ঘুমের দেশে যাচ্ছে হেসে...

রুপন্তীর গোপন কথা

৩১ মার্চ ২০২০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০

রাদিয়া শানজান ইশমা

কেউ ভেবে পায় না। কেউ জানেও না। আমিই শুধু সেই ব্যক্তি, যে এই উত্তর জানি। রুপন্তীই আমাকে একদিন বলেছে। যদিও এটা সিক্রেট! কানটা এদিকে আনো, চুপি... চুপি ... তো, রুপন্তী তো ঘুমায় আর ঘুমায়। ঘুমের ভেতর দেখে সে একটা বই বাগানে এসে পড়েছে। হাঁটতে হাঁটতে দেখে গাছে গাছে বই ঝুলছে। অবাক হওয়ার কিছু নেই; ও রোজই সেখানে যায়। সে গাছ থেকে তার বিজ্ঞান বইটা পেড়ে নিলো। 'বাহ্‌ বাহ্‌! নিউটনের সূত্রটা তো খুব মজার।' মুহূর্তেই বুঝে গেলো ও। ওহো... হো... এখন তো হাসতে হবে। ক্লাস করতে হবে না! তখনই অনুপম স্যার ডাক দিলেন, 'রুপন্তী, অনেক তো ঘুমোলেন এবার তো চোখ খুলুন! দিন, পড়া দিন।'

রুপন্তী বললো, 'এটা খুব সোজা।' গড় গড় করে বলে দিলো সে। সবাই অবাক হয়ে বলে, 'ভালোই তো, না পড়েই টপার স্টুডেন্ট'। আমি তখন মুখ টিপে হাসি। আবার। ঘুমিয়ে পড়ে ও। দেখে বড় বইগাছের নিচে দাদুন বসে আছে। 'কী রুপু সোনা! খুব তো পড়া হলো। এবার মানুষ হওয়ার পাঠ শিখতে হবে না?' রূপন্তী আবার হাসে। বলে, 'তাহলে কি আমরা মানুষ নই দাদুন?' দাদু বলেন, 'শোনো, শুধু বইয়ের পড়া পড়লে হবে? মানুষ হতে হলে বই থেকে শেখা পড়াকে কাজেও লাগাতে হয়। সততা, নিয়ম-শৃঙ্খলা, বড়দের শ্রদ্ধা, ছোটদের স্নেহ করে যে, সেই তো প্রকৃত মানুষ। আমিই শেখাবো তোমাদের আর মনে আছে তো, শরীর সুস্থ রাখতে কী করতে হবে?' রুপন্তী বললো, হ্যাঁ, দাদু। এই দেখো হাসছি। হো, হো, হো, হা, হা।

'আচ্ছা, রুপু সোনা, যাও খেয়ে আসো! এখন খাওয়ার সময়!' রুপন্তীও এলো খাওয়ার টেবিলে। মা বললেন, উঠলি তাহলে! নে, নে খেয়ে নে ঝটপট! রুপন্তী খেয়েই দিলো ঘুম। এই তো দাদুন। দাদুন আবার পড়ানো শুরু করেন। হঠাৎ একটা মশা দিল কুটুস করে কামড়! ওমা গো! রুপন্তীর ঘুম গেলে ভেঙে। তবে বেশিক্ষণ নয়, আবার ঘুমিয়ে গেলো রুপন্তী। ভাগ্যিস ঘুমিয়ে গেলো! নইলে আমাকে কিলিয়ে ভর্তা বানাতো! ক্লাসে টপ করার রহস্য ফাঁস করে দিয়েছি না! আর হাসি! সেটা তো নিশ্চয়ই তোমরা বুঝে গেছো এতক্ষণে।
 
বয়স : ২+৩+৩+৪ বছর; অষ্টম শ্রেণি, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)