নাজির রেজাউলের বিরুদ্ধে এবার প্রতারণার অভিযোগ

১০ অক্টোবর ২০১৯

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের স্বাক্ষর জালকাণ্ডে অভিযুক্ত
আদালতের নাজির এ জেড এম রেজাউল করিম এবার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন
প্রতারণার দুই মামলায়। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে চেক প্রতারণার মামলা
দুটি করেছেন হাটহাজারীর বাসিন্দা এজাহার মিয়া চৌধুরী।


নাজিরের বিরুদ্ধে মামলার বাদী এজাহার মিয়া বলেন, আদালতে রেজাউল করিমের
সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে সখ্য গড়ে ওঠে তার। আর্থিক সংকটে থাকার কথা বলে তিনি
তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ধার নেন। এর মধ্যে তিন লাখ টাকা ফেরত দিলেও সাত
লাখ টাকা ফেরত দেননি। সাত লাখ টাকার দুটি চেক দিলেও তা ব্যাংকে নিয়ে যাওয়ার
পর ডিজঅনার হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে টাকা ফেরত পেতে তিনি আদালতে চেক প্রতারণা
মামলা করেছেন। নাজির রেজাউল এত বড় প্রতারণা করবেন তা কল্পনাও করতে পারেননি
তিনি।


অভিযুক্ত নাজির এ জেড এম রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে
একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর চিফ
জুডিসিয়াল আদালতে রেকর্ড কিপারের দায়িত্বে রয়েছেন। বিচারকের স্বাক্ষর
জালকাণ্ডে অভিযুক্ত হওয়ার পর তাকে চট্টগ্রাম থেকে মেহেরপুর স্ট্যান্ড রিলিজ
করা হয়।


চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নাজিরের দায়িত্ব পালন করার সময় নানা
পেশার মানুষ ও বিচারপ্রার্থীর সঙ্গে পরিচয় হয় রেজাউল করিমের। আদালতের
নির্দেশে মানুষের জায়গা-জমি বুঝিয়ে দেওয়া, হাইকোর্টের জামিনের সত্যতা
নিশ্চিত করা, সমন ইস্যু করা, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও
কর্মকর্তাদের প্রটোকল দেখাশোনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন
তিনি। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পথে
পা বাড়ান নাজির। নানা তদবিরে আসা মানুষের কাছ থেকে তিনি আগাম টাকা নিতেন
এবং বিনিময়ে চেক দিতেন।


চট্টগ্রামের হাটহাজারীর কাটিরহাটের পশ্চিম ধলই হাজী বাড়ির এজাহার মিয়া
চৌধুরীর সঙ্গেও নাজিরের সখ্য গড়ে ওঠে। একটি কাজের জন্য এজাহার মিয়ার কাছ
থেকে ১০ লাখ নগদ টাকা নেন তিনি। এর পর এজাহার মিয়াকে নাজির দুটি চেক দেন।
কিন্তু কথামতো কাজ করতে পারেননি নাজির। টাকাও ফেরত দেননি। পরপর দুটি চেক
ডিজঅনার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা করেন তিনি। ২৬ সেপ্টেম্বর
নাজিরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও করেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজের কাছে।


চেক প্রতারণা মামলার আরজিতে টাকা ধার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে এজাহার মিয়া
জানান, তাকে দেওয়া চেক দুটি জমা দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাকাউন্টে
পর্যাপ্ত টাকা নেই। চেক দুটি ডিজঅনার হওয়ায় রেজাউল করিমের কাছে টাকা চেয়ে
লিগ্যাল নোটিশ পাঠান তিনি। এর পরও তিনি টাকা ফেরত না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে
চট্টগ্রাম তৃতীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি চেক প্রতারণা মামলা
(সিআর ৫০১/১৯ ও সিআর ৫০২/১৯) করা হয়। চলতি বছরের ৭ জুলাই চেক প্রতারণা
মামলা দুটি দায়েরের পর নাজির রেজাউল করিমকে সমন দেন আদালত। তিনি আদালতে
হাজির হয়ে জামিন নেন। এখন তার বিরুদ্ধে মামলা দুটি চট্টগ্রাম আদালতে
বিচারাধীন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)