর্শ করতেই ড্রেসিংরুমের সামনে দাঁড়িয়ে বাহু ঝাঁকালেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। কিছুদিন আগেই ওই বাহু জোড়াকে বলহীন করে দিয়েছিল টি২০ বিশ্বকাপ আর পাকিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশ। সেই পাকিস্তানের বিপক্ষে লিটনের টেস্ট সেঞ্চুরি বলীয়ান করল কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এবং তার ড্রেসিংরুমকে। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে লিটন যেন ছড়িয়ে গেলেন সতীর্থদের মাঝে। তাই তার হয়ে সেঞ্চুরি উদযাপন করলেন সতীর্থরাই। আর তিনি থাকলেন শান্ত ধীর। দু'হাত তুলে শুধু ড্রেসিংরুমের দিকে ডানা মেললেন মুহূর্তের জন্য। সময় ক্ষেপণ না করে ফিরে গেলেন ক্রিজে। সতীর্থ মুশফিককেও তো সেঞ্চুরি করার সুযোগ দিতে হয়। মুশফিকের সেঞ্চুরি হয়নি, তবে আজ হতে পারে। তারা যদি ২০৪ রানের অপরাজিত জুটিকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করতে পারেন।

৪৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর মুশফিক আর লিটন গাঁটছড়া বাঁধেন। দু'জনের হৃদয়েই ছিল ক্ষত, টি২০ দল থেকে বাদ পড়ার দহন। জেদ ছিল ছাই চাপা আগুনে। অপমানের জ্বালা জুড়াতে জ্বলে ওঠার পণ করেছিলেন দু'জনে। মুশফিক বা লিটন জ্বলেননি; জ্বলেছে তাদের ব্যাট। একজন পেলেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, অন্যজন অষ্টম সেঞ্চুরির অপেক্ষায়। দু'জনই অপরাজিত ১১৩ আর ৮২ রানে। কে কোন স্কোরে, সেটা বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ১১টা ১৯ মিনিটে ক্রিজে এসেছিলেন লিটন। সাড়ে চার ঘণ্টা ব্যাট করেন টানা। শরীরের পেশিতে টান পড়েছে, বাঁহাতের কবজির পুরোনো ব্যথা মাথাচাড়া দিয়েছে, ফিজিও বায়েজিদুল ইসলামের কাছ থেকে সাময়িক শুশ্রূষা নিয়ে আবার খেলায় ফিরেছেন। দিনের শেষ বল পর্যন্ত মনোবল শক্ত রেখে থেকেছেন অপরাজিত।

আরাধ্য সেঞ্চুরির দেখা পেতে ২৬ টেস্ট লেগেছে লিটনের। ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ৪৪ রান দিয়ে ভারতের বিপক্ষে। ৪২ ইনিংসে উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে কম যেতে হয়নি। নার্ভাস ৯০-এর ঘরে পৌঁছে আউট হয়েছেন দু'বার। এ বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৫ রানে উইকেট বিসর্জন দিয়েছেন হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। অধারাবাহিক ব্যাটসম্যান হিসেবে সমালোচিত হয়েছেন দিনের পর দিন। কখনও কখনও সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু কোচিং স্টাফ লিটনের পক্ষ নিয়েছেন। জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জির কাছে লিটন ছিলেন মেধাবী। বর্তমান ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স দায়িত্ব নিয়ে লিটনকে ক্ল্যাসিক ব্যাটারের তকমা দিয়েছেন। লিটন তার প্রকৃত ক্লাস দেখালেন গতকাল চট্টগ্রামে। প্রথম সেশনে এক ঘণ্টা ১৯ মিনিটে দল যখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে, সেই কঠিন সময়ে অগ্রজ মুশফিকের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ইনিংস মেরামতের কাজে। এক প্রান্তে মুশফিক ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে থাকলেও লিটন মারার বলে শট খেলেছেন। ৯৫ বলে ছুঁয়েছেন হাফসেঞ্চুরি নোমান আলিকে বাউন্ডারি মেরে। পরের পঞ্চাশ করতে লেগেছে ১০৪ বল। নার্ভাস নব্বইয়ের ঘরে ঢোকার পর ঝুঁকিপূর্ণ শট নেননি। ৯৭ রান থেকে শতরানে গেছেন এক এক করে নিয়ে। নোমানের বল মিড অফে ঠেলে দিয়ে প্রান্ত বদল করে সাড়ে ছয় বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান। এই কাব্যিক ইনিংসের ভেতরেই লেখা রয়েছে উপেক্ষার জবাব। টি২০ বিশ্বকাপে ভালো খেলতে না পারায় দল থেকে বাদ পড়ার অপমানের জ্বালা জুড়ানোর দাওয়াই। কিছুদিন আগেই যারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, গতকাল তারাই লিটনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। প্রধান কোচ ডমিঙ্গো বাহু ঝাঁকালেন, ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স প্রশংসার স্তুতি গাইলেন জুম সংবাদ সম্মেলনে। সত্যিই ডমিঙ্গো, বিচিত্র এই ক্রিকেট দুনিয়া।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com