সমকালকে জাফরুল্লাহ চৌধুরী

সাম্প্রদায়িক হামলায় দেশি-বিদেশি চক্রান্ত জড়িত

১৯ অক্টোবর ২১ । ০০:০০

কামরুল হাসান

দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, এসব ঘটনায় দেশি-বিদেশি চক্রান্ত জড়িত। সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সম্প্রতি জাফরুল্লাহ চৌধুরী কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন। এর মধ্যে গত শুক্রবার তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কুমিল্লা এবং গত রোববার নোয়াখালী ও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

হামলার বিবরণ দিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী সমকালকে বলেন, নোয়াখালীর চৌমুহনীতে একসঙ্গে সাতটি মন্দির ভাঙা হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ইসকন লাইব্রেরি। তিনটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ

করা হয়েছে। হামলা হয়েছে হিন্দুদের বাসাবাড়িতে। হামলার অন্তত চার ঘণ্টা আগে স্থানীয় প্রশাসনকে সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছিল হিন্দু সম্প্রদায়। প্রশাসন কোনো উদ্যোগই নেয়নি। সঠিক সময়ে প্রশাসন উদ্যোগ নিলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যেত।

তিনি আরও বলেন, চৌমুহনী বাজারে বিজিবি ছিল, পুলিশ ছিল। তাদের ভূমিকা ছিল নীরব দর্শকের। সাংবাদিকদের সেখানে ঘটনার দিন যেতে দেওয়া হয়নি। সরকারি দলের লোকেরা ও প্রশাসন যদি একটু এগিয়ে আসত, তাহলে এ ঘটনা ঘটত না।

কুমিল্লার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, উস্কানিমূলক কাজের দায়ে সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে এখন পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়নি, কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ থেকে এটা বোঝা যায়- এ ঘটনার সঙ্গে অনেক ষড়যন্ত্র জড়িয়ে আছে।

তিনি বলেন, কুমিল্লায় ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা আমাদের জানান, রাত আড়াইটার দিকে এক মুখোশধারীকে পুলিশের সঙ্গে তারা শলাপরামর্শ করতে দেখেছেন। এর এক ঘণ্টা পর এলাকার বিদ্যুৎ চলে যায়। সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। ওই সময় ধর্ম অবমাননার বিষয়টি সামনে আসে। এবারের এই পূজায় এখানে কোনো পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল না কিংবা কোনো সিসিটিভিও স্থাপন করা হয়নি। ১১টার দিকে অজ্ঞাত পরিচয়ধারীরা সংগঠিত হয়ে পূজামণ্ডপে হামলা করে। এর আগ পর্যন্ত পুলিশ কোনো নিরাপত্তা দেয়নি।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, চৌমুহনী মন্দিরের তিন পাশে মসজিদ। শতবর্ষ ধরে এখানে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলায় যারা অংশ নিয়েছে, তাদের তারা আগে কখনও দেখেননি। স্থানীয় কেউ এই হামলায় জড়িত ছিল না। বহিরাগতরা এই হামলা করেছে।

প্রতিনিধি দলের সদস্য গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সকাল ১১টা পর্যন্ত স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি, হিন্দু সম্প্রদায়সহ অন্যদের সম্পৃক্ত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কোনো উদ্যোগই নেয়নি পুলিশ। বরং হামলাকারীদের সংগঠিত হওয়ার এবং দেশব্যাপী পরিকল্পিতভাবে ধর্ম অবমাননার অপপ্রচার ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়। ১১টার পর হামলা শুরু হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুলিশ ঠিক সময়ে এলে এবং উদ্যোগ নিলে, এ ঘটনা এড়ানো যেত। এটা পরিকল্পিত। দেশের বিভিন্ন সংকটের সময় এ ধরনের ঘটনাগুলোর জন্ম হয়। কারা এর সুবিধাভোগী, তা দেশবাসী জানে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে কোনো আতঙ্ক কিংবা ভয় কাজ করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন না। সেখানকার একেবারে সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ও ধারণা করতে পেরেছিল যে, হামলা হতে পারে। তারা তাই পুলিশকে খবর দিয়েছে। এভাবে আমাদের একটা পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, কক্সবাজারের রামু থেকে শুরু করে নাসিরনগর, বরিশাল, পাবনা এবং বিভিন্ন এলাকায় যেসব ঘটনা ঘটে, সেখানে সবার আগে একটা গুজব ছড়ানো হয় অথবা কোনো একটা অবমাননাকর ঘটনা ঘটানো হয়। সেই গুজব কিংবা অবমাননার ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি করে মানুষকে সংগঠিত করে হামলা করা, বাড়িঘরে, মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করার মতো ঘটনা ঘটে। এসব হামলার পর পুলিশ আসে। অন্যদিকে সরকার তাদের প্রতিপক্ষের দিকে দায় দিতে থাকে এবং বিশ্বে প্রচার চালাতে থাকে- সাম্প্রদায়িকতাকে রুখতে তারা কঠোর ভূমিকা রাখছে। তারা এরকম রাজনৈতিক দাবি করলেও, এসব ঘটনার জন্য আমরা প্রশাসনকে কখনও জবাবদিহিতা করতে দেখিনি।





© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com