করোনায় স্থবির বাজারে গতি আনল ঈদ

৩০ জুলাই ২০২০ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২০

মিরাজ শামস

ফাইল ছবি

আর এক দিন পরই ঈদুল আজহা। করোনাকালে এই উৎসব নতুনভাবে আয়োজনের চেষ্টা করছেন সাধারণ মানুষ। মন্দায় থাকা ব্যবসায় এই ঈদ বাজার গতি এনেছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে চলার প্রস্তুতি শুরু হলো এই উৎসব থেকে। যার পথ ধরে আগামী দিনে বাণিজ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, এক সপ্তাহ ধরে বেচাকেনা বেড়েছে। এখন দোকান খোলার সময় দু'ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বেচাকেনা আরও বেশি হবে মনে করেছেন তারা। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি থেকে জানা যায়, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মৌখিকভাবে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। সম্প্রতি ঈদ সামনে রেখে দোকান সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে সমিতি। সংগঠনের সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, পবিত্র রমজান মাসে দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেননি। এতে তারা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কোরবানির ঈদে দোকানপাট বেশি সময় খোলা রাখার ব্যবস্থা করলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে করোনার কারণে নিত্যপণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যের বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়। এপ্রিলে পহেলা বৈশাখও এবার করোনার কারণে ছিল নিষ্প্রাণ। এতে প্রায় বন্ধ ছিল বৈশাখের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য। প্রতিবছর ঈদুল ফিতরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। কিন্তু গত মে মাসে ওই ঈদে বেশিরভাগ বিপণিবিতানই বন্ধ ছিল। সরকারের অনুমতি অনুযায়ী কিছু দোকান খোলা হলেও তাতে বেচাকেনা সীমিত ছিল। অনেক দোকান খরচ পর্যন্ত তুলতে পারেনি। প্রতিবছর ঈদুল আজহার বাজারে প্রায় আট থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। তবে এবারের ঈদ বাজারে এক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, বৈশাখ ও ঈদুল আজহার মন্দার পর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এখন বেশ বেচাকেনা হচ্ছে। এতে জীবনধারণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের হাতে কিছুটা হলেও নগদ টাকা আসছে। তবে গত বছরের ঈদের তুলনায় এবার ১০ শতাংশ বেচাকেনা হচ্ছে। পণ্যের বিক্রি বাড়াতে মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে, যাতে নগদ টাকার লেনদেন ধরে রাখা যায়। পাশাপাশি যাতে মজুদ পণ্য বিক্রি হয়ে যায়।

দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল সমকালকে বলেন, সার্বিকভাবে ঈদকেন্দ্রিক পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে গৃহস্থালি সামগ্রীর চাহিদা বেশ বেড়েছে। এ ছাড়াও ঈদে চাহিদা থাকা খাদ্যপণ্য দুধ, চিনি, সেমাই, সুগন্ধী চাল ও মসলার চাহিদা বেড়েছে। তিনি বলেন, সার্বিকভাবে গত মার্চ-এপ্রিলের চেয়ে জুন ও জুলাই মাসে বেচাকেনা বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। করোনা পরিস্থিতির কারণে আবার কিছু পণ্যের বেচাকেনা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিং মেশিনের চাহিদা বেড়েছে। কোরবানির এই ঈদে ফ্রিজের বিক্রিও বেশ ভালো। তবে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের বিক্রি এখনও তেমন বাড়েনি। বিশেষ করে এসির বাজার খারাপ যাচ্ছে।

দেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, গত রোজার চেয়ে এখন বেচাকেনা ভালো। খোলা রাখার সময় বাড়ানোয় ক্রেতাদের সংখ্যাও বেড়েছে। আউটলেটগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করায় আস্থা নিয়ে আসছেন ক্রেতারা। এখনও কেনাকাটা করতে যেতে নিবন্ধন পদ্ধতি চালু রেখেছে আড়ং।

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এম এ হান্নান আজাদ বলেন, বসুন্ধরা সিটি গত ঈদুল ফিতরে বন্ধ ছিল। এর পরে খোলা হলেও বেচাকেনা তেমন ছিল না। কিন্তু এখন ঈদের কারণে চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। তবে এখনও বিলাসবহুল পণ্যের বিক্রি কম।

অলংকার নিকেতনের স্বত্বাধিকারী এম এ হান্নান বলেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এ কারণে দেশেও বেড়েছে। কিন্তু করোনাকালে মানুষের আয় কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের গহনা বিক্রি কমেছে। এভাবে কিছু কিছু খাতে ব্যবসা মন্দা রয়েছে। তবে ঈদ বাজারে বেশিরভাগ পণ্যের ব্যবসায় শুরু হয়েছে।

নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, মার্কেটে এখন ক্রেতা ও বেচাকেনা দুটোই বেড়েছে। গত চার মাসে অনেক পণ্য বেচাকেনা হয়নি। এ কারণে এখন অনেকে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা বেড়েছে। আবার ঈদের চাহিদায়ও পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

ঈদুল আজহার উৎসবে বেশি হয় কোরবানির পশুর বেচাকেনা। পাশাপাশি থাকে মসলার চাহিদা। তবে এবার কোরবানির পশু বিক্রি কমই হবে। অবশ্য মসলা জাতীয় পণ্যের বেচাকেনা বেশ বেড়েছে বলে জানান বাংলাদেশ পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, বিক্রি বাড়লেও গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় অর্ধেক মসলাও বিক্রি হয়নি।

এই ঈদ ঘিরে জমে ওঠে কামারপাড়ার ব্যবসা। কিন্তু এবার অত সক্রিয় নয় কামারপাড়া। সাধারণত ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গোখাদ্য ও পশু জবাইয়ের সরঞ্জামের দোকান বসে। এবার তা খুবই কম। মৌসুমি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মিরপুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আকবর আলী। তিনি বলেন, অনেকেই এখনও গরু কেনেনি। বেশিরভাগই করোনাঝুঁকির কারণে শেষ সময়ে কেনার অপেক্ষায় আছেন। এ কারণে তাদের ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে না।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)