এসডিজি অর্জনে চাই অকুপেশনাল থেরাপি

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২১ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

--

দেশের মানুষ অকুপেশনাল থেরাপির সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত নন। শুধু পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীই নন; প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অটিজমে আক্রান্ত শিশু থেকে শুরু করে অনেক রোগের ক্ষেত্রেই অকুপেশনাল থেরাপিস্টের নানামাত্রিক ভূমিকা রয়েছে। দেশে এক কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ও মানসিক রোগে ভুগলেও তাদের চিকিৎসার জন্য খুব বেশি সুযোগ এখনও নেই। এই রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অকুপেশনাল থেরাপির স্নাতক ও ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা উচিত। এতে প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়বে। সেইসঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন নতুন পদ সৃষ্টি করে এসব পদে থেরাপিস্ট নিয়োগ দিলে সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে। এসডিজির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে অকুপেশনাল থেরাপির বিকল্প নেই।

বিশ্ব অকুপেশনাল থেরাপি দিবস উপলক্ষে গত ২০ অক্টোবর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। যৌথভাবে এর আয়োজন করে বাংলাদেশ অকুপেশনাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিওটিএ), সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি), বেলা রিহ্যাবিলিটেশন সল্যুশন পয়েন্ট এবং সমকাল।



ডা. শামীম আহাম্মদ (ওটি)

'সক্ষমতা বাড়াতে, কাজ করি একসাথে' এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে ১২তম বিশ্ব অকুপেশনাল থেরাপি দিবস, যা বাংলাদেশে সিআরপি-এর অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগ, বাংলাদেশ অকুপেশনাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিওটিএ) বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রয়াস। প্রচারের অভাব থাকার কারণে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ অকুপেশনাল থেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতির কথা এখনও ঠিকমতো জানে না। পক্ষাঘাত বা অটিজম ছাড়াও শরীরের নানা সমস্যা সমাধানে অকুপেশনাল থেরাপিস্ট সহায়তা করতে পারে। অবশ্য আমাদের দেশে প্রশিক্ষিত অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের অভাবও প্রকট। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোর্স চালু করে থেরাপিস্টের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। অকুপেশনাল থেরাপিতে পড়াশোনা করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, চাকরির জন্য বসে থাকতে হয় না। বর্তমানে যারা এই বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তারা ডিগ্রি অর্জনের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই চাকরিতে প্রবেশ করতে পারছেন বা নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করে নিতে পারছেন। যারা অকুপেশনাল থেরাপিতে পড়াশোনা শুরু করতে চান, তাদের জন্য এটি অবশ্যই সুখবর।



মুস্তাফিজ শফি

আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নানামাত্রিক যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে অকুপেশনাল থেরাপি অন্যতম। এই চিকিৎসা ব্যবস্থাটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। আমরা একটি গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশের জন্য একটি সুন্দর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে চাই। আমরা আপনাদের কথা পত্রিকার পাতায় লিখতে চাই। আশা করি, এই লেখাগুলো সমাজে প্রভাব বিস্তার করবে।



মো. আশরাফ আলী খান খসরু


মানুষ অকুপেশনাল থেরাপির ব্যাপারে অজ্ঞ। মানুষকে এই চিকিৎসা সম্পর্কে জানাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক আহত মুক্তিযোদ্ধাকে সুস্থ করতে দেশে এই ধরনের সেবা শুরু হয়। বর্তমানে পুনর্বাসন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য আমাদের ১০৩টি সেন্টার রয়েছে। এ ছাড়া ৪০টি ভ্রাম্যমাণ সেন্টারও আছে। ক্যান্সার রোগীদের জন্যও আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য আমরা টাকা দিচ্ছি। আমাদের দরজা সবসময় খোলা আছে।

এ বিষয়ে আমরা অনেক টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। ঢাকা মেডিকেলকে আমরা ৫ কোটি টাকা দিয়েছিলাম। তারা টাকাটা খরচ করতে পারেনি। বিএসএমএমইউ পেরেছে। ময়মনসিংহ, রংপুর ও দিনাজপুরকে আমরা টাকা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আমরা সার্বিকভাবে কাজ করার জন্য প্রস্তুত আছি। অনেক এনজিও বা সংগঠন আমাদের কাছে প্রকল্প উপস্থাপন করছে, ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের আমরা টাকা দিয়ে থাকি। কেউ সত্যিকারের কাজ করতে চাইলে বলবো, আপনারা আমাদের কাছে আসেন, প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করেন, আমরা চেষ্টা করবো সহযোগিতা করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্য করেন, আমাদের দেশের কোন অঞ্চলগুলো শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে পিছিয়ে আছে। সেসব অঞ্চলে সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি সবসময় বলেন। আমার মন্ত্রণালয় রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল ও প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি অকুপেশনাল থেরাপিস্টগণ দ্রুতই এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অকুপেশনাল থেরাপি সেবার মাধ্যমে পুনর্বাসন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।



ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত


অকুপেশনাল থেরাপি বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে। শুধু অন্ধ, বধির বা পক্ষাঘাতগ্রস্তদের নিয়ে যে আমরা কাজ করব, এমন নয়। অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের সবকিছু নিয়েই কাজ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল এটি অনেক আগেই অনুধাবন করতে পেরেছেন। বঙ্গবন্ধুর রক্ত যার শরীরে সে কখনও বসে থাকতে পারবেন না। তিনি সমাজসেবা করবেনই। আমি তার পেছনে কাজ করছি। শুধু একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের জন্যই অকুপেশনাল থেরাপিস্ট নয়। একজনের ঘুম হয় না, পড়ায় মনোযোগ দিতে পারছে না বা খেলাধুলায় ভালো করতে পারছে না তাদের জন্য অকুপেশনাল থেরাপিস্ট প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী বলব না, এই যে স্পেশাল ক্লাস অব পিপল, তাদের আমাদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। আমরা পারব। অনেক প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, যারা টাকা নিচ্ছে তারা সামাজিক সেবাটি দিচ্ছে না। চিকিৎসা এবং শিক্ষা যখন পণ্য হয়ে যায়, তখন সেটার মান ঠিক থাকে না। এসব কারণে মানুষ এখন ইন্ডিয়া বা সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে। অকুপেশনাল থেরাপির ক্ষেত্রে যেন এমন না হয়। অকুপেশনাল থেরাপির মধ্যে ইমোশনাল এস্পেক্ট যুক্ত করতে হবে। আমাদের এই করোনাকালীন মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, এটি সমাধানে কাজ করতে হবে। এই দুই বছরের ভোগান্তির জন্য আমাদের আগামী তিন বছরের শিক্ষার মান নেমে যাবে কিনা, সেটি নিয়ে আমি শঙ্কায় আছি। কারণ, শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকরাও মানসিকভাবে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই।



ডা. মো. এনামুর রহমান


অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের কাজের যে দীর্ঘ তালিকাটি আছে তার জন্য আমাদের অনেক বেশি জনবল প্রয়োজন। এই থেরাপিস্টরা না থাকলে আমরা এসডিজির চারটি গোল অর্জন করতে পারব না, এটি আমাদের জন্য আজকের আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। একজন মানুষের যেকোনো রকম ডিজঅ্যাবিলিটি থাকুক না কেন, স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে মানিয়ে চলা খুব বেশি সহজ না। প্রাইভেট সেক্টরকেও এই অকুপেশনাল থেরাপিস্ট প্রশিক্ষণ ও শিক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

আমি নিজেই ভুক্তভোগী ছিলাম। হুইলচেয়ারে করে আমাকে চলাফেরা করতে হয়েছে। অনেক ডাক্তার দেখিয়েও এর কোনো সমাধান পাইনি। পরে অকুপেশনাল থেরাপির মাধ্যমে সুস্থ হয়ে হাঁটতে পারছি। বর্তমানে আমি অনেকটাই সুস্থ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কতটা আধুনিক ছিলেন, তিনি দেশ স্বাধীনের পরপরই তৎকালীন আরআইএইচডি বর্তমানে নিটোরে (পঙ্গু হাসপাতাল) অকুপেশনাল থেরাপি ও ফিজিওথেরাপির জন্য প্রতিষ্ঠান করে দিয়েছেন। অটিস্টিক শিশুদের আমরা প্রতিবন্ধীদের তালিকায় ফেলে দিয়েছিলাম। তবে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার কন্যা এসব নিয়ে কাজ করায় আমরা সামনের দিকে অনেক এগিয়ে গেছি। আমরা কাজ করতে চাই, আপনাদের দাবিগুলো কম্পাইল করে আমাকে লিখিত দেন। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করব।



ড. সামান্থা শান

বিশ্বের অনেক দেশেই প্রতিনিয়ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও অকুপেশনাল থেরাপিস্টের সংকট রয়েছে। আমাদের সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। কভিড মহামারিতে পরিবর্তিত জীবন ব্যবস্থায় মানুষকে পুনরায় শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ করে সক্ষম করে তুলতে অকুপেশনাল থেরাপিস্টরা বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধি, যথাযথ গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের স্বতন্ত্র পেশাজীবী হিসেবে কাজ করার বিষয়ে ডব্লিউএফওটি নির্দেশনা দিয়েছে। সব সদস্য দেশে এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে সবাই মিলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে অকুপেশনাল থেরাপি পেশার প্রসারের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।



অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খান


২০১০ সালের আগ পর্যন্ত আমি নিজেও ভাবতাম চিকিৎসার একমাত্র মাধ্যম অপারেশন বা ওষুধপথ্য। তবে পরে আমি অকুপেশনাল থেরাপির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছি। সম্পূর্ণভাবে একজন সুস্থ মানুষ মানেই যে তিনি সবদিক থেকে সুস্থ থাকবেন এমন কিছু নয়। অনেক মানুষ আছেন যাদের বাহ্যিকভাবে আপাত সুস্থ মানুষ মনে হলেও তারা অভ্যন্তরীণভাবে অসুস্থতায় ভোগেন। অকুপেশনাল থেরাপিস্টরা তাদের সহায়তা করতে পারবেন। আমাদের অকুপেশনাল থেরাপিস্টের সংখ্যা বাড়ালে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও ভালোর দিকে যাবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে হেলথ প্রফেশনালের সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে, সেই সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হেলথ কেয়ার সার্ভিসের কোর্সের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আমাদের দেশে প্রতি তিন হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন চিকিৎসক আছেন। আমাদের ডাক্তারদের সঙ্গে সঙ্গে অকুপেশনাল থেরাপিস্টের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের পরিচিতিও বাড়াতে হবে। সমন্বিতভাবে আমরা কাজ করলে এ সমস্যাটি থেকে খুব দ্রুত আমরা পরিত্রাণ পেতে পারব।



অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল


আমাদের দেশে সেভাবে আমরা অকুপেশনাল থেরাপিস্ট বাড়াতে পারছি না। যদি আমরা দেশের ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন থেকে উপকার পেতে চাই তাহলে সেগুলোকে পরিবেশ সচেতন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এসব ইন্ডাস্ট্রিকে সচল রাখতে হলে অকুপেশনাল থেরাপিকে গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ দেশের অনেক শ্রমিকই শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে থাকেন। আমাদের দেশের সার্ভিস সেক্টর ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরে যারা কাজ করেন, তাদের সবার জন্যই অকুপেশনাল থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনা বা অন্য বিভিন্ন কারণে যারা সমস্যায় আছেন, তাদের সুস্থ করে তুলতে অকুপেশনাল থেরাপি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আমার মনে হয়।

সরকারের নীতিনির্ধারক অনেকেই আমাদের এখানে উপস্থিত আছেন, তাদের প্রতি আমার নিবেদন থাকবে তারা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল দেশে এই ধরনের রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে নিশ্চিত করা ও দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য এই রোগীদের উপযুক্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।



মোহাম্মদ ইসমাইল

আমাদের যে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন পাস হয়েছে তা থেকে আলাদা একটি বিভাগই আমাদের তৈরি করতে হবে। অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিতে হবে। এসব বিষয়ে চাকরির সুযোগও অনেক বেশি। দেশে প্রতিবন্ধী স্কুল ও প্রতিষ্ঠান বাড়ায় চাহিদাও বেড়েছে। আমাদের ৩৩ সদস্যের কাউন্সিল কমিটি ও ৭ সদস্যের নির্বাহী কমিটি করা হয়েছে। আইনের বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে, এটি এখন নির্বাহী কমিটিতে যাবে। আইনটাকে বাস্তবায়ন করতে না পারলে আমরা কোনো সুফলই পাবো না। আইনের ফলে প্রতিবন্ধীদের সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এতে প্রতিবন্ধীসহ অন্যদের অধিকার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আইনটি বাস্তবায়িত হলে দেশের এই সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ২১টি পদে নিয়োগের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, তিনি অনুমোদন দিলে দ্রুতই আমরা বাকি কাজগুলো করতে পারব।



ড. মো. সোহরাব হোসেন

আমরা সবাই জানি, পুনর্বাসনে অকুপেশনাল থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সিআরপিতে আমরা শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। একটা মানুষকে সুস্থ করতে গেলে যেহেতু একটি টিমওয়ার্ক প্রয়োজন, সারাদেশে অকুপেশনাল থেরাপিস্ট নিয়োগ দেওয়া উচিত। আমাদের দেশের অনেকেরই প্রতিবন্ধিতা আছে। দক্ষ থেরাপিস্ট নিয়োগ দিলে তাদের সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশের ১৩টি জায়গায় সিআরপি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। একজন রোগী শুধু তার অসুস্থতা নিয়েই আসে না। তাদের আরও অনেক সমস্যা থাকে। তাদের চাকরিসহ দৈনন্দিন চলাফেরা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের অকুপেশনাল থেরাপিস্ট প্রয়োজন। সিআরপির মতো একটি প্রতিষ্ঠান সারাদেশে একা কার্যক্রম চালাতে পারবে না। এর জন্য অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ অনেকেই আছেন যারা শারীরিক প্রতিবন্ধিতা নিয়েও সারা বিশ্বে ছাপ ফেলেছেন। তাই তাদের হেলা করা উচিত হবে না। অক্ষমতা নয়, আমরা সবাইকে ভিন্নভাবে সক্ষম করে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের সিআরপিতে এমন অনেক চিত্রশিল্পী আছেন, যারা মুখ দিয়ে ছবি আঁকেন এবং সেই ছবি বিদেশে বিক্রিও হয়।



তালাত মামুন

প্রায় দুই কোটি লোক মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে। গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আমরা অনেক সভা-সমাবেশ কাভার করি। আমি আশা করব, সামনের দিনগুলোতে আমাদের এই কর্মসূচি ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। তাহলেই আমাদের আজকের এই অনুষ্ঠান সার্থক হবে। আমরা গণমাধ্যমকর্মীরাও এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলো থেকে শিখতে পারব বলে আশা করছি।



অধ্যাপক ড. লিনেট ম্যাকেঞ্জি


এই অনুষ্ঠানে আসার আগে আমি আমার এক বাংলাদেশি সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, এই বাংলাদেশে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বাস করা লোকের সংখ্যা অনেক। তখন আমি কিছুটা অবাকই হয়েছি। তাই, আমার মতে বাংলাদেশকে সামনের দিনগুলোতে অনেক কাজ করতে হবে।

অকুপেশনাল থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই থেরাপি প্রত্যেক মানুষকে সম্পূর্ণরূপে সক্রিয় করে তোলে। বাংলাদেশে অনেক পরিবেশগত বিষয় আছে, যেগুলো অকুপেশনাল থেরাপিকে প্রভাবিত করে। তাই, এখানে এই বিষয়ে কাজ করা অনেক চ্যালেঞ্জিং বলে আমার মনে হয়েছে। এসবের পাশাপাশি অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের সরকারি স্বীকৃতির প্রয়োজন রয়েছে। আমি বৈশ্বিক অনকোলজি পুনর্বাসন চিকিৎসার সঙ্গেও জড়িত আছি। সারা বিশ্বে মিলিয়নের বেশি উদাহরণ আছে, যেখানে অকুপেশনাল থেরাপি প্রত্যেক মানুষকে সুস্থ করে তোলে। পেশাদার অকুপেশনাল থেরাপিস্টরাই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। আমরা যদি অকুপেশনাল থেরাপিস্টের সংখ্যা বাড়াতে পারি, তাহলে আমরা আরও বেশিসংখ্যক মানুষকে পুনর্বাসনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব। আমি আশা করছি, আমরা সামনের দিনগুলোতে অবস্থার কিছুটা হলেও পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারব।



এএইচএম নোমান খান


আমাদের অনেক সহকর্মী আছেন, যারা হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। তাদের ক্ষেত্রে কাজ করার পরিবেশ যদি সহায়ক না হয়, তাহলে তারা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না। দেশে দেড় কোটির বেশি মানুষ প্রতিবন্ধিতার শিকার। প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রচুর মানুষ আছেন, যাদের প্রতিবন্ধিতার কথা আমরা জানতেই পারছি না। তাদের অনেকেরই প্রতিবন্ধিতা বাড়ছে, কারণ তারা অকুপেশনাল থেরাপি নিতে পারছে না।

অস্ট্রেলিয়াতে দুই কোটি জনসংখ্যার জন্য ২৫ হাজার গ্র্যাজুয়েট অকুপেশনাল থেরাপিস্ট রয়েছেন। আমাদের দেশে অকুপেশনাল থেরাপিস্টের চাহিদা তৈরি হয়নি। আমার অনেক বন্ধু বা সহকর্মী আছেন, যারা অকুপেশনাল থেরাপিস্ট হয়েও দেশের বাইরে চলে গেছেন। কারণ আমাদের দেশ তাদের মূল্যায়ন করতে পারছে না। এক্ষেত্রে সরকার চাইলে অনেক পদক্ষেপই নিতে পারে। আমাদের দেশে সরকার যে দুটো আইন করে দিয়েছে সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব নিয়ে দেশের মানুষের কাছে অকুপেশনাল থেরাপির বিষয়টিকে বোঝাতে হবে। আমরা যদি এই অকুপেশনাল থেরাপিকে সব মানুষের কাছে নিয়ে যেতে পারি তাহলে এই থেরাপিস্টের চাহিদা বাড়বে। তাহলেই দেশে নতুন থেরাপিস্ট তৈরি হবে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পর্যাপ্ত সেবা পাবে। আমাদের আইনি কাঠামো আছে, এখন প্রয়োগ কাঠামোকে সক্রিয় করতে হবে। আমাদের গ্রামে-গঞ্জে অকুপেশনাল থেরাপিস্টের চাহিদা তৈরি হচ্ছে, এখন সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।



অধ্যাপক খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন


আমরা যে সময়ে এই বিষয়ে কথা বলছি, যখন ডিজঅ্যাবল মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা বন্যা, সাইক্লোনসহ অনেক দুর্যোগের শিকার হই। এসব দুর্যোগ এলাকায় অনেক শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতার রোগী পাওয়া যায়। এমন রোগীও আমরা পাই, যারা এসব দুর্যোগের বিভিন্ন ঘটনার কারণে ট্রমার মধ্যে পড়ে যায়। এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আমাদের যথেষ্ট অকুপেশনাল থেরাপিস্ট নিয়োগ করা হয়নি। সিডর, আইলার মতো দুর্যোগে ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন মানুষকে সাইক্লোন সেন্টারে যেতে হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন কারণে তাদের অনেকেই শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতার শিকার হয়। তাদের আলাদা করে মানসিক ও শারীরিক সাপোর্ট দিতে হয়।

আমাদের দেশে মাত্র তিনশর কিছু বেশি অকুপেশনাল থেরাপিস্ট রয়েছেন। এই অল্পসংখ্যক থেরাপিস্ট দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, অথচ তাদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আমাদের এই টেবিলে বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি আছেন। আমি তাদের বলব, ভিন্নভাবে সক্ষম এই ব্যক্তিদের জন্য সহজগম্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে অকুপেশনাল থেরাপিস্ট অত্যন্ত প্রয়োজন। সেইসঙ্গে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।



অধ্যাপক ড. অ্যালিসন লেভের ফাউসেট


আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে অকুপেশনাল থেরাপিস্টের সংখ্যা বিশ্বের মধ্যে নিচের সারিতে আছে। এই দেশে অনেক রোগী আছেন যারা অকুপেশনাল থেরাপি থেকে উপকৃত হতে পারেন। আমি বলব, থেরাপিস্টের এ সংখ্যাটি বাড়ানো উচিত। অকুপেশনাল থেরাপিস্টের সংখ্যা বাড়াতে হলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অকুপেশনাল থেরাপি কোর্স বাড়াতে হবে। আপনি যদি অনেক বেশি শিক্ষার্থী এই কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন তাহলে থেরাপিস্টের সংখ্যাও বেড়ে যাবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অকুপেশনাল থেরাপিস্ট নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হলেও সংখ্যাটি বাড়বে। অকুপেশনাল থেরাপিস্ট অ্যাসোসিয়েশনকে রেজিস্টার্ড অকুপেশনাল থেরাপিস্ট তৈরি করতে হবে। সেই সঙ্গে অকুপেশনাল থেরাপিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্টের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশকে সেই সঙ্গে তাদের নিজস্ব গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা উচিত, যারা দেশের রোগী ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করে নতুন নতুন সমাধান নিয়ে আসবে। মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। এসডিজির যে লক্ষ্যগুলো আছে সেগুলো অর্জন করতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই অকুপেশনাল থেরাপির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।



ডা. মো. ফিরোজ কবির (পিটি)


অকুপেশনাল থেরাপি ও ফিজিওথেরাপির মতো কোর্সগুলো বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই তৈরি হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ডিজঅ্যাবলদের জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট ছিল, সেটিকে আরআইএইচডি থেকে নিটোরে রূপান্তর করে মনোটোনাস করে ফেলা হয়েছে। যদি আগের ইনস্টিটিউটটি থাকতো তাহলে অকুপেশনাল থেরাপি কোর্সটি আজও চলতো। আমি এটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, বাংলাদেশে হাজার হাজার অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ও ফিজিও থেরাপিস্ট তৈরি করা হলে তাদের আলাদা করে চাকরি দিতে হবে না। তারা নিজেরাই নিজেদের চাকরির ব্যবস্থা করে নিতে পারবে।



মুহাম্মদ জুলকার নায়েন

আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আপনারা এই অনুষ্ঠানে আসায় সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই। রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা পাস করে বের হবে তাদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারলে, আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ তৈরি করতে পারব। এছাড়া, সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অকুপেশনাল থেরাপি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা না গেলে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে ৮৪টি গ্র্যাজুয়েট অকুপেশনাল থেরাপিস্টের পদ সৃষ্টির জন্য সুপারিশ করা হয়। এর নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। দেশের এই বিপুল পরিমাণ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা চাহিদা পূরণে এর দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এর বাইরে, রাজস্ব খাতে প্রথম শ্রেণির সম্মানজনক কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে বিদেশে অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের মেধাপাচার রোধ করতে হবে।



ডা. রাজীব হাসান (পিটি)


জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে এই অকুপেশনাল থেরাপিস্টের ৯৬টি পদ আছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও অকুপেশনাল থেরাপিস্ট পাচ্ছি না, কারণ যথাযথ পদমর্যাদা ও সুবিধাদি না থাকায়। বিশ্বের অনেক দেশেই ইমার্জেন্সি কাজে রিহ্যাবিলিটেশন টিম কাজ করছে। আমাদের বাংলাদেশেও যদি এ ধরনের রিহ্যাবিলিটেশন টিম প্রস্তুত করা যায়, তাহলে দুর্যোগকালীন তারা অনেক ভালো সাপোর্ট দিতে পারবে। বর্তমানে আমাদের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের সম্মানজনক পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।



শেখ মনিরুজ্জামান


বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক অকুপেশনাল থেরাপি কোর্সটি যতদ্রুত সম্ভব চালু করা প্রয়োজন। কারণ, একজন শিক্ষার্থীর অকুপেশনাল থেরাপি কোর্সটি সম্পন্ন করতে পাঁচ বছর প্রয়োজন। শুধু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, বেসরকারি পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অকুপেশনাল থেরাপি কোর্সটি শুরু করার জন্য অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগ খুলতে হবে। বিএইচপিআইয়ের পক্ষ থেকে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা সবসময়ই বিদ্যমান থাকবে। তাই আর কালক্ষেপণ না করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ অর্জনসহ অটিজম ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসার চাহিদা পূরণে অবিলম্বে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক অকুপেশনাল থেরাপি কোর্সটি চালু করার জোর দাবি জানাচ্ছি।



ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস ছোবহান

এ বছরের ২৭ মার্চ আমার চার হাত-পা অবশ হয়ে যায়। আমি দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলাম তখন। সেখান থেকে আমাকে থেরাপি নিতে বলা হয়। আমি সিআরপিতে ছয় মাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছি। শুরুর দিকে আমার শুধু দুই চোখই নড়ত। নিজে অচল হয়ে পড়ে আছি ভেবে আমি মাঝে মধ্যে কান্না করতাম। সিআরপি থেকে এখনও আমি অকুপেশনাল থেরাপি সেবা নিচ্ছি। থেরাপির পাশাপাশি সিআরপিতে আমাকে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। তাদের চেষ্টাসহ সব মিলিয়ে আমি এখন হাত নাড়াতে পারি, হাঁটতে পারি। আশা করছি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আমি কর্মস্থলে যোগ দিতে পারব। দেশে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি। জিবিএসে যদি ভ্যাকসিন নিতে হয় তাহলে অনেক খরচ করতে হয়। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নিতে হয় আমাদের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে। আমি সিআরপিতে এমন অনেক রোগী দেখেছি যাদের দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এই রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করি।



মো. হেদায়েতুল আজিজ মুন্না

২০০৮ সালে আমি একটি দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছিলাম। দীর্ঘদিন কোমায় থাকার পর আমি সাভারের সিআরপিতে পুনর্বাসিত হই। সেখানে সাড়ে সাত মাস পুনর্বাসনের পর এখন আমি হুইলচেয়ারে করে চলাফেরা করতে পারি। অকুপেশনাল থেরাপি নেওয়ার পর আমি আগের তুলনায় অনেক ভালো আছি। ২০১৩ সালে আমি ড্রিম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করি। এই সংগঠন থেকে আমি ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জডদের একটি ক্রিকেট টিম করেছি। এসব ক্ষেত্রে আমার অনুপ্রেরণা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সুযোগ্য কন্যা সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল। এই অনুপ্রেরণা থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আমরা সফলতা পেয়েছি। হুইলচেয়ারে ক্রিকেট খেলে আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনবার জয়লাভ করেছি। সর্বশেষ ট্রাইনেশন জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী আমাকে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করেছেন। আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে আমরা সামনের দিকে আরও এগিয়ে যেতে চাই।



সঞ্চালক
ডা. শামীম আহাম্মদ (ওটি)
নির্বাহী সদস্য
বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল


স্বাগত বক্তব্য

মুস্তাফিজ শফি
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সমকাল

প্রধান অতিথি
মো. আশরাফ আলী খান খসরু
প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

বিশেষ অতিথি
ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত
সংসদ সদস্য ও প্রাক্তন উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

সভাপতি
ডা. মো. এনামুর রহমান
প্রতিমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

বিশেষজ্ঞ আলোচক

ড. সামান্থা শান
সভাপতি, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব অকুপেশনাল থেরাপিস্ট (ডব্লিউএফওটি)


অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খান
উপাচার্য, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


মোহাম্মদ ইসমাইল
অতিরিক্ত সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

ড. মো. সোহরাব হোসেন
নির্বাহী পরিচালক, সিআরপি

তালাত মামুন
নির্বাহী পরিচালক, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর

অধ্যাপক ড. লিনেট ম্যাকেঞ্জি
অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগ
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া

এএইচএম নোমান খান
প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)


অধ্যাপক খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন
ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অধ্যাপক ড. অ্যালিসন লেভের ফাউসেট
অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগ
ইয়র্ক সেন্ট জন বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য


ডা. মো. ফিরোজ কবির (পিটি)
সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন বিভাগ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়



মুহাম্মদ জুলকার নায়েন
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগ, সিআরপি এবং সভাপতি, বিওটিএ


ডা. রাজীব হাসান (পিটি)
উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা)
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন


শেখ মনিরুজ্জামান
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগ
বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশন ইনস্টিটিউট (বিএইচপিআই), সিআরপি


ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস ছোবহান
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা
অকুপেশনাল থেরাপি নিয়ে সুস্থ হওয়াদের একজন


মো. হেদায়েতুল আজিজ মুন্না
সভাপতি, ড্রিম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন
অকুপেশনাল থেরাপি নিয়ে সুস্থ হওয়াদের একজন


অনুলিখন
তন্ময় মোদক
স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com