সোনারগাঁ

পেটে গজ-কাপড় রেখে কাটা স্থানে সেলাই, প্রসূতির মৃত্যু

ক্লিনিকে ভাংচুর

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সোনারগাঁয়ে ভুল চিকিৎসায় আমান্তিকা নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় একটি ক্লিনিক ভাংচুর করেছে রোগীর বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। সিজারের পর রোগীর পেটে গজ-কাপড় রেখে কাটা স্থান সেলাই করে দেওয়া এবং জরায়ু কেটে ফেলায় প্রসূতি মারা যান।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্বজনরা সোমবার দুপুরে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল নামের ক্লিনিকে ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিকের পরীক্ষাগার, মেশিন, গ্লাস, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে। ঘটনার পর ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ স্বজনদের বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. পিন্টু মিয়া সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বড় সাদিপুর গ্রামের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী প্রসূতি আমান্তিকাকে চিকিৎসার জন্য শুক্রবার বিকেলে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. নূরজাহান বেগম ওই দিন রোগীকে অপারেশন করার পরামর্শ দেন। তিনি নিজেই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার সিজার করান। এ সময় আমান্তিকার একটি কন্যা সন্তান হয়। পরে ওই রোগীর পেটে গজ-কাপড় রেখেই ডা. নূরজাহান কাটা স্থান সেলাই করে দেন। সিজারের পর রোগী অনবরত বমি করতে থাকেন এবং তার পেট ফুলে যায়।

পুনরায় রোগীকে ওই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাকে নারায়ণগঞ্জ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে ডা. নূরজাহান কেয়ার হাসপাতালে গিয়ে পুনরায় ওই রোগীর সিজার করে জরায়ু কেটে ফেলেন। এতে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে কেয়ার হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকার গেণ্ডারিয়া আজগর আলী হাসপাতালে পাঠালে সোমবার ভোরে তিনি সেখানে মারা যান।

এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার দুপুরে সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ক্লিনিকের পরীক্ষাগার, মেশিনপত্র, গ্লাস, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করেন। ঘটনার পর ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ স্বজনদের বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আমান্তিকার স্বামী মো. পিন্টু মিয়া জানান, বন্দর উপজেলার কল্যাণদী গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে আমান্তিকার সঙ্গে ২০১৮ সালের ৩ আগস্ট তার বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার জন্য তার স্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। তিন দিনের মাথায় তার কন্যা সন্তান এতিম হয়েছে। তিনি এটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে এর বিচার চেয়েছেন। দোষী চিকিৎসককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে তার শাস্তি দাবি করেন।

আমান্তিকার বাবা সোহেল মিয়া বলেন, আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার দাবি করি।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)