আর্থিক সহায়তা যেন দুস্থরা পায়

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২১ | আপডেট: ০৪ মে ২০২১ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসাদ বিন সফিক

২৫ এপ্রিল সমকালের সম্পাদকীয় বিভাগে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান লিখেছেন, সংকট কাটাতে প্রয়োজন 'স্মার্ট লকডাউন'। আমি তার সঙ্গে একমত। আমরা মনে করি, লকডাউন হোক, কিন্তু মানুষের আয়ের পথ যেন বন্ধ না হয়। আমরা দেখছি লকডাউনের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। অনেকের মুখে শোনা যায়- আমরা দিনমজুররা মরে গেলেও সরকারের কিছুই হবে না। আসলে খাবারের কতটুকু কষ্ট হলে এ রকম কথা বলতে পারে তা অনুমেয়। ঢাকা শহরে বস্তির মানুষের কথা ভাবলেই চোখে পানি চলে আসে। বস্তির নারীরা বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু লকডাউনের ফলে অনেকে তাদের বাসাবাড়িতে ঢুকতে দেন না। ঢাকা শহরের দিনমজুররা এক দিন কাজ না পেলে পরের দিন চলতে কতই না কষ্ট হয়! সন্তানেরা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে একমুঠো খাবারের জন্য। গ্রামীণ মানুষ লকডাউনের নিয়মবিধি মানছে না, তার একটি কারণ হলো ঘরে খাবার নেই। এসব মানুষের কথা ভেবে ইতোমধ্যে সরকার মানুষকে ঘরে রাখতে ৩৫ লাখ দুস্থ পরিবারকে আর্থিক সাহায্য প্রদানের পদক্ষেপ নিয়েছে। আশা করি, সরকার আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়ালে হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাবে নিম্ন আয়ের মানুষ। তবে আর্থিক সাহায্য যথার্থ লোকেরা পাবে কিনা তা নিয়ে আতঙ্কে আছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

২০২০ সালের ১৭ মার্চ যখন লকডাউন শুরু হয়েছিল, তখন থেকে সরকার ও বিদেশি সংস্থা অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করেছে। সম্প্রতি জানা যায়, যখন সরকার অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করে, তখন এক দল লোক সরকারের বদনাম করার জন্য ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম শুরু করে। গণমাধ্যমে এ-ও জানা যায়, অসহায়দের তেল নিয়ে খাটের নিচে রাখা হয়েছিল।

যে পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে, তা যদি গরিব-অসহায় মানুষ পেত, তাহলে লকডাউনের নির্দেশ যথাযথ পালন করতে বাধ্য হতো মানুষ। কেননা, বসে খেতে পারলে কেউ কাজে যেত না। সে সময় ত্রাণসামগ্রী যথার্থ লোকেরা পায়নি।

সরকার যখন এ বছরও অসহায় পরিবারকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করবে, তাহলে যথার্থ লোকেরা যেন সে সাহায্য পায়- সেদিকে প্রশাসনের তীক্ষষ্ট নজর রাখতে হবে।

আর্থিক সাহায্য নিয়ে যদি দুর্নীতি ও অনিয়ম কমে যায়, তাহলে আশা করি অসহায় মানুষের কিছুটা স্বস্তি হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com