আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন দিবস-২০২১ এবং সিপিপির ৫০ বছর পূর্তি 'ডিজাস্টার রিস্ক গভর্ন্যান্স :জাতীয় নগর নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা'

দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত নগর নীতিমালা চূড়ান্ত করতে হবে

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২১ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

--

পরিকল্পিত নগরায়ণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ২০০৭ সালে জাতীয় নগর নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়। এরপর ২০১৪ সালে জাতীয় নগর নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হলেও এখন পর্যন্ত সেটি চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত নগর নীতিমালা চূড়ান্ত করতে হবে। এই নীতিমালা চূড়ান্ত না হলে অপরিকল্পিত নগরায়ণ থামানো যাবে না বলে জানিয়েছেন বক্তারা। গত ১০ অক্টোবর 'ডিজাস্টার রিস্ক গভর্ন্যান্স :জাতীয় নগর নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তারা। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন দিবস-২০২১ এবং সিপিপির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ ও সমকাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয়।



মুস্তাফিজ শফি

জাতীয় নগর নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমরা আজ কথা বলব। আমরা জানি, রাজধানীসহ আমাদের নগরগুলোতে নানা রকম দুর্যোগ মোকাবিলা করে সামনে এগোতে হচ্ছে। একটি নীতিমালা থাকলে এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা সহজ হয়। এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সুবিধা হয়। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে এই নীতিমালার খসড়া পড়ে আছে, এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আমরা আশা করি, আর ফেলে না রেখে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।




ডা. মো. এনামুর রহমান

দুর্যোগে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে দুর্যোগ-সহনীয় টেকসই নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় পরিকল্পিতভাবে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম আর দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং নতুন নতুন কৌশল কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে সারাবিশ্বের কাছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনুকরণীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাজের গতিও অনেক বেড়েছে। তবে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বিল্ডিং কোড প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি বিষয়। এখন বাংলাদেশকে ভূমিকম্প-সহনীয় রাষ্ট্র হিসেবে কীভাবে তৈরি করা যায়, এ জন্য কাজ করছি। এ নিয়ে জাইকার সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। যে বিল্ডিংগুলো বহুতল হয়ে গেছে, সেগুলো না ভেঙে এখন ভূমিকম্প পরিমাপ করা যায়। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে না এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যাবে। বৈঠকে ডেঙ্গু মশা ও জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনগুলো এরই মধ্যে খালগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে। সেনাবাহিনী এ কাজে সহায়তা করবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, খালগুলোর নাব্যতা ঠিক করা, ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গু যদি দূর করতে পারি, তাহলে দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারব। এ জন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সমন্বিতভাবে কাজ করলে দুর্যোগ মোকাবিলা করা সহজ হবে।



ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম

ঝুঁকিমুক্ত নগর গড়তে জাতীয় নগর নীতিমালা প্রয়োজন। এ জন্য অথরিটিও লাগবে। আইন বাস্তবায়নের জন্য সমন্বয়ও দরকার। যেন সেটা যথাযথ ও পরিবীক্ষণ হয়। কে কোন দায়িত্ব পালন করবে, সেটা চূড়ান্ত করতে হবে। যার যে দায়িত্ব সেটা পালন করেছে কিনা, সেটাও দেখতে হবে। তা না হলে যতই শুধু সুন্দর পরিকল্পনা করি, গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারব না। দেশে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে; সামনে আরও পরিবর্তন হবে। এ জন্য স্বপ্ন থাকতে হবে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখলে হবে না। এমন স্বপ্ন দেখতে হবে, যে স্বপ্ন মানুষকে ঘুমাতে দেবে না। মূল কথা হলো, দেশের জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলার কাজে নিয়োজিত সংশ্নিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।



মো. মোহসীন

বেশির ভাগ গ্রামের মানুষ এখন শহরের সুবিধা পাচ্ছে। গ্রাম থেকে মানুষ শহরে যাবে না; বরং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী গ্রামেই শহরের সুবিধা পাবে। নগরায়ণের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ চালু হবে। তখন কোনো স্থাপনা তৈরির আগে জানতে হবে, সেখানে দুর্যোগের ঝুঁকি আছে কিনা। আমাদের রাজধানী ঢাকা মহানগর পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর। সঠিকভাবে বিল্ডিং কোড প্রয়োগ করতে পারলে ঢাকাকে আরও সুন্দর নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। শুধু ঢাকা নয়, অন্যান্য শহরও বিল্ডিং কোডের আওতাভুক্ত। এ আলোচনার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক সমাধান আসবে বলে আশা করি। এ জন্য নগর দুর্যোগকে গুরুত্ব দিতে হবে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় ভালো ভূমিকা রাখছে। নগরের দুর্যোগ মোকাবিলার কাজেও তারা সহযোগী হয়ে কাজ করতে পাবে।



অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান

আমাদের ডিজাস্টারের যে রিস্ক আছে, বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। এই রিস্ক প্রশমনে সেন্ডাই ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। এর সাতটি গ্লোবাল টার্গেট আছে। এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের একটি লক্ষ্য আছে। ২০১৬ সালে নিউ আরবান এজেন্ডার প্রতিও সরকার কমিটেড। আমরা কীভাবে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট করতে পারি, এ জন্য সরকার থেকে বেশ কয়েকটি পলিসি ও প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। আমাদের সারাদেশেই আরবান সেন্টার আছে। তবে আরবান চ্যালেঞ্জ গ্রামে একরকম ও শহরের দিকে অন্যরকম। আগুন, ওয়াটার লগিং, আরবান ফ্লাড, সাইক্লোন, ভূমিকম্প, ভূমিধস, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ থেকে শুরু করে আমাদের অনেক আরবান হ্যাজার্ড আছে। এগুলোকে আমাদের প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয়। আমাদের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট আছে। আরবান ও রিজিওনাল প্ল্যানিং অ্যাক্ট করাটা আমাদের আটকে আছে। ন্যাশনাল আরবান সেক্টর পলিসি ২০১৪ নামে আমাদের একটি খসড়া প্রস্তুত করা আছে, তবে এটি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এই পলিসিতে সোশ্যাল জাস্টিস নিশ্চিত করা, নগরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করাসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে। আমাদের আরেকটি লক্ষ্য লোকাল প্ল্যানিংকে গুরুত্ব দেওয়া। নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনা, জেন্ডার সচেতনতাসহ যতগুলো প্রয়োজন, তার সবই আমাদের পলিসিতে রাখা হয়েছে। লোকাল গভর্নমেন্ট থেকে শুরু করে সবই আমাদের নগর নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা আছে। সরকারের রিস্ক সেনসিটিভ আরবান প্ল্যানিং তৈরি করা আছে। রংপুর, সিলেটসহ দেশের নানা জায়গায় প্রায় দুই হাজার ভলান্টিয়ারকে প্রস্তুত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে উপজেলা ও পৌরসভায় বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটি করে দেওয়া আছে। এ ছাড়া বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কোডেরও আপডেট করা হচ্ছে। সারাদেশের জন্য মাস্টারপ্ল্যানিং তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলাগুলোতেও আলাদা করে মাস্টারপ্ল্যানিং করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্য অনেক দেশের চেয়ে আমাদের দেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। আমাদের আরবান বডির ক্যাপাসিটির অভাবও আছে। সেইসঙ্গে অপরিকল্পিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ আছে আমাদের। রিস্ক সেনসিটিভ ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। সামনের দিনগুলোর জন্য আমাদের ন্যাশনাল ফিজিক্যাল প্ল্যান প্রস্তুত করতে হবে। কনস্ট্রাকশন সেফটির জন্য আমাদের ভবন তৈরি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা মনিটরিং করার প্রয়োজন আছে। এই ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হলে আমাদের ডিজাস্টার রিস্কটাকে সিগনিফিকেন্টলি কমাতে পারব।



কাজী ওয়াছি উদ্দিন

পরিকল্পিত নগরের জন্য আমাদের যেসব পরিকল্পনা প্রয়োজন, সেটি আমাদের করতে হবে। আমাদের মন্ত্রণালয় যে গেজেট নোটিফিকেশন তৈরি করছে, সেগুলোও দেখা হচ্ছে। কিছুদিন আগে টাঙ্গাইলে গিয়েছিলাম। তাদের রাস্তার যে মাপ, সে অনুযায়ী তাদের ৯ তলার বেশি অনুমোদন পাওয়ার কথা নয়। অথচ তারা ১৮ তলা ভবনের অনুমোদনের জন্য চেষ্টা করছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে আছি, তবে আইনের অনেক ক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। ঢাকা শহরে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে আমাদের বিশুদ্ধ পানির জন্য অনেক বেশি ভূগর্ভে যেতে হয়। আগে যেখানে কয়েকশ ফুট নিচে গেলেই পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানে পানি পেতে এক হাজার ২৫০ ফুট নিচে যেতে হচ্ছে।



মোহাম্মদ আকমল শরীফ


দুর্যোগ মোকাবিলায় সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশ নিজেকে অনুকরণীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শহর অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দিন দিন তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়ার ফলে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগ বাড়ছে। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শহর অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ অনেক কষ্টে জীবনযাপন করে। কারণ, উচ্চবিত্ত মানুষের মতো তারা এসিতে থাকতে পারে না। তাই নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্যেও উদ্যোগ নিতে হবে।




ড. খুরশীদ জাবিন হোসেন তৌফিক

আমাদের দেশটা বিশাল। হেন কোনো দুর্যোগ নেই, যেটা আমাদের দেশে ঘটে না। আমাদের অধিদপ্তর পরিচালনায় আছেন মাত্র আটজন, প্ল্যানার আছেন ৩০ জন। অর্থাৎ আমাদের জনবল সংকট আছে। বর্তমানে সারাদেশের ৬ শতাংশ জায়গার প্ল্যান শেষ হয়েছে। এ ছাড়া আরও ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার জায়গার প্ল্যানিংয়ের কাজ চলমান আছে। এটি হলে প্রায় ১৩ শতাংশ জায়গার রিস্ক সেনসিটিভ প্ল্যান সম্পন্ন হবে। আমাদের পরিকল্পনার জন্য কোনো আইনি কাঠামো নেই। আগে আমরা একটা ফটোগ্রাফিক সার্ভে করতাম। আমরা এখন ড্রোন দিয়ে কাজ করি। আমরা এখন হাতে কোনো কাজ করি না। আমাদের পুরোটা এখন ডিজিটাল। আমাদের সব পরিকল্পনা প্রস্তুত। সব মিলিয়ে আমরা এখন খুব বেশি পিছিয়ে নেই। এই সফলতা বাংলাদেশের জনগণের, এই সফলতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

নানা জায়গার মাটির বৈচিত্র্য নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। প্ল্যানগুলোর মধ্যে মানুষ থাকে না। আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করেছি। সেইসঙ্গে ইকোলজি ও ট্রান্সপোর্ট সার্ভেকে নিয়ে এলাম। আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সার্ভেও করছি। আরবান সেক্টর পলিসি আমাদের করতেই হবে। আরবান পলিসি আর আরবান সেক্টর পলিসি দুটো আলাদা জিনিস। মানুষ যদি না থাকে, তাহলে রাস্তাঘাট আর ইট-দালান দিয়ে কিছু হবে না।



আব্দুল লতিফ হেলালী

আরবান রিজিলিয়েন্স প্রকল্পের সার্বিক উদ্দেশ্য হলো নির্মাণকাজের আরও উন্নতি সাধন করা। ইউআরপি প্রকল্পের চারটি অংশ- রাজউক, ঢাকা সিটি করপোরেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও মনিটরিং। আরবান রিজিলিয়েন্সে রাজউক অংশের ছয়টি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের একটি হলো ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অব ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড এসেনসিয়াল ইনফ্রাস্ট্রাকচার, যেমন স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, বাংলাদেশ ব্যাংক, এয়ারপোর্ট, ইলেকট্রিসিটি বিল্ডিং, টিঅ্যান্ডটি বিল্ডিং, পুলিশ স্টেশন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স; এই প্যাকেজের ভেতরে সারা ঢাকা শহরের তিন হাজার ২৫২ বিল্ডিং অ্যাসেসমেন্টের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ভূমিকম্পের ক্ষতি কমিয়ে নিয়ে আসার উপায়ও আছে। বিশ্বের অনেক দেশেই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উদাহরণ আছে। আমাদের প্রকল্পের অধীনে বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২২০টি ভবনের ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ কিনা- জানতে হলে ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজগুলো করতে হয়। এ ছাড়া আমাদের কনসালট্যান্ট সাব-সয়েল টেস্ট রিপোর্ট সংগ্রহ করছে। আমাদের একটি অনলাইন সফটওয়্যার চালু করেছি। এখন আর ভবনবিষয়ক অনেক কিছুর অনুমোদনের জন্য রাজউকে কাউকে আসতে হবে না। বাজেট-স্বল্পতার কারণে আমরা এখন শুধু স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। সামনের দিনগুলোতে আর্কিটেক্টসহ অনেককে প্রকল্পে নেওয়া হবে। বর্তমানে আমরা ১৫০ কোটি টাকা খরচ করে ল্যাবরেটরি ভবন বানাচ্ছি। এ ছাড়া ১০০ কোটি টাকা খরচ করে এর জন্য যন্ত্রপাতিও কেনাকাটা করছি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, তবে টেকনিক্যাল একটি কমিটি না থাকায় আমাদের পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।



মো. আশরাফুল আলম


ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আমার প্রতিষ্ঠান খুব ভালোভাবে জড়িত। অনেক দুর্যোগ আমাদের মোকাবিলা করতে হয়। টেকসই শহর নির্মাণ করতে গেলে আমাদের ক্লাইমেটসহ অনেক কিছুই আমলে নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে এই হাউস অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট তৈরি করেছিলেন, যাতে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্নির্মাণ করা যায়।

২৬ ধরনের বিকল্প ইট আমরা এখন পর্যন্ত তৈরি করেছি। প্রচলিত মেথডে ইট তৈরি করতে হলে আমাদের কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়ছে। আমরা যে ব্লক প্রস্তুত করেছি, তাতে পরিবেশে প্রচলিত ইটের চেয়ে অনেক কম কার্বন নির্গত হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো ব্লক তৈরি করার জন্য গবেষণা করছি। সিমেন্টের বিকল্প তৈরি করতেও আমাদের গবেষণা চালু আছে। দুর্যোগ-সহনীয় করতে আরও কিছু গাইডলাইন তৈরি করব। ভবিষ্যতে আমাদের যে ভবনগুলো তৈরি হবে, সেগুলো বিএনপিসি অনুসারে হলে আর কোনো সমস্যা হবে না। আমাদের গবেষণার জন্য বরাদ্দ অনেক কম। আমাদের যদি আর্থিক সহায়তা করা হয়, তাহলে গবেষণাটি আরও ভালোভাবে এগিয়ে নিতে পারব।



ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহাম্মেদ খান

কোনো ধরনের জরুরি অবস্থায় আমাদের যেন বড় ধরনের ক্ষতি না হয়, সেভাবেই কোড করা হয়। কিন্তু বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। যত ধরনের দুর্যোগ হচ্ছে, সেগুলো কিন্তু কোড ভঙ্গ করার কারণেই হচ্ছে। আমাদের নগরায়ণ বা শিল্পায়ন হচ্ছে অপরিকল্পিত। কোনো রকম বিল্ডিং কোড মানা ছাড়াই ভবন নির্মিত হচ্ছে। ফলে ঝুঁকির মাত্রা বাড়ছে। বিভিন্ন কোড, যেমন- ইলেকট্রো মেকানিক্যাল,অগ্নিনিরাপত্তা-জনিত কোডগুলোতে কোনো রকম অসংগতি আছে কিনা, তা দেখতে হবে। মালিক নিজের মতো করে রাজউক থেকে অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পর্যন্ত ঢুকতে পারছে না। আমাদের দেখতে হবে, কোডের মধ্যে কোনো ধরনের অসংগতি আছে কিনা। আর সব প্রক্রিয়া দেখভাল করার জন্য আলাদাভাবে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব নিতে হবে। যেমন রাজউক কী দেখবে, অগ্নিনিরাপত্তার দিকটি কে দেখবে, এসব দায়িত্ব ভাগ করে দিতে হবে। সবার যদি এক দায়িত্ব হয়, তাহলে কোনোটাই ভালোভাবে পালন হবে না। এটা একটা বড় সমস্যা। দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাজউকসহ সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন। জনগণকে সচেতন করতে হবে। সংশ্নিষ্ট যে আইনগুলো ইংরেজিতে করা আছে, সেগুলো বাংলায় করে আরও সহজ করা প্রয়োজন। সব নিয়ম ও লিখিত আইনগুলোর অসংগতি দূর করতে হবে। যে দালানগুলো নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে, সেগুলোতে শূন্য-সহনশীলতার পর্যায়ে থাকতে হবে। আর কোড বাস্তবায়নে সব নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থাসহ সবাইকে জোরালো ও শক্তিশালী হতে হবে। বহুতল ভবনগুলো প্রতিবছর পরিদর্শন করতে হবে এবং ফায়ার সেফটি ঠিক আছে কিনা, তা যাচাই করলে বহু দুর্ঘটনা কমে যাবে।



স্থপতি ইকবাল হাবিব

আমরা অনেক কিছুর প্রস্তুতি নিয়েছি, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারছি না। সেইসঙ্গে মনিটরিংও করতে পারছি না। জাতীয় ফিজিক্যাল প্ল্যানের উদ্যোগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিয়েছিলেন। সারাদেশকে গুছিয়ে সাজানোর তার উদ্যোগটি আমরা দেখলাম না। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর নয়। বাংলাদেশের শহরগুলো অন্য দেশের শহরের মতোও নয়। কয়েক বছরের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষ নগরে চলে আসবে। তাই আমাদের প্রস্তুত হতে হবে, যাতে এই মানুষদের আমরা নগরে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারি। আমাদের নদী-খাল-বন সীমিত। খনিজসম্পদেরও অভাব আছে। তাই বিশ্বে পরিকল্পনা যদি সবচেয়ে বেশি কোনো দেশের প্রয়োজন হয়, সেটি বাংলাদেশের। আইন প্রয়োগে আমাদের অদক্ষতা আছে। তাই নতুন নতুন আইন করছি, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারছি না। সমন্বিত উদ্যোগেরও অভাব আছে। সত্যিকার অর্থে জনযুক্ততা, জনপ্রস্তুতিতে একটা ঘাটতি আমাদের আছে। জনগণকে যুক্ত করেও যে পরিকল্পনা করা যায়, এমন অনেক উদাহরণ আছে। জনগণকে যুক্ত করতে পারলে অনেক কাজই সহজ হয়ে যাবে। আমরা বারবার আলোচনা করি, পরে ভুলে যাই। নগর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো ভবন তৈরি করতে দেওয়া উচিত না। নিয়মিত পরিবীক্ষণ করতে পারলে আমাদের পক্ষে অনেক দুর্ঘটনাই ঠেকানো সম্ভব। জনগণের মতো বড় বিনিয়োগ পৃথিবীর কিছু হতে না। আমরা আসলে জনবল তৈরি করছি না; নিয়মিত মহড়া করছি না। বড় বড় শহরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগণকে প্রস্তুত করছি না। রানা প্লাজার মতো ভবন ওই এলাকার পৌরসভা থেকে অনুমোদন নিয়েই তৈরি করে ফেলেছে। অথচ ওই পৌরসভাতে সেসব অনুমোদন দেওয়ার মতো যোগ্য লোকই নেই। মূল কথা হলো, ২০১৪ সালের পলিসিটা আমাদের বাস্তবায়ন করতেই হবে।



আহমাদুল হক

বৈঠকে অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি এবং মানুষ নিয়ে কথা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) মানুষকে সতর্ক করার জন্য উপকূলে কাজ করে। সিপিপির অভিজ্ঞতা নগরায়ণের দুর্যোগ মোকাবিলায়ও কাজে লাগানো যেতে পারে। সিপিপির ভলান্টিয়াররা উপকূলীয় অঞ্চলে কাজ করে। তারা স্থানীয়ভাবে বসবাস করে বিধায় ঘূর্ণিঝড়জনিত দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণে স্থানীয় জনসাধারণকে সচেতন করে থাকেন। জনসাধারণের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ঘূর্ণিঝড় বিষয়ক মাঠ মহড়ার আয়োজন করে থাকেন। মাঠ মহড়া কয়েক হাজার লোক প্রত্যক্ষ করে থাকে এবং এ বিষয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মৌলিক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণে ঘূর্ণিঝড়ের পরিচিতি, শ্রেণিবিভাগ, সংকেত, স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, সিপিপি পরিচিতি, রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্ট, সংকেত প্রচার পদ্ধতি, দুর্যোগবিষয়ক স্থানীয় আদেশাবলি, দুর্যোগবিষয়ক কমিটি, ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক, ইউনিট, ইউনিয়ন, উপজেলা কমিটির কার্যাবলি সম্পর্কে বিশেষ ধারণা দেওয়া হয়ে থাকে।



আশেকুর রহমান

জাতীয় নগর নীতিমালার কার্যক্রম ২০০৭ সালে শুরু হয়। এর পর এটা অল্প সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত করার কথা বলেছিল সরকার। এটি নিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে। এর পর ২০১৪ সালে জাতীয় নগর নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করা হয়। এখন পর্যন্ত এটি চূড়ান্ত করা হয়নি। নগর নীতিমালার বেশির ভাগ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাতেও অনেক নীতি যুক্ত করা হয়েছে। এটা একটা ভালো বিষয়। তার মানে এই নয় যে, বাংলাদেশে এমন একটি এক্সক্লুসিভ নীতিমালার প্রয়োজন নেই। এ জন্য আরও বহুমাত্রিক উদ্যোগ প্রয়োজন। নগর স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কভিডের সময় সামান্য সামর্থ্য নিয়ে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত তাদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান দুর্যোগ মোকাবিলায়ও অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ নগরে বাস করে। তাই নগরায়ণ একটি নতুন বাস্তবতা। বাংলাদেশে এটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ, প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ নগরে বাস করে। আমাদের যে জিডিপি তার প্রায় ৭০ শতাংশ নগর খাত থেকে আসে। আবার আমাদের যে কার্বন দূষণ, তারও ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নগর থেকেই হয়। নগর একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে সম্ভাবনাও। এর মধ্যে বাংলাদেশের বড় বড় অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের জ্বালানি, ভূমি ব্যবহারসহ সংশ্নিষ্ট বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। বিভিন্ন গবেষণায় এসেছে,যদি স্বাভাবিক ভূমিকম্প হয় এতে শুধু ঢাকা শহরেই তিন লাখ ৮৬ হাজার ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা আছে।





শামীমা প্রধান


অন্য বক্তাদের বলা সমস্যার বাইরে আরবান ডিজাস্টারের মধ্যে আরও কিছু বিষয় আছে। ডেঙ্গু বা এ রকম রোগকেও আমাদের এই নগরজীবনে মোকাবিলা করতে হবে। আমরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, নদীর পাশে থাকা দরিদ্রদের একটা অংশ এখনও দূষিত পানির ওপর নির্ভর করে। তাদের বস্তিতেও থাকার জায়গা নেই। তাই সেসব জায়গা দখল করেই তারা থাকে। অবৈধ পানির লাইনগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় এনে এসব জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা যায়। ক্লিন ওয়াটার ও স্যানিটেশনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমাদের নগরগুলোতে শুধু ভূমির সংকটই প্রধান নয়; সেইসঙ্গে এখানে জলাশয়েরও অভাব আছে। নতুন পরিকল্পনায় আমাদের জলাশয়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে।



সঞ্চালক



মুস্তাফিজ শফি

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

সমকাল



প্রধান অতিথি



ডা. মো. এনামুর রহমান

প্রতিমন্ত্রী

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়



বিশেষ অতিথি



ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম

সভাপতি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি



সভাপতি



মো. মোহসীন

সচিব

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়



আলোচক



অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স



কাজী ওয়াছি উদ্দিন

অতিরিক্ত সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়



মোহাম্মদ আকমল শরীফ

কান্ট্রি ডিরেক্টর

ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ



ড. খুরশীদ জাবিন হোসেন তৌফিক

পরিচালক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর



আব্দুল লতিফ হেলালী

প্রধান প্রকৌশলী, রাজউক ও প্রকল্প পরিচালক, আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প



মো. আশরাফুল আলম

মহাপরিচালক, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট



ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহাম্মেদ খান

সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর



স্থপতি ইকবাল হাবিব

যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)



আহমাদুল হক

পরিচালক (প্রশাসন)

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)



আশেকুর রহমান

সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি

ইউএনডিপি



শামীমা প্রধান

সহকারী অধ্যাপক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



অনুলিখন



দেলওয়ার হোসেন ও তন্ময় মোদক

স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com