নির্মম নির্যাতনের সাক্ষী

১৬ ডিসেম্বর ১৯ । ০০:০০

খন্দকার মঞ্জুর আলী

মহান মুক্তিযুদ্ধে আমি ৯ নম্বর সেক্টরের অধীন যুদ্ধকালীন কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধে অবতীর্ণ হই। সে সময় ফরিদপুরে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেসব যুদ্ধে শহীদ হন আমাদের বহু সহযোদ্ধা। আমরাও বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি সৈন্যকে হত্যা করতে সক্ষম হই। যুদ্ধ ছাড়াও রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সহায়তায় ফরিদপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে বর্বর পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে বাঙালিদের ওপর গণহত্যা, লুটপাট, একই সঙ্গে ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করে। এসব নৃশংস ঘটনার স্থানগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের এত বছর পরও বেশিরভাগ স্থানে কোনো স্মৃতিচিহ্ন বা স্মারক স্থাপন করা হয়নি।

ফরিদপুর স্টেডিয়ামের গণকবর

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে আট মাস অবরুদ্ধ ছিল ফরিদপুর জেলা। দীর্ঘ আট মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও দেশীয় দোসররা ফরিদপুর স্টেডিয়ামের জল্লাদখানায় নির্যাতন করেছে অগণিত নারী-পুরুষ ও মুক্তিযোদ্ধাকে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ধর্ষিত হয়েছেন অগণিত নারী। পাকিস্তানি সেনা ও এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী কখনও হিন্দু ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা করেছে। সেখানে সরকারি উদ্যোগে গণকবর হিসেবে স্থানটি চিহ্নিত করা হয়েছে।

শ্রীঅঙ্গন হত্যাকাণ্ড

ফরিদপুরে গণহত্যা শুরু হয় শহরের প্রবেশমুখে সনাতন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনের চালতাতলায় কীর্তনরত আট সাধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে। ২১ এপ্রিল শ্রীঅঙ্গনের আট সাধুকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। প্রভুর নাম জপতে জপতেই মানবমুক্তি ও জগতের কল্যাণ হবে- এই গভীর বিশ্বাসে ২৪ ঘণ্টা বা অষ্টপ্রহর কীর্তন করেন গৃহত্যাগী সন্ন্যাসীরা। প্রভু শ্রী জগদ্বন্ধু সুন্দরকে আরাধনা করে তারা দিনরাত জপেন 'বলো জয় জগদ্বন্ধু বোল'। আর হানাদার পাকিস্তানি বর্বররা এটাকে 'জয় বঙ্গবন্ধু' মনে করে একাত্তরের ২১ এপ্রিল তাদের নৃশংসভাবে শ্রীঅঙ্গনের চালতাতলায় ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শ্রীঅঙ্গন কর্তৃপক্ষ তাদের স্মরণে আটটি পৃথক স্মৃতিমিনার নির্মাণ করে। শহীদ আট সাধু হচ্ছেন- কীর্তনব্রত ব্রহ্মচারী, কানাইবন্ধু ব্রহ্মচারী, রবিবন্ধু ব্রহ্মচারী, গৌরবন্ধু ব্রহ্মচারী, রবিদাস ব্রহ্মচারী, ক্ষিতিবন্ধু ব্রহ্মচারী, নিদানবন্ধু ব্রহ্মচারী ও বন্ধুদাস ব্রহ্মচারী।

ঈশান গোপালপুর হত্যাকাণ্ড

একাত্তরের ২ মে রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনী ফরিদপুরে নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালায়। ফরিদপুরের ঈশান গোপালপুর গ্রামে জমিদার ঈশান বাবুর বাড়িতে বিভিন্ন স্থান থেকে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু পরিবারের ২৮ ব্যক্তিকে স্থানীয় রাজাকার ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী যৌথভাবে সে বাড়ির পুকুরপাড়ে একে একে বেয়নেট চার্জ ও গুলি করে হত্যা করে।

এ গণহত্যায় শহীদ হলেন আশুতোষ সরকার (ফটিক বাবু), যোগেশ চন্দ্র ঘোষ, গৌর চন্দ্র ঘোষ, বাবুল চন্দ্র ঘোষ, দয়াল দাস, দুখীরাম দাস, যাদব বিশ্বাস, আশু গাঙ্গুলী, তারাপদ গাঙ্গুলী, মনীন্দ্রনাথ সিকদার ও তার জামাতা, বাদল সরকার, হরিপদ দাস, মন্টু চন্দ্র দাস, সন্তোষ দাস, বিমল চন্দ্র সাহা, বিষ্ণু ঠাকুর, কালাচাঁদ বৈরাগী, বটা সাহা, বাদল গোস্বামী, মুকুন্দু সাহা এবং অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি। সরকারবাড়ি পুকুরপাড়ে তাদের গণকবর দেওয়া হয়। সম্প্র্রতি শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।

জান্দী গণহত্যা

একই দিন ভাঙ্গার জান্দী পোদ্দার বাজার গ্রামটি ঘিরে ফেলে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী। সঙ্গে ছিল গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার হিঙ্গুল কাজী (এমদাদ কাজী)। তার আমন্ত্রণে শতাধিক পাকিস্তানি সেনা ভাঙ্গার জান্দী গ্রামটি ভোরে ঘেরাও করে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৩১ জনকে হত্যা করে এবং বিভিন্ন বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। সেদিনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন ও লুটপাটে প্রত্যক্ষ জড়িত রাজাকাররা আজও স্ব-স্ব এলাকায় বসবাস করছে।

এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী টনিক সেনকে তারা সেদিন ধরে নির্মমভাবে বেয়নেট চার্জ ও গুলি করে হত্যা করে। টনিক সেন আওয়ামী লীগকে চাঁদা দিতেন এবং সহযোগিতা করতেন। তাকে হত্যার পর ওরা বেছে বেছে আরও ১৮ জনকে কালীমোহন সেনের বাড়ির সামনে জড়ো করে নির্যাতন শেষে মেশিনগানের গুলিতে হত্যা করে।

কানাইপুর সিকদারবাড়ি গণহত্যা

৮ মে বিহারি ও রাজাকারদের একটি সশস্ত্র দল প্রবেশ করে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর গ্রামে। ওই গ্রামের সিকদারবাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে চড়াও হয়ে তারা ১৮ জনকে গলা কেটে হত্যা করে। নারী ও শিশুরা এ গণহত্যায় রেহাই পেলেও গ্রামের পুরুষ সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে তারা। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি চালানো হয় ব্যাপক লুটপাট। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে সোনাদানা, কাঁসা-পিতল, বাসনকোসন, আসবাবপত্র যার ঘরে যা ছিল, তা বস্তা বেঁধে বিহারি ও বাঙালি রাজাকাররা নিয়ে যায়। কানাইপুর, খাসকান্দি, লক্ষ্মীপুর, হোগলাকান্দির হিন্দুদের বাড়িঘর ব্যাপক লুটপাট শেষে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

বৈদ্যডাঙ্গি ও ভাঙ্গিডাঙ্গি গণহত্যা

চরভদ্রাসনের বৈদ্যডাঙ্গি ও ফরিদপুর সদরের ভাঙ্গিডাঙ্গি পাশাপাশি গ্রাম। এ দুই গ্রামের দুই শতাধিক লোককে গুলি করে হত্যা করা হয়। গ্রাম দুটির বাসিন্দা প্রায় সবাই ছিলেন হিন্দু। ফরিদপুর পতনের পর গ্রাম দুটির বাসিন্দারা গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেন। তখন ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করা হয়, হিন্দু-মুসলমান কারও কোনো ভয় নেই। সবাই নিশ্চিন্তে বাড়িতে থাকেন; সরকার তাদের নিরাপত্তা দেবে। এপ্রিল মাসে শতাধিক পাকিস্তানি সেনা অতর্কিতে গ্রাম দুটিতে ঢুকে পড়ে। এ বহর দেখে লোকজন আবার বাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করলে হানাদার বাহিনী মানুষ শিকারের হিংস্র নেশায় মেতে ওঠে। বন্দুক উঁচিয়ে ধাওয়া করতে করতে তারা যাকে সামনে পায়, তাকেই হত্যা করে। গ্রাম থেকে পদ্মার পাড়ে যাওয়ার খালের ওপরের সাঁকো দিয়ে শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু ওপারে যাচ্ছিল। তাদের ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। খালের পাড়ে কাশবনে আশ্রয় নেওয়া বাকি গ্রামবাসীকে মেশিনগান দেগে হত্যা করা হয়। গ্রামের কেউ কেউ বুলেটের ক্ষত নিয়ে আজও বেঁচে আছেন। এই গণহত্যায় নিহতের সংখ্যা দুই শতাধিক। ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন অর্ধশত নারী-শিশু।

নগরকান্দা হত্যাকাণ্ড

চাঁদহাট যুদ্ধের পর ৩০ ও ৩১ মে এবং ১ এপ্রিল নগরকান্দায় চলে নারকীয় তাণ্ডব। মুকসুদপুর, ভাঙ্গা, নগরকান্দা, কাশিয়ানী- চতুর্দিক থেকে শত শত পাকিস্তানি সেনা গুলি করতে করতে এলাকায় প্রবেশ করে। নির্বিচার গুলিবর্ষণের পাশাপাশি কয়েকটি হেলিকপ্টার থেকে করা হয় শেলিং। নগরকান্দা ও ঈশ্বরদীয়ায় গুলি করে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করে তারা সামনের দিকে অগ্রসর হয়।

কোদালীয়ার ঘটনা সবচেয়ে ভয়াবহ ও মর্মস্পর্শী। এ গ্রামে ৫০/৬০টি বাড়ি ভস্মীভূত করা হয়। গ্রামবাসীকে মাঠের মধ্যে জড়ো করে তাদের তিন ভাগ করে বয়স্ক পুরুষদের চাঁদহাট যুদ্ধে নিহত পাকিস্তানি সেনাদের লাশ ও লুটের মাল বহনের কাজে লাগানো হয়। গ্রামের নারীদের মাদ্রাসা মাঠে নিয়ে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়। ওই দিন কোদালীয়া, ঈশ্বরদীয়া, ঝাটুরদিয়া, বাউশখালী, সোনাতুনদী, বল্লভদী গ্রামে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। তাতে নিহত হন শতাধিক নিরীহ মানুষ। দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে আবার শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ। আরও পাকিস্তানি সৈন্য এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। হিন্দু অধ্যুষিত এ গ্রামটির কমপক্ষে ২০ জন বাসিন্দাকে হত্যা করা হয়। তৃতীয় দিন এসব গ্রাম ছিল জনশূন্য। ওই দিন আরও হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি চলে নির্বিচারে ধর্ষণের বেশ কিছু ঘটনা।

কোমরপুর হত্যাকাণ্ড

ফরিদপুর শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কোমরপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আজাহার মিয়ার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন বৈঠক চলছিল। রাজাকাররা সে খবর পৌঁছে দেয় সেনাক্যাম্পে। ২১ আগস্ট ভোরে হানাদার বাহিনী বাড়িটি ঘিরে ফেলে। নসু রাজাকার বাড়িতে ঢুকে আজাহার মিয়ার দুই মেয়ে রেজি (১৬) ও টপিকে (৬) গুলি করে হত্যা করে। এর পর তারা হত্যা করে আজাহারের স্ত্রীকে। বুলেটবিদ্ধ হয়ে বেঁচে থাকেন আজাহার।

বোয়ালমারী হত্যাকাণ্ড

মে মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা ময়েনদিয়া বাজার লুট ও অগ্নিসংযোগ করে। হাসামদিয়ায় যজ্ঞেশ্বর সাহাসহ চারজনকে গুলি করে হত্যা করে। ডাক্তার ননীগোপাল সাহা ও যজ্ঞেশ্বর সাহার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গোহাইল বাড়িতে নারায়ণ চন্দ্র কুণ্ডু, হরিপদ মণ্ডলসহ ৮/১০ জনকে গুলি করে হত্যা শেষে বাড়িঘরে লুটপাট ও আগুন লাগানো হয়। ১৪ আগস্ট বোয়ালমারী থানা আক্রমণের পর ১৬ আগস্ট হানাদার বাহিনী গুণবাহা, চাপলডাঙ্গা, চতুল, ছোলনা, বাইখির, শিরগ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামে ৫০ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। এ সময় বোয়ালমারীর বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

চরবালুধুম হত্যাকাণ্ড

জুন মাসের শেষদিকে মুক্তিযোদ্ধা সালাহউদ্দিন ও সহযোদ্ধারা পদ্মাপাড়ে চরবালুধুমে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এ সময় রাজাকাররা তাদের ওপর হামলা চালায়। সে যুদ্ধে কবির শহীদ হন। ওই দিন ১১ যুবককে রাজাকাররা গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে গোয়ালন্দ ঘাটে জাহাজের ওপর থেকে গুলি করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়।

বধ্যভূমি ও গণকবর

ফরিদপুরে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের মূল ক্যাম্প ছিল ফরিদপুর স্টেডিয়াম। এখানে মুক্তিযোদ্ধা, সমর্থক ও সহযোগীদের ধরে এনে দিনের পর দিন বন্দি করে রাখা হতো। বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। সেই নির্যাতনে ফরিদপুরের চকবছারের আবদুল্লাহ, হাজীগঞ্জের সৈয়দ চেয়ারম্যানসহ অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। স্বাধীনতা-উত্তরকালে ওই ক্যাম্পের পূর্ব পাশে একটি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে বেশকিছু সংখ্যক মানুষের হাড়, কঙ্কাল, মাথার খুলি, মেয়েদের কাপড়, শাড়ির আঁচল, চুড়ি ইত্যাদি পাওয়া যায়।

ফরিদপুর শহরের পশ্চিমে ময়লাগাড়িতে বধ্যভূমি রয়েছে। প্রায় সন্ধ্যায় এখানে পাকিস্তানি সেনাদের ভ্যানে মুক্তিযোদ্ধা কিংবা বাঙালি যুবকদের পিঠমোড়া করে বেঁধে নেওয়া হতো। তারপর গুলি করে হত্যা করা হতো। অনেক লাশ নিয়ে শিয়াল-কুকুর-শকুনের টানাটানি ছিল প্রায় নিত্যদিনের দৃশ্য। বর্তমানে হাউজিং প্রকল্পের মাঝে স্থানটি বিলীন হয়ে গেছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখুন্ডা ও তালমার সন্নিকটে ডাবল ব্রিজে অনেককে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হতো। কিংবা অত্যাচারে নিহত ব্যক্তিদের লাশ সেখানে ফেলে দেওয়া হতো। শতাধিক বাঙালিকে সেখানে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো; গলা কেটেও হত্যা করা হতো। সেখানেও নেই মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিচিহ্ন। হ

অনুলিখন :হাসানউজ্জামান, নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর

লেখক

মুক্তিযোদ্ধা

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com